বিবি খাদিজা (রা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিচে আলোচনা করা হলো-
১. পরিচয়: হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রথম স্ত্রী। মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন খুইয়াইলিদ ইবন আসাদ। তিনি ছিলেন শিক্ষিতা ও সম্পদশালী।
২. ইসলাম গ্রহণ: হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে হযরত খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে 'তিনি মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিই ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম মহিলা।
৩. ইসলামের সেবা: হযরত খাদিজা (রা.) ইসলাম প্রচারে নবিজীকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করতে থাকেন। তাঁর অঢেল ধনসম্পদ তিনি মহানবি (স.) ও ইসলামের খেদমতে উৎসর্গ করেন। তিনি দুঃখ-কষ্টে মহানবিকে সান্ত্বনা দিতেন। দীন প্রচারে উৎসাহ দিতেন।
৪. শ্রেষ্ঠত্ব: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন- “বিশ্বের সকল নারীর ওপর চার জনের সম্মান রয়েছে- হযরত মারইয়াম, হযরত খাদিজা, হযরত ফাতিমা ও হযরত আছিয়া।”
৫. ইন্তিকাল: হযরত খাদিজা (রা.) নবুয়তের দশম বর্ষে রমযান মাসে ইত্তিকাল করেন। তাঁর ইন্তিকালে মহানবি (স.) গভীরভাবে মর্মাহত হন।'
পরিশেষে বলা যায়, সুন্দর চরিত্র, স্বামীভক্তি ও ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার হযরত খাদিজা (রা.)-কে বিশ্ব নারীদের ইতিহাসে মহিয়সী করে রেখেছে। আমরা তাঁর অনুপম চরিত্র ও মহান ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করব।
আদর্শ জীবন বলতে বোঝায় যে জীবন অনুসরণ করলে জীবন সুন্দর ও সুগঠিত হয়। পৃথিবীতে এমন অনেক মহৎ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যাঁদের জীবনচরিত অন্যের জন্য আদর্শ। সুতরাং বাস্তব জীবনে এসব মনীষীর সমাজসেবামূলক কাজ, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মত্যাগ, ক্ষমা, পরমতসহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমসহ অন্যান্য গুণ অনুসরণ ও অনুকরণ করলে সুন্দর সুশৃঙ্খল ও সফল জীবন লাভ করা যায়।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- আদর্শ জীবনচরিতের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মহানবি (স.)-এর পরিচয়, সততা, বিশ্বস্ততা, সমাজসেবা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও তাঁর অন্যান্য চারিত্রিক গুণাবলি বর্ণনা করতে পারব।
- পরিচয়সহ হযরত আবু বকর (রা.)-এর দানশীলতা, ত্যাগ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বর্ণনা করতে পারব।
- সাম্য, গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ, দেশপ্রেম ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর অবদান উল্লেখ করতে পারব।
- হযরত খাদিজা (রা.)-এর পরিচয়, দানশীলতা, সহমর্মিতাসহ তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- হযরত ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পরিচয়, ফিকাহশাস্ত্রে তাঁর আবদান বর্ণনা করতে পারব।
- হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (র.)-এর পরিচয়, মানবপ্রেমসহ তাঁর চরিত্রের মহৎ গুণাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allহযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দাদার নাম আব্দুল মুতালিব।
সত্যবাদী, পরোপকারী, শান্তিকামী যুবক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে আপনপর সকলে তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করল।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ 'মহামানব মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শের সাথে উদ্দীপকের সাঈদের কাজের আংশিক মিল রয়েছে। মহানবি (স.) শুধু একজন দীন প্রচারকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানবীয় গুণের অধিকারী। মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ কামনাই ছিল রাসুল (স.)-এর সাধনা। তিনি আরববাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কুরাইশ গোত্রের সমমনা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' নামের একটি মানব কল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব মহানবি (স.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুরআনের শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে এলাকায় মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। গরিব-দুঃখীদের অবস্থা চিন্তা চিন্তা করে করে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফরোজা বেগমের কার্যক্রম মহানবি (স.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে মিল রয়েছে।
হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি মহানবির সুন্দর চরিত্র, সততা দেখে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে তিনি মহানবিকে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম প্রচারে মুহাম্মদ (স.)-কে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করতেন।
'কুতুবে হানাফিয়্যা' তে তিরাশি হাজার মাসআলা নিয়ে রচিত হয়েছিল।
আইনের শাসন বলতে আইনের যথাযথ প্রয়োগকে বোঝায়। অর্থাৎ যেখানে দোষী বা অপরাধীকে আইন মোতাবেক শাস্তি দেওয়া হয় এবং এক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা হয় তাই আইনের শাসন। এক কথায় আইনের শাসনের মাধ্যমে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!