মহানবি (স.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল 'তাহিরা' বা 'পুণ্যবতী'। তাঁকে উম্মুল মুমিনীনও বলা হয়।
মহানবি (স.)-এর সুন্দর চরিত্র ও মানব সেবার সুনাম সম্পর্কে অবগত হয়ে হযরত খাদিজা (রা.) তাঁকে তাঁর ব্যবসায়ের দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানালেন। মহানবি (স.) তাঁর ব্যবসায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে সিরিয়া যান এবং সততা ও দক্ষতার সাথে ব্যবসায় করে প্রচুর লাভ করে ফিরে আসেন। মহানবি (স.)-এর সততা ও দক্ষতা দেখে হযরত খাদিজা (রা.) তাঁর সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।
বিশ্বের ইতিহাসে যে কয় জন পুণ্যবতী নারী প্রসিদ্ধ তাঁদের মধ্যে উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা (রা.) অন্যতম। মাহমুদা ও রাবেয়া হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনাদর্শ যেভাবে অনুসরণ করবে-
১. হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মাহমুদা ও রাবেয়া ইসলামের প্রচার ও প্রসারে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করবে।
২. মাহমুদা ও রাবেয়া তাদের চরিত্র সুন্দর থেকে সুন্দরতর করে গড়ে তুলবে।
৩. মাহমুদা ও রাবেয়া সকল প্রকার আখলাকে হামিদা অনুসরণ করবে এবং নিন্দনীয় চরিত্র বর্জন করবে।
৪.' গরিব-দুঃখীর দুঃখ-কষ্টে সান্ত্বনা দেবে এবং সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
৫. খাদিজা (রা.)-কে অনুসরণ করে তারা তাদেরকে পতিব্রতা নারী হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।
বিবি খাদিজা (রা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিচে আলোচনা করা হলো-
১. পরিচয়: হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রথম স্ত্রী। মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন খুইয়াইলিদ ইবন আসাদ। তিনি ছিলেন শিক্ষিতা ও সম্পদশালী।
২. ইসলাম গ্রহণ: হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে হযরত খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে 'তিনি মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিই ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম মহিলা।
৩. ইসলামের সেবা: হযরত খাদিজা (রা.) ইসলাম প্রচারে নবিজীকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করতে থাকেন। তাঁর অঢেল ধনসম্পদ তিনি মহানবি (স.) ও ইসলামের খেদমতে উৎসর্গ করেন। তিনি দুঃখ-কষ্টে মহানবিকে সান্ত্বনা দিতেন। দীন প্রচারে উৎসাহ দিতেন।
৪. শ্রেষ্ঠত্ব: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন- “বিশ্বের সকল নারীর ওপর চার জনের সম্মান রয়েছে- হযরত মারইয়াম, হযরত খাদিজা, হযরত ফাতিমা ও হযরত আছিয়া।”
৫. ইন্তিকাল: হযরত খাদিজা (রা.) নবুয়তের দশম বর্ষে রমযান মাসে ইত্তিকাল করেন। তাঁর ইন্তিকালে মহানবি (স.) গভীরভাবে মর্মাহত হন।'
পরিশেষে বলা যায়, সুন্দর চরিত্র, স্বামীভক্তি ও ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার হযরত খাদিজা (রা.)-কে বিশ্ব নারীদের ইতিহাসে মহিয়সী করে রেখেছে। আমরা তাঁর অনুপম চরিত্র ও মহান ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করব।
Related Question
View Allহযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দাদার নাম আব্দুল মুতালিব।
সত্যবাদী, পরোপকারী, শান্তিকামী যুবক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে আপনপর সকলে তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করল।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ 'মহামানব মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শের সাথে উদ্দীপকের সাঈদের কাজের আংশিক মিল রয়েছে। মহানবি (স.) শুধু একজন দীন প্রচারকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানবীয় গুণের অধিকারী। মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ কামনাই ছিল রাসুল (স.)-এর সাধনা। তিনি আরববাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কুরাইশ গোত্রের সমমনা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' নামের একটি মানব কল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব মহানবি (স.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুরআনের শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে এলাকায় মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। গরিব-দুঃখীদের অবস্থা চিন্তা চিন্তা করে করে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফরোজা বেগমের কার্যক্রম মহানবি (স.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে মিল রয়েছে।
হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি মহানবির সুন্দর চরিত্র, সততা দেখে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে তিনি মহানবিকে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম প্রচারে মুহাম্মদ (স.)-কে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করতেন।
'কুতুবে হানাফিয়্যা' তে তিরাশি হাজার মাসআলা নিয়ে রচিত হয়েছিল।
আইনের শাসন বলতে আইনের যথাযথ প্রয়োগকে বোঝায়। অর্থাৎ যেখানে দোষী বা অপরাধীকে আইন মোতাবেক শাস্তি দেওয়া হয় এবং এক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা হয় তাই আইনের শাসন। এক কথায় আইনের শাসনের মাধ্যমে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!