হিন্দুধর্ম অনুসারে বিশ্বকর্মা শিল্পী ও ভাস্কর্য এবং যন্ত্র ও যন্ত্রকৌশলের দেবতা। এ মহাবিশ্বের প্রধান স্থপতি। শিল্প নিপুণ্য, স্থাপত্যশিল্প এবং কারুকার্য সৃষ্টিতে অনন্য গুণশালী দেবতা তিনি। পুরাণ অনুসারে তিনি দেবশিল্পী। বিশ্বকর্মা দেবের চতুর্ভুজ রূপ অত্যন্ত শৌর্যশালী।
ঈশ্বর নিরাকার হলেও জগতের প্রয়োজনে বিভিন্ন রূপে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে থাকেন। ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন আকার পায় তখন তাকে দেবতা বা দেব-দেবী বলে। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী, মনসা প্রভৃতি। এ সকল দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। আমরা এসকল দেব-দেবীর পূজা করে থাকি।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বিভিন্ন দেব-দেবীকে ফুল ও নানা উপকরণ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রশংসা করা। এজন্য মন্ত্র পাঠ করে পুষ্পাঞ্জলি, আরতি এবং ধ্যান করাসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক কাজ করা হয়।

পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দপূর্ণ অনুষ্ঠান। পূজা-পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যে পর্বগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে এবং ঈশ্বর বা দেব-দেবীর প্রতি ভক্তির সৃষ্টি করে। পূজা-পার্বণের এসকল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রতিমা নির্মাণ, মন্দির সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, কাঁশি, শঙ্খ এবং ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি। দেবদেবীর পূজা করার জন্য বিশেষ পূজাবিধি অনুসরণ করতে হয় যা বিভিন্ন দেব ও দেবী অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এ অধ্যায়ে আমরা পূজাবিধির ধারণা, লক্ষ্মী পূজা, বিশ্বকর্মা পূজা এবং এসব পূজার গুরত্ব, পদ্ধতি, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র এবং পূজার শিক্ষা ও প্রভাব সম্পর্কে অবহিত হব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- পূজাবিধির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- লক্ষ্মীদেবীর পরিচয় বর্ণনা করতে পারব
- লক্ষ্মীদেবীর পূজাপদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- লক্ষ্মীপূজার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র সংস্কৃত ভাষায় বলতে পারব এবং বাংলা অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
- জীবনাচরনে লক্ষ্মীপূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- বিশ্বকর্মা দেবের পরিচয় বর্ণনা করতে পারব
- বিশ্বকর্মা দেবের পূজাপদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- বিশ্বকর্মা পূজার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র সংস্কৃত ভাষায় বলতে পারব এবং বাংলা অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
- পারিবারিক ও সমাজ জীবনে বিশ্বকর্মা পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- লক্ষ্মী ও বিশ্বকর্মা পূজার্চনায় উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allহিন্দুধর্মে পূজা করার জন্য কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এসব নিয়মনীতিগুলোই পূজাবিধি। নিচে একটি পূজাবিধি ব্যাখ্যা করা হলো-
সংকল্প গ্রহণ: পূজাবিধি অনুসারে সঠিকভাবে পূজাকার্য সম্পাদনের জন্য সংকল্প গ্রহণ করতে হয়। সংকল্প অর্থ প্রতিজ্ঞা বা দৃঢ় ইচ্ছা।
অবনীবাবু প্রতিবছর পরমভক্তিতে বিশ্বকর্মা দেবের পূজা করেন।
বিশ্বকর্মার পূজা পদ্ধতি: ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে বিশ্বকর্মার পূজা হয়ে থাকে। পূজার সময় পারিবারিক সদস্যগণ যেসব পেশায় নিয়োজিত তাঁদের ব্যবহৃত উপকরণসমূহ বিশ্বকর্মা প্রতিমার সামনে রাখা হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়।
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র :
এষ সচন্দন দুর্বাপুষ্পবিল্পপত্রাঞ্জলিঃ
ওঁ শিল্পবতে শ্রীবিশ্বকর্মণে নমঃ।
এরপর প্রণাম করে পূজা শেষ করতে হয়।
উদ্দীপকের অবনীবাবু বিশ্বকর্মা দেবতার পূজা করেন।
অবনীবাবুর জীবনে বিশ্বকর্মা দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
১. বিশ্বকর্মার কৃপায় শিল্প ও বিজ্ঞানে পারদর্শিতা লাভ করা যায়। তাঁর আশীর্বাদে অবনী বাবু কারুশিল্পকর্মে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
২. পারিবারিক ও মন্দিরভিত্তিক এ পূজা করার মাধ্যমে বিশ্বকর্মা দেবের প্রতি ভক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. বিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে অবনীবাবু শিল্পের বিকাশ ঘটানোর প্রেরণা পাবেন।
৪. এ পূজার মাধ্যমে অবনীবাবু নিজের কাজে মনোযোগী হতে পারবেন এবং তার মধ্যে নৈশল্পিক মনোভাব গড়ে উঠবে।
৫. তাছাড়া রিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে অবনীবাবুর লোকশিল্পেও বিকাশ ঘটবে
সুন্দর সুন্দর তৈজসপত্রের জিনিস দেখে সুভাস তার মাকে প্রশ্ন করায় মা সুভাসকে বলেছেন সৃজনশীল সৃষ্টির জ্ঞান ও মেধা এগুলো বিশ্বকর্মারই কৃপা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!