পূজা করার একটি বিধি হলো আসন শুদ্ধি ও আচমন। এ বিধি অনুসারে পূজা করার পূর্বে আসন শুদ্ধি করে নিতে হয়। শুদ্ধি করা বলতে দোষমুক্ত করাকে বোঝায়। আচমন বলতে হাত, পা, চোখ পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে বিশুদ্ধ জল তিনবার পান করতে হয। এ সময় নির্দিষ্ট মন্ত্র পাঠ করে ভগবান বিষ্ণুকে স্বরণ করতে হয়।
শ্রীশ্রীলক্ষ্মী সম্পদ সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী। তিনি সুন্দরী ও মাধুর্যময়ী দেবী। তিনি পূজারীদের ধনসম্পদ দান করে থাকেন। লক্ষ্মীর ধ্যান করে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পূজা করে ধনসম্পদ দান করার প্রার্থনা করা হয়। কারণ তিনি সৌন্দর্যের দেবী, সম্পদের দেবী।
শ্রীশ্রীলক্ষ্মী দেবী ধন সম্পদ দান করেন। লক্ষ্মীপূজা হিন্দু সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একাত্মতাবোধের সৃষ্টি করে। আবার পূজার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীদেবীর উপর বিশ্বাস স্থাপিত হয়। সুতরাং শ্রীশ্রীলক্ষ্মী পূজায় আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব পড়ে।
কারুশিল্প ও শিল্প শ্রমিকেরা ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে বিশ্বকর্মা দেবের পূজা করে থাকেন। বিশ্বকর্মা পূজার সময় পারিবারিক সদস্যগণ যেসব পেশায় নিয়োজিত তাদের ব্যবহৃত উপকরণ প্রতিমার কাছে রাখা হয়। চন্দন, দুর্বা, পুষ্প ও বিল্বপত্র দিয়ে শিল্প দেবতা বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। বিশ্বকর্মা পূজা পঞ্চোপচারে, দশোপচারে বা ষোড়শোপচারে করা যেতে পারে।
ঈশ্বর নিরাকার হলেও জগতের প্রয়োজনে বিভিন্নরূপে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে থাকেন। ঈশ্বরের কোন গুণ বা শক্তি যখন আকার পায় তখন তাকে দেবতা বা দেব-দেবী বলে। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী, মনসা প্রভৃতি। এসব দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বিভিন্ন দেব-দেবীকে ফুল-ফল ও নানা উপকরণ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রশংসা করা। এজন্য মন্ত্র পাঠ করে পুষ্পাঞ্জলি, আরতি এবং ধ্যান করাসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক কাজ করা হয়।
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। পূজা-পার্বণ বলতে আমরা বুঝি যে পর্বগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে এবং ঈশ্বর বা দেব-দেবীর প্রতি ভক্তির সৃষ্টি করে। পূজা-পার্বণের মধ্যে রয়েছে প্রতিমা নির্মাণ, মন্দির সাজানো, ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, কাঁশি, শঙ্খ বাজানো এবং ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়।
হিন্দুধর্মে পূজা করার জন্য কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এইসব নিয়মনীতিগুলোকে পূজাবিধি বলে। প্রতিমা, ঘট, পট (ছবি), মণ্ডল, শালগ্রাম, পুস্তক, শিবলিঙ্গ ও জল- এ আটটি বস্তুর যেকোনো একটি বস্তুতে পূজা করা যায়। এ আটটি বস্তুকে বলে পূজার আধার।
পূজা করার পূর্বে পূজার উপকরণসমূহ শুদ্ধি করে নিতে হয়। শুদ্ধি করা বলতে দোষমুক্ত করাকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে আসনশুদ্ধি, জলশুদ্ধি, করশুদ্ধি, পুষ্পশুদ্ধি করে পূজার ঘট স্থাপন করতে হয়। অতঃপর আচমন করতে হয়। আচমন বলতে হাত, পা, চোখ পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে বিশুদ্ধ জল তিনবার পান করতে হয়। এ সময় নির্দিষ্ট মন্ত্র পাঠ করতে হয়। আচমনের সাথে ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ করতে হয়।
পূজার প্রথম বিধি অনুসারে নির্দিষ্ট দেব-দেবীর প্রতিমা বা পট নির্দিষ্ট করে পূজা ও প্রার্থনা গ্রহণের জন্য হৃদয় দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশ্বাস করা হয় অভীষ্ট দেব-দেবী নির্দিষ্ট প্রতিমার মধ্যে অবস্থান করছেন। এরপর প্রতিমায় চক্ষুদান করে নিতে হয়। অতঃপর অভীষ্ট দেব-দেবীর উদ্দেশে বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণপূর্বক প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সাকাররূপে দেব-দেবীর পূজা বিভিন্ন উপচার অনুসারে বিভিন্নভাবে করা যেতে পারে। যথা- পঞ্চোপচার পূজা, দশোপচার পূজা ও ষোড়শোপচার পূজা। পঞ্চোপচার পূজা পাঁচটি উপকরণের মাধ্যমে করা হয়। দশোপচার পূজা দশটি উপকরণের মাধ্যমে করা হয় এবং ষোড়শোপচার পূজা ষোলটি উপকরণ দিয়ে করা হয়।
দেবী লক্ষ্মী সম্পদ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী। তিনি সুন্দরী ও মাধুর্যময় দেবী। তিনি পূজারিদের ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তাঁর বাহন পেঁচা। দেরী লক্ষ্মী শ্রী হিসেবে অভিহিত। কেননা তিনি সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রতীক।
শুদ্ধ আসনে বসে আচমন থেকে শুরু করে পঞ্চদেবতার পূজা করতে হয়। অতঃপর লক্ষ্মীর ধ্যান করে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে লক্ষ্মী দেবীর পূজা করা হয়। পূজার মৌলিক নীতি হিসেবে দেবী শ্রী লক্ষ্মীর ধ্যান; পূজামন্ত্র পাঠ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রণাম মন্ত্র পাঠ করতে হয়। সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করা হয় ও আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে বিশেষভাবে লক্ষ্মীপূজা করা হয়।
লক্ষ্মীদেবীর প্রণামমন্ত্র-
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমোহস্তুতে।
দেবী লক্ষ্মী পূজার মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একাত্মতাবোধের সৃষ্টি করে। লক্ষ্মী দেবী ধনসম্পদ দান করেন। পূজার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মী দেবীর উপর বিশ্বাস স্থাপিত হয়। লক্ষ্মী দেবী শান্ত স্বভাব পূজারিকেও শান্ত করে তোলে।
হিন্দুধর্ম অনুসারে বিশ্বকর্মা শিল্পী ও ভাস্কর্য এবং যন্ত্র ও যন্ত্রকৌশলের দেবতা। এ মহাবিশ্বের প্রধান স্থপতি। শিল্প নিপুণ্য, স্থাপত্যশিল্প এবং কারুকার্য সৃষ্টিতে অনন্য গুণশালী দেবতা তিনি। পুরাণ অনুসারে তিনি দেবশিল্পী। বিশ্বকর্মা দেবের চতুর্ভুজ রূপ অত্যন্ত শৌর্যশালী।
বিশ্বকর্মা মানুষকে শৈল্পিক জ্ঞান ও মেধা দান করেন। বিশ্বকর্মা পূজার মূল উদ্দেশ্য তাঁর কৃপা এবং কর্মে শিল্প নৈপুণ্য লাভকরা। কারুশিল্প ও শিল্প শ্রমিকেরা ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। পূজার সময় পারিবারিক সদস্যগণ যেসব পেশায় নিয়োজিত সেসব পেশায় ব্যবহৃত উপকরণ বিশ্বকর্মা প্রতিমার কাছে রাখা হয়। এভাবে পূজার রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা করা হয়।
বিশ্বকর্মা দেবের কৃপায় শিল্প ও বিজ্ঞানে পারদর্শিতা লাভকরা যায়। তাঁর আশীর্বাদে কারুশিল্প কর্মে দক্ষতা অর্জন করা যায়। পূজারিগণ স্ব-স্ব কাজে মনোযোগী হয় এবং কার্যসম্পাদনে শৈল্পিক মনোভাব গড়ে ওঠে। দেবতার কৃপায় পূজারিগণ শিল্পকলা ও যান্ত্রিক বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করতে পারে। বিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে লোকশিল্পের বিকাশ ঘটে।
ঈশ্বরের প্রতীক বিভিন্ন দেব-দেবীকে নানা উপকরণ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রশংসা করাই হচ্ছে পূজা। আর এ পূজা করার জন্য যেসব বস্তু ব্যবহৃত তাকে পূজার আধার বলে। প্রতিমা, ঘট, পট (ছবি), মন্ডল, শালগ্রাম, পুস্তক, শিবলিঙ্গ ও জল- এ আটটি বস্তুর যে কোনো একটি বস্তুতে পূজা করা যায়। এ আটটি বস্তুকে পূজার আধার বলে.।
ঈশ্বর নিরাকার হলেও এ মহাবিশ্বের প্রয়োজনে বিভিন্ন রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে থাকেন। ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন আকার পায় তখন তাঁকে দেব-দেবী বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, লক্ষ্মী, দুর্গা, মনসা, কালী প্রভৃতি। সকল দেব-দেবীই ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা ক্ষমতার অধিকারী। তাই আমরা সকল দেব-দেবীর পূজা করে থাকি।
হিন্দুধর্মে পূজা করার জন্য কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এ সকল নিয়মনীতিকে পূজাবিধি বলে। প্রতিমা, ঘট, পট, মণ্ডল, শালগ্রাম পুস্তক, শিবলিঙ্গ ও জল-এ আটটি বস্তুর যেকোনো একটি বস্তুতে পূজা করা যায়। সুনির্দিষ্ট এ আটটি বস্তুকে পূজার আধার বলে। তাই পূজার আধার হিসেবে পূজায় এ আটটি বস্তুর কোনো না কোনোটির ব্যবহার দেখা যায়।
পূজার কতিপয় মৌলিক দিক রয়েছে। এ দিকসমূহ নিম্নরূপ। যেমন-
ক. দেবীর আবাহন, খ. ধ্যান, গ. প্রাণ প্রতিষ্ঠা, ঘ. পূজামন্ত্র পাঠ, ঙ. পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চ. প্রার্থনামন্ত্র পাঠ, ছ. প্রণামমন্ত্র পাঠ এবং জ. বিসর্জন ইত্যাদি।
প্রদীপ শক্তির প্রতীক। হিন্দুধর্মানুসারে দেব-দেবীরাও অসীম শক্তির প্রতীক। আবার প্রদীপ বা দীপ আত্মার প্রতীক। কেননা, আলো অন্ধকার দূর করে মানুষের মনে সত্যের উন্মোচন করে থাকে। অর্থাৎ আলো জ্ঞানের প্রতীক। আর তাই পূজার উপাচার হিসেবে প্রদীপ ব্যবহার করা হয়।
শ্রীশ্রী লক্ষ্মীদেবী সম্পদ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী। তিনি সুন্দরী ও মাধুর্যময়ী। তিনি পূজারিদের ধনসম্পদ দান করে থাকেন। তাছাড়া তিনি ভগবান বিষ্ণুর সহধর্মিণী।
দেবী লক্ষ্মীর ধ্যান করে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে লক্ষ্মী দেবীর পূজা করা হয়। লক্ষ্মী পূজা পঞ্চোপচার, দশোপচার কিংবা ষোড়শোপচারে করা হয়ে থাকে। পূজার মৌলিক নীতি হিসেবে দেবী শ্রীলক্ষ্মীর ধ্যান, পূজামন্ত্র পাঠ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও মন্ত্র পাঠ করতে হয়। তাছাড়া পূজা শেষে দেবীকে বিসর্জন দিতে হয়।
ঈশ্বর নিরাকার হলেও জগতের প্রয়োজনে বিভিন্ন রূপে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে থাকেন। ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন আকার পায় তখন তাকে দেবতা বা দেব-দেবী বলে। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী, মনসা প্রভৃতি। এ সকল দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। আমরা এসকল দেব-দেবীর পূজা করে থাকি।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বিভিন্ন দেব-দেবীকে ফুল ও নানা উপকরণ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রশংসা করা। এজন্য মন্ত্র পাঠ করে পুষ্পাঞ্জলি, আরতি এবং ধ্যান করাসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক কাজ করা হয়।

পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দপূর্ণ অনুষ্ঠান। পূজা-পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যে পর্বগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে এবং ঈশ্বর বা দেব-দেবীর প্রতি ভক্তির সৃষ্টি করে। পূজা-পার্বণের এসকল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রতিমা নির্মাণ, মন্দির সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, কাঁশি, শঙ্খ এবং ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি। দেবদেবীর পূজা করার জন্য বিশেষ পূজাবিধি অনুসরণ করতে হয় যা বিভিন্ন দেব ও দেবী অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এ অধ্যায়ে আমরা পূজাবিধির ধারণা, লক্ষ্মী পূজা, বিশ্বকর্মা পূজা এবং এসব পূজার গুরত্ব, পদ্ধতি, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র এবং পূজার শিক্ষা ও প্রভাব সম্পর্কে অবহিত হব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- পূজাবিধির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- লক্ষ্মীদেবীর পরিচয় বর্ণনা করতে পারব
- লক্ষ্মীদেবীর পূজাপদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- লক্ষ্মীপূজার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র সংস্কৃত ভাষায় বলতে পারব এবং বাংলা অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
- জীবনাচরনে লক্ষ্মীপূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- বিশ্বকর্মা দেবের পরিচয় বর্ণনা করতে পারব
- বিশ্বকর্মা দেবের পূজাপদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- বিশ্বকর্মা পূজার পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামমন্ত্র সংস্কৃত ভাষায় বলতে পারব এবং বাংলা অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব
- পারিবারিক ও সমাজ জীবনে বিশ্বকর্মা পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- লক্ষ্মী ও বিশ্বকর্মা পূজার্চনায় উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allপূজা' শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা।
হিন্দুধর্মে পূজা করার জন্য কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এসব নিয়মনীতিগুলোই পূজাবিধি। নিচে একটি পূজাবিধি ব্যাখ্যা করা হলো-
সংকল্প গ্রহণ: পূজাবিধি অনুসারে সঠিকভাবে পূজাকার্য সম্পাদনের জন্য সংকল্প গ্রহণ করতে হয়। সংকল্প অর্থ প্রতিজ্ঞা বা দৃঢ় ইচ্ছা।
অবনীবাবু প্রতিবছর পরমভক্তিতে বিশ্বকর্মা দেবের পূজা করেন।
বিশ্বকর্মার পূজা পদ্ধতি: ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে বিশ্বকর্মার পূজা হয়ে থাকে। পূজার সময় পারিবারিক সদস্যগণ যেসব পেশায় নিয়োজিত তাঁদের ব্যবহৃত উপকরণসমূহ বিশ্বকর্মা প্রতিমার সামনে রাখা হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়।
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র :
এষ সচন্দন দুর্বাপুষ্পবিল্পপত্রাঞ্জলিঃ
ওঁ শিল্পবতে শ্রীবিশ্বকর্মণে নমঃ।
এরপর প্রণাম করে পূজা শেষ করতে হয়।
উদ্দীপকের অবনীবাবু বিশ্বকর্মা দেবতার পূজা করেন।
অবনীবাবুর জীবনে বিশ্বকর্মা দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
১. বিশ্বকর্মার কৃপায় শিল্প ও বিজ্ঞানে পারদর্শিতা লাভ করা যায়। তাঁর আশীর্বাদে অবনী বাবু কারুশিল্পকর্মে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
২. পারিবারিক ও মন্দিরভিত্তিক এ পূজা করার মাধ্যমে বিশ্বকর্মা দেবের প্রতি ভক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. বিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে অবনীবাবু শিল্পের বিকাশ ঘটানোর প্রেরণা পাবেন।
৪. এ পূজার মাধ্যমে অবনীবাবু নিজের কাজে মনোযোগী হতে পারবেন এবং তার মধ্যে নৈশল্পিক মনোভাব গড়ে উঠবে।
৫. তাছাড়া রিশ্বকর্মা পূজার মধ্য দিয়ে অবনীবাবুর লোকশিল্পেও বিকাশ ঘটবে
বিশ্বকর্মা শব্দের অর্থ বিশ্বের নির্মাণকারী।
সুন্দর সুন্দর তৈজসপত্রের জিনিস দেখে সুভাস তার মাকে প্রশ্ন করায় মা সুভাসকে বলেছেন সৃজনশীল সৃষ্টির জ্ঞান ও মেধা এগুলো বিশ্বকর্মারই কৃপা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!