২০৪১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছি।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের মাধ্যমে আমরা সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারব।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন করতে পারলে আমাদের দেশের দারিদ্র্য শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির দ্বার উন্মোচিত হবে। অবাধ তথ্য প্রবাহ ও তথ্য অধিকার সংরক্ষিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিশ্বে বাস করার সকল সুযোগ-সুবিধা আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। ফলে আমরা সুখী ও সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হতে পারব।
উদ্দীপকের প্রতিবেদনে টেকসই অভীষ্ট অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের - অন্যতম চ্যালেঞ্জ সম্পদ বৈষম্যের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের পথে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো সম্পদ বৈষম্য। আমাদের দেশে ক্রমাগত সম্পদ বৈষম্য বেড়েই চলেছে। সমাজে একশ্রেণির মানুষ ভূমি, নদী, বন এমনকি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান দখল করে অপরিমিত সম্পদের মালিক হয়েছে। তাদের আয় দিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় তেমন বাড়েনি। ফলে মানুষের মাঝে সম্পদের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। উদ্দীপকের প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। সানেম এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এর মতে, এতে নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতে সম্পদের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে যা সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি করছে। এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে অতি ধনীদের আয় ক্রমশ বাড়লেও অতি দরিদ্রদের আয় আরও কমছে। এই প্রতিবেদনটি উপরে বর্ণিত সম্পদ বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিবেদনে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম বাধা সম্পদ বৈষম্য ফুটে উঠেছেd ivate
আমি মনে করি উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ সম্পদ বৈষম্যই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিবন্ধক নয়।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সম্পদ বৈষম্য। উদ্দীপকের প্রতিবেদনে এদেশে অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং ধনী দরিদ্রের আয় বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে যা এদেশের সম্পদ বৈষম্যকে নির্দেশ করছে।
সম্পদ বৈষম্য ছাড়াও এদেশের টেকসই উন্নয়ন অতীষ্ট অর্জনের পথে অনেক বাধা রয়েছে। যেমন-দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অংশীদারিত্ব না থাকায় টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে সামষ্টিক পর্যায়-সর্বত্র জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাবও টেকসই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পাশাপাশি আয়, ভোগ, জেন্ডার ও অঞ্চল বৈষম্য, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট সমস্যা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, গ্যাস-তেল-বিদ্যুৎ ঘাটতি, কৃষিপণ্য সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের অব্যবস্থা প্রভৃতি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের পথকে বাধাগ্রস্ত
করছে। আবার, বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের অব্যাহত যাত্রা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নানা প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে। এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। ফলে দেশের অন্য খাতগুলোর উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। আবার জেন্ডার বৈষম্যের ফলে নারী ও পুরুষ সমানভাবে দেশের উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারছে না। যার কারণে দেশ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্পদ বৈষম্য ছাড়াও এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের আরো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
Related Question
View Allজলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হলো জলবায়ু কার্যক্রম।
জলবায়ু কার্যক্রম হলো 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' এর ১৩তম লক্ষ্যমাত্রা।
সবার অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না বলে টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
অংশীদারিত্ব হলো কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে যার যা দায়িত্ব ও কর্তব্য তা পালন করা। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে বা পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না।
এজন্য টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!