বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। 'দান একটি মহৎ কাজ। কথায় আছে, দানে দুর্গতি খণ্ডিত হয়। তবে সে দান হবে নিঃস্বার্থ। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রেখে দান করলে তা দান হয় না। অন্যদিকে দান করার সময় তার ফল আশা করলে তাও দান হয় না। ফলে বা পরিণামের প্রত্যাশা করে যে দান তা দান নয়। দান করার সময় গরিমা বা অহংকার থাকতে নেই। আমার অনেক আছে, তাই আমি দান করব, গরিবদের বিলিয়ে দেব। নামের জন্য দান- এ ধরনের দানও প্রকৃত দান হয় না। দানের দ্বারা মানুষের চিত্ত বিশুদ্ধ হয় এবং মোহমুক্তি ঘটে। দান চিত্তে প্রসন্নতার সূচনা করে। ফলে মানুষের মনে সৎ কাজ করার উৎসাহ জাগে। প্রেরণা যোগায়, আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে। এমনকি অদৃশ্য সব প্রাণীর প্রতি মৈত্রী পোষণেও উজ্জীবিত করে। প্রত্যেক, সামর্থ্যবান মানুষেরই দান করা উচিত। কেননা দান একটি মহৎ কাজ। এজন্য বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allযিনি দান করেন তাঁকে দাতা বলা হয়। অর্থাৎ দাতা বলতে যিনি শর্তহীন ও নিঃস্বার্থভাবে দান করেন তাকেই বোঝায়।
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধ, টাকা ইত্যাদি নিজ প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে শুরু করে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কিডনি, রক্ত এমনকি চোখও দান করা হয়।
যে দাতা নিজে যা খান তার চেয়ে খারাপ খাবার দান করেন, তাকে দানদাস বলা হয়।
যা দেওয়া হয় তা-ই দান। তবে তা নিঃস্বার্থ হতে হয়। অর্থাৎ শর্তহীনভাবে কাউকে কোনো কিছু দেওয়াকে বলা হয় দান। মানুষ যেসব ভালো কাজ করে তার মধ্যে দান অন্যতম। যেমন- ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য কিংবা শীতার্ত ব্যক্তিকে বস্ত্র দান করা, যেগুলো নিঃস্বার্থভাবে দান করা হয়ে থাকে।
দান করার সময় মৈত্রীপূর্ণ কুশল চেতনা নিয়ে দান করতে হয়। বুদ্ধ বলেছেন, চেতনা থেকে উৎপন্ন সৎ কাজই উত্তম কর্ম। লোভ, হিংসা, ঈর্ষা, মোহ ও সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে দান করার ইচ্ছাই হচ্ছে চিত্ত সম্পত্তি। আর এরূপ দানই হচ্ছে উত্তম দান।
শীলবান গ্রহীতাকে প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি বলা হয়। শীলবান দান গ্রহীতা হচ্ছেন দান গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র। অর্থাৎ দান করার সময় দানের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচিত করা উচিত। নৈতিক চারিত্রিক গুণসম্পন্ন শীলবান ব্যক্তিকে দান করলে তা উত্তম দান হিসেবে বিবেচিত হয়। আর শীল পালন দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
