'মায়ের আঁচল ধরিয়া বসিয়া থাকিবার অভ্যাস কেন?'- উক্তিটি বহিপীরের।
'খোদেজা 'বাঙালি মুসলমান নারী চরিত্রের সার্থক উদাহরণ।'- উক্তিটি দ্বারা খোদেজা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।
'বহিপীর' নাটকে খোদেজা জমিদার হাতেম আলির স্ত্রী, হাশেমের মা। তিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মভীরু মুসলিম নারী। বিপন্ন তাহেরাকে তিনি স্নেহের সঙ্গে তার বজরায় আশ্রয় দিয়েছেন। তার দুঃখের কথা শুনে সমব্যথী হয়েছেন। আবার যখন জেনেছেন মেয়েটি এক পীরের পালিয়ে আসা স্ত্রী তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন। পীরের অভিশাপের ভয়ে ভীত 'থেকেছেন। পীরের স্ত্রী হওয়াকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় মনে করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পীরভক্ত বাঙালি মুসলিম নারীর স্বামীভক্তির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
ধর্মব্যবসায়ীদের স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড বর্ণনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বহিপীর' নাটকের সাদৃশ্য রয়েছে।
আমাদের সমাজের মানুষ স্বভাবতই সহজ-সরল ও ধর্মভীরু। তাদের সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষীরা ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসায় করে। সাধারণ মানুষকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ঠকায়। সাধারণ মানুষকে তারা অশিক্ষা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে সহজেই ধোঁকা দিতে পারে।
উদ্দীপকে এমন একজন স্বার্থান্বেষী ধর্মব্যবসায়ীর কথা বলা হয়েছে যিনি পীর-মুরিদির ব্যবসায়কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। জিলহুল আলী নামের স্বঘোষিত এই পীর ব্লগসাইট, ফেসবুক ও অন্যান্য ব্লগে নিজের কর্মকান্ড ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছেন। 'বহিপীর' নাটকেও ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিলের চিত্র দেখা যায়। বহিপীর বয়সে প্রবীণ হলেও ধর্মের প্রভাব খাটিয়ে মুরিদদের অনুগত করে রাখেন। মেয়ের বয়সী কন্যা তাহেরাকে বিয়ে করেন এবং তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। 'বহিপীর' নাটকের এই বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি', 'বহিপীর' নাটকের সামগ্রিকতাকে ধারণ করে না"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজের এমন অনেক মানুষ আছে যারা সবসময় নিজ স্বার্থের কথা চিন্তা করে। স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা সাধারণ মানুষকে ঠকায়। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। তাই আমাদের সমাজ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
উদ্দীপকে জিলহুল আলী নিজেকে পীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মনুষকে প্রভাবিত করে চলেছেন। ডিজিটাল উপায়ে তার মতবাদ প্রচার করতে নিজস্ব একটি ব্লগসাইট উদ্বোধন করে সেখানে প্রচারণা চালিয়ে পীর-মুরিদির ব্যবসায়কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। 'বহিপীর' নাটকেও ধর্মকে ব্যবহার করে মুরিদের কাছ থেকে স্বার্থ হাসিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়টি আলোচ্য নাটকের সামগ্রিক বিষয় নয়।
'বহিপীর' নাটকটি বাঙালি মুসলমান সমাজে প্রচলিত পীরপ্রথার একটি বিশ্বস্ত দলিলস্বরূপ। ধর্মকে ব্যবহার করে পীরদের স্বার্থোদ্ধারের দিকটি এখানে প্রকাশ পেয়েছে। অন্ধবিশ্বাসকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে এখানে মানবিকতার জয় হয়েছে। শেষপর্যন্ত নাটকটি মানবিক জাগরণের দৃশ্যকাব্য হয়ে উঠেছে। এসব ভাব ও বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবহিপীর নাটকের কেন্দ্রীয় ও নাম চরিত্র। তার বাড়ি উত্তরের সুনামগঞ্জ। সাধারণের ভাষা তার কাছে অপবিত্র মনে হওয়ায় তিনি বহি বা বইয়ের ভাষায় কথা বলেন। এ কারণেই তার নাম বহিপীর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!