সোনার ধান' সৃষ্টিসম্ভারের প্রতীক
মহাকালের স্রোতে ব্যস্তির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেলেও টিকে থাকে তার সৃষ্টিকর্ম- আলোচ্য কবিতায় চিরন্তন এই সত্যই কবির জীবনদর্শনরূপে প্রকাশ পেয়েছে।
ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ কর্মব্যস্ত সময় পার করে। সময়ের স্রোতে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এবং একসময় তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায় সময়ের অতল গহ্বরে। কিন্তু কর্ম টিকে থাকে, সময়ের স্রোতে তা ভেসে ভেসে পৌঁছে যায় শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে। 'সোনার তরী' কবিতায় কবির জীবনদর্শনে মানুষ এবং তার কর্মের স্থায়িত্বের বিপরীতমুখী দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'সোনার তরী' কবিতায় উল্লিখিত ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর বিপরীতে কর্মের অমরতার প্রসঙ্গটি উদ্দীপকের মাদার তেরেসার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় কবি এক গভীর জীবনদর্শনকে উন্মোচন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, মহাকাল কেবল মানুষের সৃষ্টিশীল মহৎ কর্মকেই গ্রহণ করে; ব্যক্তিমানুষকে নয়। আর তাই কালপরিক্রমায় সৃষ্টিকর্ম টিকে গেলেও মানুষকে অনিবার্যভাবে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। আলোচ্য কবিতায় কৃষক চরিত্রটির আধারে কবি এ সত্যটিকেই উন্মোচন করেছেন।
উদ্দীপকের মাদার তেরেসা অকৃত্রিম মানবসেবী ছিলেন। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতায় 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি' নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীকালে সমগ্র পৃথিবীর দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য কাজ করে সুনাম অর্জন করে। এমন সেবাধর্মী কর্মযজ্ঞের জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। এর চেয়েও বড়ো যে পুরস্কার তিনি লাভ করেন তা হলো মানুষের ভালোবাসা ও অমরত্ব। মানুষ আজও তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। আলোচ্য 'সোনার তরী' কবিতায়ও মানুষের সুকৃতিময় কর্মের অমরতার কথা বলা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু অনিবার্য হলেও তার সৃষ্টিকর্মের মৃত্যু নেই। উদ্দীপকের মাদার তেরেসার জীবন ও কর্ম এ বিষয়েরই ইঙ্গিতবাহী। সে বিবেচনায় আলোচ্য কবিতার ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর বিপরীতে কর্মের অমরতার দিকটি উদ্দীপকের মাদার তেরেসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মাদার তেরেসার জীবন পরিণতি তথা মৃত্যু এবং তাঁর সুকৃতিময় কর্মের টিকে থাকার দিকটি 'সোনার তরী' কবিতার ভাবসত্যকেই প্রমাণ করে। 'সোনার তরী' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের অনিবার্য পরিণতির দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছেন। পাশাপাশি কবিতাটিতে তিনি মহৎ কর্মের গুরুত্বের দিকটিও তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন, মানুষ তার বয়সের মধ্যে বাঁচে না, বাঁচে অনন্য কর্মে। মানুষ শত বছর বেঁচে থাকলেও কেউ তাকে মনে রাখে না। পক্ষান্তরে, সুকৃতিময় কর্মের মাধ্যমে সে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের মাদার তেরেসা বেঁচে আছেন তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে। সমগ্র জীবন তিনি মানবসেবায় ব্যয় করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি' আর্ত-মানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সমগ্র পৃথিবীর দরিদ্র, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় কাজ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। মানুষকে ভালোবেসে তিনি যেমন মানবসেবাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন, তেমনি মানুষও তাঁকে রেখেছে হৃদয়ের মণিকোঠায়। আলোচ্য কবিতাতেও একইভাবে মহৎ কর্মের অমরতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'সোনার তরী' একটি রূপকধর্মী কবিতা। এ কবিতায় কবি ধান কেটে অপেক্ষমাণ এক কৃষকের বাস্তবতার অন্তরালে কবিতার ভাবসত্যকে উন্মোচন করেছেন। কবি মনে করেন, মৃত্যু মানুষের অনিবার্য পরিণতি। একে কেউ রোধ করতে পারে না। তবে ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু হলেও মৃত্যু তার কর্মকে স্পর্শ করতে পারে না। বস্তুত, যেকোনো মানুষ কীর্তিমান কিংবা বরণীয় হয়ে ওঠে তার কর্মের উৎকর্ষে। উদ্দীপকের মাদার তেরেসা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। দৈহিক মৃত্যু হলেও তিনি তাঁর সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে স্থান পেয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও মানুষ অনুসরণ করে। অর্থাৎ মাদার তেরেসার জীবন পরিণতি তথা মৃত্যু এবং সুকৃতিময় কর্মের মাধ্যমে মানুষের মনে বেঁচে থাকার এই দিকটি আলোচ্য কবিতার মূলভাবের সমান্তরাল। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!