আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
পুরনো কথা বলতে বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যও ইতিহাসের কথা বোঝানো হয়েছে।
'কত কাল ধরে' রচনায় বলা হয়েছে, বাঙালির ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। এ ইতিহাস কালের বিবর্তনে ঢাকা পড়েছে। এক সময় এ অঞ্চলে রাজা-মন্ত্রী-সামন্ত শ্রেণি ছিল না। সাধারণ মানুষেরা বিচার ও যৌক্তিকতার মাধ্যমে সবকিছু পরিচালনা করত। সময় নদীর স্রোতের মতো প্রবহমান। ফলে অতীত ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস আলো-আঁধারের খেলায় অনেক পুরনো কথা ঢাকা পড়ে থাকে।
মিমোর বাবার রাজশাহী থেকে ট্যাক্সিযোগে দাদা বাড়ি যাওয়া 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের বাঙালির জীবনপ্রবাহের পরিবর্তনশীলতার দিকটি নির্দেশ করে।
সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সময়ের বিবর্তনে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে পরিবর্তন আসে। কিন্তু এমন কিছু ঐতিহাসিক উপকরণ থাকে, যা একটি ঐতিহ্য ও জীবন-বাস্তবতা তুলে ধরতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপক থেকে জানা যায়, চাচার বিয়েতে মিমোর বাবা রাজশাহী থেকে ট্যাক্সি রিজার্ভ করে মিমোর দাদা বাড়িতে আসেন। মিমোর চাচা পালকি করে বউ নিয়ে বাড়ি এলেন। এখন আর আগের মতো পালকির ব্যবহার দেখা যায় না। 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধটিতে বাঙালির জীবনপ্রবাহের চিত্রটি উপস্থাপিত হয়েছে। একসময় এ অঞ্চলে রাজা, মন্ত্রী ও অমাত্য শ্রেণির চিত্র ছিল না। সাধারণ লোকই বিচার কাজ পরিচালনা করত ও সমস্যার সমাধান করত। কিন্তু বর্তমানে বাঙালির জীবনপ্রবাহে নানামুখী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বাঙালির অতীত ঐতিহ্যবাহী চিত্রও অনেকাংশেই কমে গেছে। অতএব, উদ্দীপকে 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের বাঙালির জীবনপ্রবাহের পরিবর্তনশীলতার দিকটি নির্দেশ করেছে।
“এ কালে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে।"- 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের আলোকে মিমোর চাচার এ উক্তিটির যৌক্তিকতা বিদ্যমান।
সময়ের ধারাবাহিকতায় সবকিছু পাল্টে যায় এটিই স্বাভাবিক, এটিই বাস্তবতা। সভ্যতার আশীর্বাদপুষ্ট মানুষ সহজলভ্য জীবনের সন্ধান পেয়েছে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সংস্কৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে।
উদ্দীপকে সভ্যতার ক্রমবর্ধমান গতিশীলতার কথা বর্ণিত হয়েছে। এ গতিশীল মানুষের জীবনে সুখৈশ্বর্য এনে দিয়েছে। 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে ঐতিহ্যবাহী বাঙালির সংস্কৃতির পালাবদল ঘটেছে। এক সময় এদেশে রাজরাজড়া ছিল না। পরবর্তী সময়ে এদেশে রাজা, অমাত্য ও সামন্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। এছাড়া, বর্তমানে সভ্যতার আশীর্বাদে রাস্তা-ঘাটসহ সবকিছুর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
উদ্দীপকের মিমোর চাচার উক্তিতে সভ্যতার আশীর্বাদপুষ্ট আধুনিক জীবনের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ধারাটি বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধটিতেও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পূর্বেকার জীবনপ্রবাহের পরিবর্তে আধুনিক গতিশীল জীবনের নিরন্তর প্রবহমানতার চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের ইতিহাস আড়াই হাজার বছর বা তারও বেশি পুরনো।
আলোচ্য বাক্যে বোঝানো হয়েছে, ইতিহাসে থাকে সব রকম মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয়।
এককালে বাংলাদেশে রাজার শাসন ছিল না। লোকজন নিজেরাই মিলেমিশে 'যুক্তি-পরামর্শ করে দেশ চালাত। এটি ছিল ইতিহাসের পূর্ব যুগের ঘটনা। তেইশ-চব্বিশ-শ বছর আগে রাজা কর্তৃক শাসন পরিচালনা শুরু হলে মানুষের জীবনাচরণ, জীবনযাত্রার ধরন, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি নিয়ে ইতিহাস লেখা শুরু হয়। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এমন ভাবই বোঝানো হয়েছে।
দীপার দেখা গ্রামের লোকজনের পোশাক-পরিচ্ছদের সাথে হাজার বছর আগের পূর্বপুরুষদের পোশাকের মিল পাওয়া যায়।।
মানুষ যখন সভ্য হতে শুরু করে তখন থেকেই লজ্জা নিবারণ করতে শেখে। আর ধীরে ধীরে মানুষের বিভিন্ন রকম পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়।
উদ্দীপকের দীপা গ্রামে তার বয়সী মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ঠোঁটে লিপস্টিক, হাতে চুড়ি ও কানে স্বর্ণের দুল পরতে দেখে। গৃহিণীরা তাঁতের শাড়ি পরে এবং শাড়ির আঁচল টেনে ঘোমটা দেয়। তাদের হাতে-গলায় স্বর্ণালংকার শোভা পাচ্ছে। 'কত কাল ধরে' রচনায় লেখক বলেছেন, এক হাজার বছর আগে সব পুরুষই ধুতি পরত, সক মেয়েই শাড়ি পরত। এখনকার মতো তখনও মেয়েরা আঁচল টেনে ঘোমটা দিত। এক্ষেত্রেই উভয় বর্ণনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
"শত শত বছর চলে যায়, কিন্তু এদেশের মানুষের জীবনের অভাবগুলো চলে যায় না।” বিষয়টি উদ্দীপক ও 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
যখন এদেশে রাজ-রাজড়া ছিল না, তখন মানুষের মূল্যায়ন ছিল বেশি। লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত, দেশ চালাত। মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।
উদ্দীপকে দীপা দিনমজুরের জীবনযাত্রার যে চিত্র দেখতে পায় তা হলো এ রকম- দিনমজুরদের খড়ের তৈরি ঝুপড়ি ঘর। দিনমজুরের স্ত্রীর পরনে মলিন শাড়ি, সন্তানদের পরনে ছেঁড়া হাফপ্যান্ট এবং শরীরের রুগ্ণ দশা। 'কত কাল ধরে' রচনার লেখক দিনমজুরের দুরবস্থার জন্য রাজা-বাদশাদের আগমনকে কিছুটা দায়ী করেছেন। লেখকের মতে, রাজারা যখন এদেশে এলেন তাদের সঙ্গে মন্ত্রী, সামন্ত-মহাসামন্তের দল এলেন। তখন থেকেই ইতিহাসে রাজাদের নাম বড় বড় অক্ষরে লেখা হতে লাগল। আর প্রজারা পেছনে পড়ে রইল।
'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে বাঙালি ও বাংলার অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অতীতে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শাসন-শোষণের শিকার হয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট নেমে আসার দিকটিও প্রতিফলিত হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে বিষয়টি উপস্থিত। কারণ শত শত বছর গেলেও এসব মানুষের জীবনে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ইতিহাস বলতে শুধু রাজ-রাজড়াদের কথাই বোঝায় না।
আগেকার দিনে রাজ-রাজড়াদের অবস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সাধারণ লোকজন কোনো সমস্যায় নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত।
বাঙালি জাতির আদিকালের ইতিহাস অনেক সম্মানের। সে সময় রাজা ও প্রজার এ পরিচয়টি ছিল না। তাদের মাঝে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেরাই একসঙ্গে বসে যুক্তি-পরামর্শের ভিত্তিতে সেই বিষয়ের সমাধান দিত। সুতরাং নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরা করতেই তারা এভাবে কাজ করত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
