'বঙ্গবাণী' কবিতায় 'নিরঞ্জন' শব্দটি 'সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ' বলতে কবি নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়াকে বুঝিয়েছেন।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি আবদুল হাকিম মাতৃভাষাকে মানুষের অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর কাছে মাতৃভাষাই শ্রেষ্ঠ, এ ভাষাই তাঁর ভাব প্রকাশ, সাহিত্য রচনার সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম। আরবি, ফারসি ভাষায় প্রতি তাঁর কোনো বিদ্বেষ নেই। কিন্তু ঐসব ভাষায় জ্ঞানচর্চা করা সাধারণের পক্ষে যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে যদি দেশি ভাষায় অর্থাৎ নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে বলে কবি বিশ্বাস করেন। কবি মনে করেন, মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষের মনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে কবি এটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকে 'বঙ্গবাণী' কবিতার মাতৃভাষার প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসার ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
মাতৃভাষা মনের ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা প্রত্যেক মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে অভিন্নভাবে মিশে আছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর আনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। মাতৃভাষার মতো এত সুধা অন্য কোনোকিছুতেই নেই। মাতৃভাষাতেই কবি প্রশান্তি ও মাধুর্য খুঁজে পান। উদ্দীপকের মাতৃভাষাপ্রীতির এ বিষয়টি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় প্রতিফলিত কবির মাতৃভাষাপ্রীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে বাংলা ভাষার মাধ্যমে এদেশের মানুষ যত সহজে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে অন্য কোনো ভাষায় তা মোটেই সম্ভব নয়। কারণ এ ভাষার সঙ্গে বাঙালির জীবনযাপনের প্রতিটি উপাদান জড়িত।
'উক্ত ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের কবির চেয়ে আবদুল হাকিমের অবস্থান সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ।'- মন্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃভাষা হলো মায়ের কাছ থেকে শেখা বুলি। বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা। এ ভাষার সঙ্গে তার জীবনযাপনের প্রতিটি উপাদান জড়িত। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করে থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ব্যক্ত করেছেন। এ ভাষা কবির আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিশে আছে। কবি বাংলা মায়ের কোলে শুয়ে এ ভাষায় মধুর সুরের গান শুনে তৃপ্ত হন। মাঝি দাঁড় টানার সময়, চাষা ধান কাটার সময় এবং বাউল আপন মনে এ ভাষায় গান গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে। বাংলা গানের সুরে কী যে জাদু আছে তা কেবল অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। উদ্দীপকের কবির এ অনুভব 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবির অনুভবের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়াও কবি বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি স্বভাষার বিরোধিতাকারীদের এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিদেশি ভাষার প্রতি অনুরাগীদের কবি পছন্দ করেন না। কারণ স্বদেশের ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য বেশি উপযোগী। আত্মবিশ্বাসী কবি বিশ্বাস করেন, বাংলা ভাষায় যত উপদেশ বাণী রচিত হবে তা আমাদের মনকে পুনঃপুন জাগিয়ে তুলবে। কবি এ কবিতায় মারফতে জ্ঞানহীনদের যে উপদেশ বাণী শুনিয়েছেন তা উদ্দীপকে নেই। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!