'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় 'কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা' কবিতা
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলেছেন।
কবির পূর্বপুরুষেরা একসময় ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁদের পিঠে নির্যাতনের চিহ্ন রক্তজবার মতো লাল ক্ষত হয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলছে। তাঁরা পাহাড় আর অরণ্য অতিক্রম করে এসে পতিত জমি আবাদ করতেন। তাঁদের করতলে ছিল পলিমাটির সৌরভ। কবি মনে করতেন তাঁদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে উচ্চারিত সত্যও ছিল একেকটি কবিতা। কবির মতে, যে এই কবিতা -শুনতে জানে না, সে ঝড়ের আর্তনাদ শোনে এবং দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি আজন্ম সে ক্রীতদাসই থেকে যায়।
উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য চেতনার মাধ্যমে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে স্বীকার করে মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। কবি বলেছেন তাঁর পূর্বপুরুষের ইতিহাস মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস; বাংলার অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার হাতহাস। তাঁরা পতিত জমিতে আবাদ করতেন; করতলে ছিল পলিমাটির সৌরভ। তাঁদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে যে সত্য উচ্চারিত হতো তার প্রতিটি শব্দও ছিল কবিতা। এই 'কবিতা'ই কবির একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক হয়ে উপস্থাপিত হয়।
উদ্দীপকের গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে রচিত হয়। গানটিতে নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অস্ত্র ধরে। তারা বাংলা ভাষায় কবিতা ও গান রচনার অধিকার পেতে যুদ্ধ করে, সুন্দর একটি বাংলাদেশ ও শান্তিপ্রিয় বিশ্ব উপহার দেওয়ার জন্য তারা প্রাণপণ লড়ে যায়। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের সংগ্রামের ইতিহাস যেমন বিভিন্ন ঐতিহ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে তেমনি উদ্দীপকে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে। তাই বলা যায়, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য চেতনার মাধ্যমে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপক মুক্তির চেতনাকে নির্দেশ করে।
'একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি' চরণটি দ্বারা কবি পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে মুক্ত জীবনের প্রত্যাশা করেছেন। কবির পূর্বপুরুষদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে যে সত্য উচ্চারিত হতো তার প্রতিটি শব্দও ছিল কবিতা। কবি মনে করেন যারা এই কবিতা শুনতে চায় না তারা কখনোই মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে পারে না। কবি প্রত্যাশা করেন আগুনের উত্তাপে পরিশুদ্ধ হয়ে সকল গ্লানি মুছে ফেলে দিয়ে প্রত্যেকে আলোয় ভরা মুক্ত জীবন গড়ে তুলুক। এক্ষেত্রে তিনি উনুনের আগুনে উজ্জ্বল জানালার অনুষঙ্গ ব্যবহার করে তাঁর এ প্রত্যাশার দিকটি মহিমান্বিত করে তুলেছেন।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রেরণা দিয়ে মুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধের আহ্বান করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা মানুষের মুখে মুক্তির আনন্দ দেখার জন্য অস্ত্র ধরে, মুক্তভূমিতে বাংলা ভাষায় কবিতা ও গান রচনার আনন্দ পেতে যুদ্ধ করে, সুন্দর একটি বাংলাদেশের ছবির প্রত্যাশায় যুদ্ধ করে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বলেছেন পূর্বপুরুষদের ইতিহাস যারা শুনতে চায় না তারা আজীবন ক্রীতদাস থেকে যাবে, অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে আজন্ম। কিন্তু কবি নিজেও পরাধীনতার শৃঙ্খল চান না, তাঁর প্রত্যাশা মুক্ত জীবন। উদ্দীপকে চরণগুলোতেও ফুটে ওঠে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান ও দেশের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণামন্ত্র। তাই বলা যায়, কবির জাতীয় মুক্তির চেতনার সাথে উদ্দীপকের রচয়িতার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা যেন এক ও অভিন্ন।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!