তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?'- উক্তিটি দ্বারা কবিভক্ত কবির কাছে ঋতুরাজ বসন্তকে উপেক্ষা করে ব্যথা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবিভক্ত লক্ষ করেছেন তাঁর প্রিয় কবি বসন্ত-বন্দনা করে কবিতা লিখছেন না। ফলে ব্যথিত ও হতাশ কবিভক্ত কবিকে বভিন্ন প্রশ্ন করে এর কারণ উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছেন। প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটি দ্বারা ঋতুরাজ বস্তুকে উপেক্ষা করার কারণ কী- তা জানতে কৌতূহলী কবিভক্ত কবির কাছে প্রশ্ন রেখেছেন।
হাউদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় উল্লিখিত প্রিয়জন বিচ্ছেদের বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে গভীর শূন্যতা। তাঁর ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনা তাই বিষণ্ণতার গাঢ় আঁধারে ঢেকে যায়। সেই গভীর দুঃখবোধই ফুটে উঠেছে আলোচ্য কবিতার পঙক্তিমালায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা প্রকাশ পেয়েছে। কবি যাঁকে খুব ভালোবাসতেন, তিনি কবিকে ছেড়ে চলে গেছেন। কবির কাছে এ জীবন তাই অর্থহীন মনে হয়। সবকিছুতেই তিনি কেবল শূন্যতাই খুঁজে পান। অতি প্রিয় মানুষের বিচ্ছেদ তাঁকে বড়ো নিঃসঙ্গ করে দিয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাতেও একই অনুভূতির অনুরণন ঘটেছে। শীতের রিক্ততার স্মৃতি বারবার মনে পড়ায় কবি ঋতুরাজ বসন্তের আগমনকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। অর্থাৎ প্রিয়জন চলে যাওয়ার বিষাদময় অনুভূতিই উদ্দীপকের কবিতাংশ এবং আলোচ্য কবিতার মূলসুর।
উদ্দীপকটি 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার সুরকে প্রকাশ করতে পারেনি"- মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
প্রিয়জন যখন অসময়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তখন জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন হয়ে পড়ে। বিষাদ নেমে আসে চারপাশে। আনন্দের উপকরণগুলোও বেদনাময় হয়ে যায়। প্রিয়জন হারানোর এ শোকানুভূতিই 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল উপজীব্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশের বর্ণনায় কবির শোকানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। কবি যাঁকে খুব ভালোবেসেছিলেন, তিনি কবিকে ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে অপরূপ প্রকৃতি কবির আর ভালো লাগে না। সবকিছু শূন্য মনে হয়। কেননা, কবির চেতনাজুড়ে তাঁর প্রিয়জনের ছবি। সেই প্রিয়জন কবির অস্তিত্বের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে আজ অনেক দূরে। তাই কবির নিজেকে একাকী মনে হয়। একইভাবে, আলোচ্য কবিতায়ও শীতের বিদায় মনে করে বসন্তকে কবি যথাযথভাবে বরণ করতে পারছেন না।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মর্মবাণী মূলত প্রিয়জন হারানোর অন্তহীন শোক এবং তার ফলে জগৎ ও জীবনের প্রতি কবির নির্মম
উদাসীনতা। কবি তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে বসন্ত-বন্দনাও তাঁর কাছে অর্থহীন ঠেকে। শুধু
অতীত স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার এক অবিরাম লড়াই। কবির এই বিষাদময় রিক্ততার সুর উদ্দীপকের কবিতাংশেও অনুরণিত হয়েছে। প্রিয়জন
হারানোর বেদনা মানুষের মর্মমূলে কতটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, তা উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় লক্ষণীয়। উভয়ক্ষেত্রেই
বিচ্ছিন্নতার বেদনাবোধ এবং প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!