উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য

বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি। তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রাম থেকে একটি গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কার করেন।

এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু হলো রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা। বৈষ্ণব পদাবলির পূর্বসূরী হিসেবে এই কাব্যটির ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব অপরিসীম। চণ্ডীদাস মূলত তিনজন — বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস এবং দ্বিজ চণ্ডীদাস— যাদের মধ্যে বড়ু চণ্ডীদাসকেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি প্রাক-চৈতন্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বাংলা ভাষার বিবর্তন অধ্যয়নের জন্য এটি অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

অন্নদামঙ্গল কাব্য। কাব্যে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন যে, জনসাধারণের কাছে সহজবোধ্য ও রসগ্রাহী করে তোলার জন্য আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার অত্যাবশ্যক। তাঁর মতে, ভাষার সৌন্দর্য ও মাধুর্য রক্ষায় প্রচলিত বিদেশি শব্দ ব্যবহার অপ্রাসঙ্গিক নয়, বরং তা কাব্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।


ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও অমর কাব্যগ্রন্থ হলো অন্নদামঙ্গল কাব্য। এটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত—১. অন্নদামঙ্গল, ২. বিদ্যাসুন্দর বা কালিকামঙ্গল এবং ৩. মানসিংহ বা মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান।

ভারতচন্দ্র ফারসি ও আরবি ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। তাঁর কাব্যে তিনি সচেতনভাবে আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর বিখ্যাত উক্তি হলো: "নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? আরবি ফারসি কিবা জানে বেনে গায়?" এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভাষার বিশুদ্ধতা নিয়ে অতিমাত্রায় রক্ষণশীল না হয়ে জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত ও পরিচিত শব্দ ব্যবহার করাই শ্রেয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, আরবি-ফারসি শব্দ বাংলা ভাষার সঙ্গে মিশে গিয়ে তার শ্রুতিমাধুর্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তৎকালীন সময়ে ফারসি ছিল রাজদরবারের ভাষা এবং সাধারণ মানুষের মুখেও অনেক আরবি-ফারসি শব্দ প্রচলিত ছিল। তাই তিনি কাব্যের গ্রহণযোগ্যতা ও পাঠকপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য এসব শব্দ ব্যবহারে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তাঁর মতে, যে শব্দ শ্রুতিমধুর ও মনোহর, তা বিদেশি হলেও কাব্যে তার স্থান করে নেওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতচন্দ্রকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাষাচিন্তক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসের মূলবক্তব্য তৎকালীন গ্রাম বাংলার মুসলিম সমাজের অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য ও কুসংস্কারের চিত্র তুলে ধরা। এটি মূলত শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, সামাজিক অবিচার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ। উপন্যাসে প্রেম, আত্মত্যাগ এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতার পাশাপাশি সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে নারীর সংগ্রাম বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।


'মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০) কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটি তাঁর সাম্যবাদী ভাবধারা ও গণমানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই উপন্যাসের পটভূমি হলো হুগলি জেলার মুসলিম অধ্যুষিত একটি গ্রামীণ জনপদ, যেখানে অভাবী ও শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সামাজিক শোষণ ও বঞ্চনা নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনসার ও মেজোবৌয়ের প্রেম, তাদের চারপাশের মানুষের জীবনযুদ্ধ, এবং তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী মনোভাব মূল উপজীব্য। নজরুল দেখিয়েছেন কীভাবে ক্ষুধা মানুষের নীতি-নৈতিকতাকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে মানুষ চরম সংকটের মুখেও মানবিকতা ও প্রেমকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে।

বিশেষ করে, উপন্যাসে নারীর অর্থনৈতিক বঞ্চনা, সামাজিক নির্যাতন এবং তাদের আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি প্রেমকাহিনী নয়, বরং এটি শ্রেণি-সংগ্রাম, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং শোষিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ বনলতা সেন, রূপসী বাংলা, ধূসর পাণ্ডুলিপি

জীবনানন্দ দাস (১৮৯৯-১৯৫৪) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি। তাঁকে 'রূপসী বাংলার কবি' বা 'নির্জনতার কবি' নামেও অভিহিত করা হয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, মৃত্যুচেতনা এবং ঐতিহাসিকতা এক বিশেষ শৈলীতে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৪২), মহাপৃথিবী (১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮), রূপসী বাংলা (১৯৫৭, মরণোত্তর প্রকাশিত) এবং বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১, মরণোত্তর প্রকাশিত)। বাংলা কাব্যে তাঁর অবদান অপরিসীম, যা তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি (প্রকাশকাল: ১৯৪৪)
ফররুখ আহমদের কাহিনীকাব্য: সিরাজাম মুনীরা (প্রকাশকাল: ১৯৫২)
ফররুখ আহমদের কাব্যনাট্য: নফেল ও হাতেম (প্রকাশকাল: ১৯৬১)

ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) ছিলেন একজন প্রধান বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক। তাকে "মুসলিম রেনেসাঁর কবি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তার কবিতায় প্রধানত ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য এবং মুসলিম সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি একাধারে কবিতা, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক অস্থিরতা তার সাহিত্যে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল।

তার উল্লেখযোগ্য আরও কিছু গ্রন্থ হলো:

        
  • কাব্যগ্রন্থ: মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩), পাখির বাসা (১৯৬৫), হাতেম তায়ী (১৯৬৬)
  •     
  • গল্পগ্রন্থ: মাস্কেন-রঙ-কোরআন (১৯৬৬)
  •     
  • শিশুতোষ: নতুন লেখা (১৯৫৯), ছড়ার আসর (১৯৬২), চিড়িয়াখানা (১৯৬৮)

তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত এবং তার সাহিত্যকর্ম বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ কবর নাটকের বিষয় হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। প্রধান চরিত্রগুলো হলো দাদা, নাতনি, ইন্সপেক্টর, মোনায়েম, কেরামত, হাফেজ, গুলনেহার, মুর্দা ফকির। নাটকটির রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।

'কবর' নাটকটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক ও শিক্ষাবিদ মুনীর চৌধুরী এটি রচনা করেন এবং সেখানেই বন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। এটি বাংলা নাট্যসাহিত্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা প্রতীকী এবং রূপকের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরে।

নাটকের চরিত্রগুলো ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সাধারণ মানুষের মানসিকতাকে প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন – দাদা চরিত্রটি ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধারণ করে এবং শহিদদের কবর রক্ষার জন্য সংগ্রামী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নাতনি চরিত্রটি নতুন প্রজন্মের প্রতীক, যে দাদাকে সাহায্য করে। ইন্সপেক্টর, মোনায়েম, কেরামত, হাফেজ, গুলনেহার, মুর্দা ফকির — এই চরিত্রগুলো তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মনোভাব, ভীরুতা, দেশপ্রেম, এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, নাট্যকার এবং বুদ্ধিজীবী। তিনি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত লগ্নে মুনীর চৌধুরীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী অপহরণ করে হত্যা করে। 'কবর' নাটকটি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে চিরন্তন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলা নাট্যচর্চায় এক নতুন ধারা উন্মোচন করেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ জহির রায়হান।

উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে' বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হান কর্তৃক রচিত। এটি একটি কালজয়ী আঞ্চলিক উপন্যাস, যা গ্রামীণ বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা, চিরাচরিত প্রথা, কুসংস্কার এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো গ্রামীণ মুসলিম সমাজের অবহেলিত জীবন, যেখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সীমাবদ্ধতা, নারীর বঞ্চনা, প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ এবং মানবিক সম্পর্কগুলি অত্যন্ত নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। এটি গ্রামীণ জীবনের সরলতা এবং একইসাথে এর ভেতরের জটিলতা ও টানাপোড়েনকে ফুটিয়ে তোলে।

আঙ্গিকের দিক থেকে এটি বাস্তববাদী ধারার (Realistic style) একটি উপন্যাস। জহির রায়হান অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে গ্রামীণ ভাষা, রীতিনীতি এবং বিশ্বাসকে উপন্যাসের পরতে পরতে তুলে ধরেছেন, যা চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে এবং পাঠকের কাছে গ্রামীণ জনজীবনের একটি বিশ্বাসযোগ্য চিত্র উপস্থাপন করেছে। এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং এটি বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন।

চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ও প্রথম নিদর্শন। এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের দ্বারা রচিত গান ও কবিতার একটি সংকলন, যা খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।

১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদগুলি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া মতের তত্ত্ব ও সাধনপ্রণালী ব্যাখ্যা করে, যা 'সন্ধ্যাভাষা' বা 'সান্ধ্যভাষা' নামক একটি রূপক ভাষায় রচিত। এতে মোট ৫১টি পদ ছিল, যার মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ এবং ৪৬ জন কবির নাম (যেমন- লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, শবরপা প্রমুখ) পাওয়া গেছে। চর্যাপদ কেবল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেই নয়, বাংলা ভাষার বিবর্তন ও তৎকালীন সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বাংলার লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ, যা মূলত মৈমনসিংহ (ময়মনসিংহ) অঞ্চলের লোকগাথা বা পালাগানের সংকলন। এতে গ্রামীণ জীবনের প্রেম, বিরহ, সামাজিক সংঘাত এবং ট্র্যাজেডির কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এর অন্তত দুটি পালার নাম হলো:
        
  • মহুয়া
  •     
  • মলুয়া

মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বাংলা লোকসাহিত্যের একটি বিশেষ অংশ, যা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন লোকগাথার সংকলন। এটি মূলত মুখে মুখে প্রচলিত প্রেম ও বীরত্বের কাহিনিমূলক কাব্য, যা পরে সংগ্রহ ও সম্পাদিত হয়। ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই গীতিকাগুলো সংকলন ও সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এই গীতিকার ইংরেজি অনুবাদ "Eastern Bengal Ballads" নামেও প্রকাশিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকার পালাগুলোতে সাধারণত গ্রামীণ সমাজ, প্রকৃতি, মানুষের আবেগ, প্রেম, বিচ্ছেদ, বিদ্রোহ এবং ট্র্যাজেডির চিত্র ফুটে ওঠে। এই লোকগাথাগুলো তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের চালচিত্র এবং মানুষের জীবনবোধকে তুলে ধরে। এর ভাষা সহজবোধ্য, সাবলীল এবং আঞ্চলিক উপভাষার প্রভাবযুক্ত। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি বাংলা লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র ধারাকে প্রতিনিধিত্ব করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ বৌ-ঠাকুরাণীর হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো বৌ-ঠাকুরাণীর হাট। এটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের কাহিনি মূলত যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবলম্বনে রচিত, যেখানে ক্ষমতা লিপ্সা, পারিবারিক সংঘাত এবং রাজদ্রোহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবেও পরিচিত। তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক উপন্যাস, রাজর্ষি, ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর বিষয় ত্রিপুরা রাজ্যের ইতিহাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামি।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
214

প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য এবং এর কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এ সময়ের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। ধর্মের বিষয়টি সমাজজীবনের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, তাই সাহিত্যে ধর্মের কথা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রাচীন যুগের সময়কাল-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে৬৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে৯৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুকুমার সেনের মতে৯০০-১৩৫০ খ্রি.

চর্যাপদ: বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের সাথে 'ডাকার্ণব' ও 'দোহাকোষ' নামে আরও দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়। ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।

বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মালম্বী। তাদের আমলে চর্যাগীতিগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে পদগুলো রচিত। পাল বংশের পরে আসে সেন বংশ। সেন বংশ হিন্দুধর্ম এবং ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে। ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধচার্যেরা এদেশ হতে বিতাড়িত হয় এবং নেপালে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাহিরে নেপালে পাওয়া গেছে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী - উইকিপিডিয়া
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

চর্যাপদের শব্দগুলো অপরিচিত, শব্দ ব্যবহারের রীতি বর্তমানের রীতি থেকে ভিন্ন --এর কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়। এজন্য চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা'ও বলে। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হত। তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' (Origin and Development of Bengali language) নামক গ্রন্থে ধ্বনি তত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পদসংকলনটি আদি বাংলা ভাষায় রচিত। কেউ কেউ একে মৈথিলি, উড়িয়া বা আসামি ভাষা বলে দাবি করেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সেকালের বাংলা, উড়িয়া বা আসামি ভাষার পার্থক্য ছিল সামান্যই। উল্লেখ্য যে, চর্যাপদ উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিজ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচিত।

এতে মোট ৫১ টি পদ'রয়েছে। কয়েক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সর্বমোট সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে। ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে উদ্ধার করা হয়েছে অর্থাৎ এর শেষাংশ পাওয়া যায়নি। ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। চর্যাপদের মোট পদকর্তা ২৪। অনেকের মতে, আদি চর্যাকার লুইপা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম সরহ বা ভুসুকু। কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩ টি পদ রচনা করেন।

রাজশাহী কলেজ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুর্লভ চর্যাপদ এর অংশবিশেষ

চর্যাপদের কবি / পদকর্তা-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে২৩ জন
ড. সুকুমার সেনের মতে২৪ জন

পদকর্তা: লুই, শবর, ককুরী, বিরুআ, গুণ্ডারী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, আজদেব, ঢেণ্টণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জঅনন্দি, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী। পদকর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যোগ করা হয়। যেমন: লুই থেকে লুইপা, শবর থেকে শবরপা।

কাহ্ন : ১৩ টি পদ রচনা করেন।

ভুসুকু : ৮ টি পদ রচনা করেন।

সরহ : ৪ টি পদ রচনা করেন।

লুই, শান্তি ও শবরী: ২ টি করে পদ রচনা করেন।

বাকিরা : ১ টি করে পদ রচনা করেন।

লাড়ীডোম্বী : কোন পদ পাওয়া যায়নি।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি।

ড. সুকুমার সেনের 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫১টি।

চর্যাপদের যে পদ পদ পাওয়া যায়নিঃ

২৩ নং অর্ধেক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ।

যেসব পদ পাওয়া যায়নি সেগুলোর রচয়িতাঃ

২৩- ভুসুকুপা, ২৪- কাহ্নপা, ২৫- তান্তীপা, ৪৮- কুকুরীপা।

চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতাঃ

লুইপা। তিনি ২টি পদ রচনা করেন। যথা: ১, ২৯। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি রাঢ় অঞ্চলের বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি শবরপার শিষ্য ছিলেন। লুইপাকে আদি চর্যাকার হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

চর্যাপদের প্রথম পদটিঃ

কাআ (শরীর) তরুবর পঞ্চ বি ডাল।

চঞ্চল চীএ পইঠো কাল ॥

দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।

লুই ভণই (বলে) গুরু পুচ্ছিঅ জাণ ॥

সঅল সহিঅ কাহি করিঅই।

সুখ দুখেতে নিচিত মরিঅই ॥

এড়ি এউ ছান্দক বান্ধ করণক পাটের আস।

সুনুপথ ভিতি লেহু রে পাস ॥

ভণই লুই আমহে ঝাণে দিঠা।

ধমণ চমণ বেণি পিত্তি বইঠা ॥

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এর ভাষার নাম 'বঙ্গকামরূপী'। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

চর্যাপদের অনুবাদক

ভাষা

অনুবাদক

অনূদিত নাম

তিব্বতিকীর্তিচন্দ্র-
হিন্দিরাহুল সাংকৃত্যায়নদোহাকোষ (১৯৫৭)
ইংরেজিহাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদমিস্টিক পোয়েট্রি অব বাংলাদেশ (২০১৭)
সংস্কৃতপ্রবোধচন্দ্র বাগচী-
চিত্রঃ কাহ্নপার নকশা

Related Question

View All
উত্তরঃ চণ্ডীদাস

“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” এই বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি চণ্ডীদাসের বাণী হিসেবে পরিচিত। এই উক্তিটির মাধ্যমে মানবধর্মকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষ এবং মানবতাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত। এটি তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ভেদাভেদের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ছিল এবং মানবতাবাদী চিন্তাধারার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। চণ্ডীদাস মূলত বৈষ্ণব পদাবলী রচনার জন্য বিখ্যাত, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার মাধ্যমে মানবপ্রেম ও ঈশ্বরপ্রেমের গভীর সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
555
উত্তরঃ উপন্যাস, কাজী নজরুল ইসলাম।

'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৯৩১ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে প্রেম, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উপজীব্য করা হয়েছে। এটি নজরুলের বিপ্লবী চেতনা ও রোমান্টিক ভাবধারার এক অনবদ্য মিশ্রণ।

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ এবং দার্শনিক। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, যে কারণে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। তার সাহিত্যে সাম্য, মানবতা এবং বিদ্রোহের বাণী প্রবলভাবে উচ্চারিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
490
উত্তরঃ চর্যাপদ

চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন এবং প্রাচীনতম বাংলা কাব্য। এটি খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের এক ধরণের গান ও কবিতা সংকলন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস জানতে এবং প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে এটি মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের ভাষা 'সন্ধ্যা ভাষা' নামে পরিচিত, যার অর্থ আংশিক আলো ও আংশিক অন্ধকারময় বা দ্ব্যর্থবোধক ভাষা।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
451
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভানুসিংহের পদাবলী

ভানুসিংহ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছদ্মনাম। তিনি এই ছদ্মনামে "ভানুসিংহের পদাবলী" নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে লেখা একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে গঠিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কৈশোরকালে বৈষ্ণব সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কবিতাগুলো লেখেন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিরহ ও মিলনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রাথমিক কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য নিদর্শন এবং একটি স্বতন্ত্র সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
382
উত্তরঃ মুহূর্তের কবিতা

ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথিতযশা কবি, যিনি 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। তাঁর রচিত সনেট সংকলনটির নাম হলো 'মুহূর্তের কবিতা'। এই গ্রন্থটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি ফররুখ আহমদের কাব্যপ্রতিভার একটি বিশেষ দিক উন্মোচন করে। তাঁর কবিতায় ইসলামী ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি গভীরভাবে প্রোথিত ছিল, যা বাঙালি মুসলিম সমাজে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিল। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি', 'সিরাজাম মুনীরা', 'নৌফেল ও হাতেম', 'হাতেম তাই' এবং শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া' ইত্যাদি।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.5k
উত্তরঃ চর্যাপদ

প্রাচীন যুগে রচিত বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিশ্চিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজকীয় গ্রন্থশালা থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন, যা ১৯১৬ সালে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত কিছু গান বা কবিতা, যা তাদের ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে। এর ভাষা প্রাচীন বাংলা ভাষারূপের একটি উদাহরণ এবং এটি আধুনিক বাংলা ভাষার উদ্ভবের প্রথম ধাপ নির্দেশ করে। চর্যাপদের রচয়িতাদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, শবরীপা, সরহপা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। চর্যাপদ শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যেরই নয়, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
358
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews