বনে বনে পশুদের রাজত্ব ছিল।
শিয়াল তার বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়ে হাতির অত্যাচার থেকে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল। শিয়াল হাতিকে শায়েস্তা করার জন্য কৌশল অবলম্বন করল। তার কৌশলে হাতি নদীতে নেমে তলিয়ে যেতে থাকল। এভাবে শিয়াল তার বুদ্ধি দিয়ে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল।
হাতির অত্যাচারে বনের সব প্রাণী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অত্যাচারী হাতি থেকে রক্ষা পেতে বনের সবাই পরামর্শ করে শিয়ালকে হাতির আস্তানায় পাঠাল। শিয়াল হাতির নানা রকম প্রশংসা করে। নদীর ওপারের সবাই হাতিকে রাজা হিসেবে বরণ করে নিতে চায়- এ কথা শুনে হাতি খুশি মনে শিয়ালের ফাঁদে পা দিল। এভাবে বোকা হাতি শিয়ালের বুদ্ধির কাছে হার মানল।
হাতির করুণ পরিণতির চারটি কারণ নিচে দেওয়া হলো-
১. অহংকারী হয়ে ওঠা।
২. অন্যান্য প্রাণীদের তুচ্ছ ভাবা।
৩. বনের প্রাণীদের অত্যাচার করা।
৪. নিজেকে অসীম শক্তিশালী ভাবা।
হাতি নিজেকে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বনের রাজা ভাবত। তাই অহংকারের কারণে তাকে কেউ পছন্দ করত না। সবাই তাকে ভয় পেত। তার দাম্ভিক স্বভাবের কারণে কেউ তার ছায়াও মাড়াত না। দুষ্টু হাতির অহংকারের কারণে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার
অহংকার পতনের মূল। অহংকারীকে কেউ পছন্দ করে না। সবাই তার থেকে দূরে থাকে। সে বিপদে পড়লেও তাকে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। গল্পের হাতি ছিল অহংকারী। তাকে কেউ পছন্দ করত না। তার বিপদেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই আমরা অহংকারী হব না।
প্রবল শক্তিধর বলা হয়েছে সিংহকে।
বেশ শান্তিতেই বনের পশুদের দিন কাটছিল। হঠাৎ একদিন প্রকাণ্ড শরীরের বদ মেজাজের একটা হাতি বনে ঢুকে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করল। যত দিন যায় বনের প্রাণীদের ওপর তার অত্যাচার বেড়েই চলল। তার আচরণ দেখে মনে হলো, সে-ই বনের রাজা। তার এ ধরনের আচরণের কারণেই বনের পশুদের ওপর অশান্তি নেমে এলো।
গল্পে মুক্ত-স্বাধীন বলতে হাতির অত্যাচার থেকে বনের অন্যান্য প্রাণীর রক্ষা পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। হাতির অত্যাচারে যখন সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ল সে সময় বুদ্ধিমান শিয়াল হাতিটাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি উপায় বের করল। প্রকান্ড শরীরের হাতিটা শিয়ালের ফাঁদে পা দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে আর উঠতে পারল না। এভাবে বনের সব প্রাণী অত্যাচারী হাতি থেকে রক্ষা পেল। সকলেই সমস্বরে বলতে লাগল- 'আমরা এখন মুক্ত-স্বাধীন।'
অহংকারী হাতির অত্যাচারে বনের পশুপাখিরা সবসময় তটস্থ থাকত। শিয়াল হাতিকে শাস্তি না দিলে তাদের পরিণাম হতো ভয়াবহ। হাতিটা দিনে দিনে আরও বেশি অত্যাচারী হয়ে উঠত। অনেক পশুপাখিকে হয়তো সে মেরে ফেলত। তার শক্তি ও সাহস দিয়ে বনে সে রাজা হয়ে ওঠার চেষ্টা করত। অন্যান্য পশুপাখিরা তাদের শান্তি ও স্বাধীনতা হারাত।
হাতির এই শাস্তির জন্য তার চরিত্রের যে বিষয়গুলোকে আমি দায়ী মনে করি সেগুলো হলো-
১. অহংকার;
২. তিরিক্ষি মেজাজ;
৩. অন্যান্য প্রাণীর উপর অত্যাচার;
৪. একরোখা স্বভাব।
শিয়ালকে অধিকতর বুদ্ধিমান মনে করায় সবাই মিলে তাকে দায়িত্ব দিল। হাতির অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বনের সব পশুরা একদিন সিংহের গুহায় জড়ো হয়। সবাই সলা-পরামর্শ করে শিয়ালকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও উপযুক্ত মনে করে। এ কারণেই সবাই মিলে দায়িত্বটি শিয়ালকে দিল।
শিয়াল তার বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়ে হাতির অত্যাচার থেকে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল। একদিন শিয়াল হাতির আস্তানায় ঢুকে তাকে খুশি করার জন্য সালাম দিয়ে বলল, 'আপনি তো বনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী। আপনাকে রাজা হিসেবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবাই নদীর ওপারে উদগ্রীব হয়ে বসে আছে।' শিয়ালের বুদ্ধির ফাঁদে পা দিয়ে নির্বোধ হাতি খুশি হয়ে নদীতে ঝাঁপ দিল। তারপর প্রকাণ্ড শরীর নিয়ে আর উঠতে পারল না। এভাবে শিয়াল তার বুদ্ধির কৌশলেই বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল।
অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম শেষ পর্যন্ত খুবই ভয়াবহ হয়। তার বিপদে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। অহংকারী ও অত্যাচারীকে কেউ পছন্দ করে না।
হাতি আর শিয়ালের গল্প
সে অনেক-অনেক দিন আগের কথা। চারদিকে তখন কী সুন্দর সবুজ বন, ঝোপঝাড়। আর দিগস্তে ঝুঁকে পড়া নীল আকাশের ছোঁয়া। এরকম দিনগুলোতে মানুষেরা থাকত লোকালয়ে আর পশুরা জঙ্গলে।
মানুষ তখন একটু একটু করে সভ্য হচ্ছে। কী করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা যায়, শিখছে সেইসব কায়দাকানুন। ও-দিকে বনে বনে তখন পশুদের রাজত্ব। হাজার রকমের প্রাণী, অসংখ্য পাখ-পাখালি। বেশ শান্তিতেই কাটছিল বনের পাখি আর প্রাণীদের দিনগুলো। কিন্তু একদিন হলো কি তাড়া খেয়ে মস্ত একটা হাতি এই বনে ঢুকে পড়ল। হাতিটার সে-কী বিশাল শরীর। পাগুলো বটপাকুড় গাছের মতো মোটা। শুঁড় এতটাই লম্বা যে আকাশের গায়ে গিয়ে বুঝি ঠেকবে। তার গায়েও অসীম জোর। এই শরীর আর শক্তি নিয়েই তার যত অহংকার। মেজাজটাও দারুণ তিরিক্ষি।
তো—যেই-না হাতিটার ঐ বনে ঢোকা, অমনি শুরু হয়ে গেল তোলপাড়। নতুন অতিথি এসেছে, সবাই স্বাগত জানাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু ঐ দুষ্টু হাতিটার সে-কী তুলকালাম কাণ্ড! খুব জোরে গলা ফাটিয়ে দিল প্রচণ্ড একটা হুঙ্কার। থরথর করে কেঁপে উঠল সমস্ত বন। গাছে গাছে পরম নিশ্চিন্তে বসেছিল পাখি, তারা ভয়ে ডানা ঝাপটাতে শুরু করল। মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল যে ইঁদুর, গুবরে পোকার দল। তারা বুঝতে চাইল কী এমন ঘটল যে এমন করে কেঁপে উঠল মেদিনী?
হাতিটা এমন ভাব করতে শুরু করল, সেই বুঝি বনের রাজা। গুরুগম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো অমিত শক্তিধর সিংহ। সেও হাতিটার কাছে আসতে ভয় পায়। হালুম বাঘ মামা, সেও হাতিটার ধারে-কাছে ঘেঁষতে চায় না। বনের সবাই ভয়ে তটস্থ, শঙ্কিত। কখন জানি কী হয় !
একবার তো কী জানি কী হয়েছে। নিরীহ একটা হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল দূরে। আরেকবার ছোট্ট একটা পিঁপড়ে পায়ের তলায় পিষে মেরে ফেলল। সেই থেকে বনের কোনো প্ৰাণী হাতিটার ছায়াও মাড়াত না। দিনে দিনে হাতিটা হয়ে উঠল আরও অহংকারী। এই নিয়ে বনের কারো মনে শান্তি নেই ।
কিন্তু এভাবে কি দিন যায়? এক সন্ধ্যায় বনের সব প্রাণী এসে জড়ো হলো সিংহের গুহায়। এর একটা বিহিত চাই, সবার মুখে এক কথা। বাঘ, ভালুক, সিংহ, বানর, হরিণ, বনবিড়াল, শিয়াল সবাই সলা-পরামর্শ করতে বসল। শেষে সবাই মিলে শিয়ালের উপরেই ভার দিল।
দিন আসে, দিন যায়। একদিন শিয়াল ভয়ে ভয়ে হাজির হলো হাতির আস্তানায়। লেজ গুটিয়ে একটা সালাম দিল। বলল, আপনিই তো বনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী। আপনিই আমাদের রাজা। ওই দেখুন, নদীর ওপারে সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছে। আপনাকে রাজা হিসেবে বরণ করে নিতে চায় সবাই ।
হাতি তো শিয়ালের কথা শুনে মহা খুশি। আচ্ছা চল। নদীর পারে এসে শিয়াল বলল, এই আমি নদী সাঁতরে পার হচ্ছি। আপনিও আসুন। এই বলে শিয়াল নদীতে দিল ঝাঁপ। হাতি ভাবল, পুঁচকে শিয়াল যদি নদী পার হতে পারে, আমি পারব না কেন? সেও নদীতে নেমে পড়ল।
কিন্তু মস্ত বড় তার শরীর আর কী ভারী ! হাতিটা নদীর পানিতে পা দিল। অমনি তার ভারী শরীর একটু একটু করে তলিয়ে যেতে থাকল। তলিয়ে যেতে যেতে হাতি বলল, শিয়াল ভায়া, আমাকে বাঁচাও। শিয়াল ততক্ষণে নদী পার হয়ে তীরে উঠে এসেছে। বনের সমস্ত প্রাণী তার পেছনে এসে দাঁড়াল। তো—যেই-না হাতিটার ঐ বনে ঢোকা, অমনি শুরু হয়ে গেল তোলপাড়। নতুন অতিথি এসেছে, সবাই স্বাগত জানাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু ঐ দুষ্টু হাতিটার সে-কী তুলকালাম কাণ্ড! খুব জোরে গলা ফাটিয়ে দিল প্রচণ্ড একটা হুঙ্কার। থরথর করে কেঁপে উঠল সমস্ত বন। গাছে গাছে পরম নিশ্চিন্তে বসেছিল পাখি, তারা ভয়ে ডানা ঝাপটাতে শুরু করল। মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল যে ইঁদুর, গুবরে পোকার দল। তারা বুঝতে চাইল কী এমন ঘটল যে এমন করে কেঁপে উঠল মেদিনী?
হাতিটা এমন ভাব করতে শুরু করল, সেই বুঝি বনের রাজা। গুরুগম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো অমিত শক্তিধর সিংহ। সেও হাতিটার কাছে আসতে ভয় পায়। হালুম বাঘ মামা, সেও হাতিটার ধারে-কাছে ঘেঁষতে চায় না। বনের সবাই ভয়ে তটস্থ, শঙ্কিত। কখন জানি কী হয় ! শিয়াল হাতিকে কাল, তোমাকে বাচাব আমরা? এতদিন তোমার অত্যাচারে আমরা কেউ বনে শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। তোমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যেই তো নদীতে নিয়ে এসেছি। বনের যত প্রাণী ছিল, সবাই শিয়ালের কথার প্রতিধ্বনি করে সমস্বরে বলে উঠল :
ঠিক বলেছ শিয়াল ভায়া আর দেখব না হাতির ছায়া আমরা এখন মুক্ত স্বাধীন নাচছি সবাই তা-ধিন তা-ধিন ।
(হিতোপদেশ অবলম্বনে)
Related Question
View Allবিদ্যুৎ চমকালে মেদিনী কেঁপে ওঠে বলে মনে হতে পারে।
অহংকার পতনের মূল।
কী হয়েছে, এত তটস্থ হয়ে আছ কেন?
বনের সিংহ হুঙ্কার দিলে মানুষের মনে ভয় জাগে।
নিজের কলমটা খুঁজে না পেয়ে সে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে দিয়েছে।
দিগন্তের ওপারে কী আছে কেউ জানে না।
মেজাজ তিরিক্ষি বলে তার কাছে কেউ ঘেঁষতে চায় না।
তুমি এত শঙ্কিত কেন? কী হয়েছে?
আমরা এখন মুক্ত স্বাধীন।
দেখব না আর হাতির ছায়া
মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল যে ইঁদুর।
বাঘ, ভালুক, সিংহ, বানর, হরিণ, বনবিড়াল, শিয়াল সবাই সলা-পরামর্শ করতে বসল।
প্রতিদিন তোমার অত্যাচারে আমরা কেউ বনে শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি
হাতিটার সে-কী বিশাল শরীর।
মেজাজটাও দারুণ তিরিক্ষি
পা-গুলো বটপাকুড় গাছের মতো মোটা ।
কিন্তু এভাবে কি দিন যায়?
সেও নদীতে নেমে পড়ল।
হাতি তো শিয়ালের কথা শুনে মহাখুশি। 'আচ্ছা চল' বলে সে শিয়ালের সাথে হাঁটা শুরু করল। নদীর পারে এসে শিয়াল বলল, এই আমি নদী সাঁতরে পার হচ্ছি। আপনিও আসুন . এই বলে শিয়াল নদীতে দিল ঝাঁপ।
বনে বনে পশুদের রাজত্ব ছিল।
শিয়াল তার বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়ে হাতির অত্যাচার থেকে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল। শিয়াল হাতিকে শায়েস্তা করার জন্য কৌশল অবলম্বন করল। তার কৌশলে হাতি নদীতে নেমে তলিয়ে যেতে থাকল। এভাবে শিয়াল তার বুদ্ধি দিয়ে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল।
হাতির অত্যাচারে বনের সব প্রাণী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অত্যাচারী হাতি থেকে রক্ষা পেতে বনের সবাই পরামর্শ করে শিয়ালকে হাতির আস্তানায় পাঠাল। শিয়াল হাতির নানা রকম প্রশংসা করে। নদীর ওপারের সবাই হাতিকে রাজা হিসেবে বরণ করে নিতে চায়- এ কথা শুনে হাতি খুশি মনে শিয়ালের ফাঁদে পা দিল। এভাবে বোকা হাতি শিয়ালের বুদ্ধির কাছে হার মানল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!