বেগম রোকেয়া যখন জন্মগ্রহণ করেন তখনকার বাঙালি সমাজে মেয়েদের শিক্ষাদীক্ষা গ্রহণ করা কিংবা ঘরের বাইরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। সারাক্ষণই চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে হতো। আর অল্পবয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো। সারা জীবন মেয়েরা আর কিছুই করতে পারে না। বাইরে কাজ করার অধিকারও তারা পেত না। এমনই অসহায় ও করুণ অবস্থা ছিল সেকালে মেয়েদের।
বাড়িতে আত্মীয় বেড়াতে এলে রোকেয়াকে লুকিয়ে থাকতে হতো। এমনিতেই তাকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে হতো। কিন্তু আত্মীয় এলে তাকে কখনো চিলেকোঠায়, কখনো সিঁড়ির নিচে, কখনো দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে হতো। ছেলে বা মেয়ে কারও সামনেই আসা যেত না। বাড়িতে আত্মীয় এলে অবরোধ প্রথার মধ্যেও বন্দি হয়ে যেতে হতো রোকেয়াকে।
রোকেয়ার সময়ে সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারত না। তাই রাত গভীর হলে বড়ো ভাইয়ের কাছে শুরু হতো রোকেয়ার জ্ঞানার্জন। বাবা-মা গভীর ঘুমে, সারা বাড়ি নীরব। মোমবাতি জ্বালিয়ে রোকেয়া বই নিয়ে বসতেন এবং বড়ো ভাই তাকে পাঠ দিতেন। রোকেয়া এভাবেই রাতের পর রাত কাটিয়ে দিয়েছেন, কখনো কখনো ভোর হয়ে গিয়েছে। এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়া শিখেছেন তিনি। তাই তার লেখাপড়া শেখাটা ছিল একটি লড়াইয়ের মতো। এজন্য প্রশ্নের উক্তিটিতে লেখাপড়াকে লড়াই বলা হয়েছে।
রোকেয়ার সময়ে মেয়েরা খুব পিছিয়ে ছিল। রোকেয়া সেটা বুঝতে পারেন। এসব বিষয়ে তাঁর মনে অনেক কথা জমে যায়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে তাঁর। তাই তিনি বাংলা ভাষায় লেখালেখি শুরু করলেন। মনের সব কথা, মনের সব ভাবনা তুলে ধরেন তাঁর লেখায়। মূলত এসব' বিষয় প্রকাশ করার জন্যই রোকেয়া বাংলা ভাষায় লেখালেখি শুরু করলেন।
ছোটোবেলায় রোকেয়া দেখেছিলেন মেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ নেই। তাদের অল্পবয়সে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সারা জীবন মেয়েরা আর কিছুই করতে পারে না। বাইরে কাজ করার অধিকারও তারা পায় না। পড়ালেখা ও বাইরে কাজ করে শুধু ছেলেরা। রোকেয়া মেয়েদের এই করুণ পরিস্থিতি দেখেছিলেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর রোকেয়া পিছিয়েপড়া মেয়েদের জন্য কিছু করতে চাইলেন। মেয়েদের লেখাপড়া করার স্কুল ছিল না। স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে তিনি কলকাতায় স্বামীর নামে একটা, প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন। শুরুতে এই স্কুলে ছাত্রীসংখ্যা পাঁচজন হলেও আস্তে আস্তে ছাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর মেয়েদের করুণ পরিস্থিতি বদলানোর জন্য তিনি বাংলা ভাষায় লেখালেখি শুরু করলেন। সেখানে তিনি নারীদের উন্নয়নে, নারীদের জাগরণের বিষয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর রোকেয়া নারীদের উন্নয়ন ও জাগরণের জন্য. এসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা যে সমাজে পিছিয়ে থাকে সেই সমাজের উন্নতি হতে পারে না। রোকেয়া ছোটোবেলা থেকে মেয়েদের করুণ পরিস্থিতি দেখেছেন। সেই প্রসঙ্গেই বলেছেন, দুই চাকার কোনো গাড়ি চলতে হলে চাকা দুটোকে সমান হতে হয়। একটা চাকা ছোটো আরেকটা বড়ো হলে সেই গাড়ি সামনের দিকে এগোতে পারে না। সমাজে মেয়ে আর ছেলে হচ্ছে গাড়ির চাকার মতো। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা যদি পিছিয়ে থাকে, সেই সমাজের উন্নতি হতে পারে না।
Related Question
View Allরোকেয়ার জীবন ছিল ঘরবন্দি। তাঁর কোথাও যাওয়ার অনুমতি ছিল না। ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, কারও সামনে যাওয়াও নিষেধ ছিল। এমনকি সে যদি মেয়ে হয় তার সামনেও না।
অবরোধ মানে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকা। আর যে 'প্রথার কারণে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকতে হয় তা-ই অবরোধ প্রথা।
আসলে রোকেয়ার সময়টাই ছিল এমন যে, সে সময় মেয়েদের না ছিল লেখাপড়ার অধিকার, না ছিল বাইরে বেরোনোর স্বাধীনতা। সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে মেয়েরা 4 তখন লেখাপড়া করতে পারত না।
বাড়িতে লোক এলে রোকেয়াকে লুকিয়ে থাকতে হতো। তাঁকে কখনো চিলেকোঠায়, কখনো সিঁড়ির নিচে, কখনো দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকতেন।
রোকেয়া সারা জীবন মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষিত করে সচেতন করতে চেয়েছেন। নারীদের জাগরণে তিনি লেখালেখি করেছেন। তাই নারী-জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর। মহীয়সী এই নারী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!




