স্বামী মারা যাওয়ার পর রোকেয়া পিছিয়েপড়া মেয়েদের জন্য কিছু করতে চাইলেন। মেয়েদের লেখাপড়া করার স্কুল ছিল না। স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে তিনি কলকাতায় স্বামীর নামে একটা, প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন। শুরুতে এই স্কুলে ছাত্রীসংখ্যা পাঁচজন হলেও আস্তে আস্তে ছাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর মেয়েদের করুণ পরিস্থিতি বদলানোর জন্য তিনি বাংলা ভাষায় লেখালেখি শুরু করলেন। সেখানে তিনি নারীদের উন্নয়নে, নারীদের জাগরণের বিষয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর রোকেয়া নারীদের উন্নয়ন ও জাগরণের জন্য. এসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
Related Question
View Allরোকেয়ার জীবন ছিল ঘরবন্দি। তাঁর কোথাও যাওয়ার অনুমতি ছিল না। ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, কারও সামনে যাওয়াও নিষেধ ছিল। এমনকি সে যদি মেয়ে হয় তার সামনেও না।
অবরোধ মানে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকা। আর যে 'প্রথার কারণে বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকতে হয় তা-ই অবরোধ প্রথা।
আসলে রোকেয়ার সময়টাই ছিল এমন যে, সে সময় মেয়েদের না ছিল লেখাপড়ার অধিকার, না ছিল বাইরে বেরোনোর স্বাধীনতা। সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে মেয়েরা 4 তখন লেখাপড়া করতে পারত না।
বাড়িতে লোক এলে রোকেয়াকে লুকিয়ে থাকতে হতো। তাঁকে কখনো চিলেকোঠায়, কখনো সিঁড়ির নিচে, কখনো দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকতেন।
রোকেয়া সারা জীবন মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষিত করে সচেতন করতে চেয়েছেন। নারীদের জাগরণে তিনি লেখালেখি করেছেন। তাই নারী-জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর। মহীয়সী এই নারী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩২ সালের ৯ই ডিসেম্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!