সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
আনমনা কবির বসন্তের প্রতি ঔদাসীন্যের কারণে এ বসন্তে কবির পুষ্পসাজ নেই।
বসন্তের আগমনে সমগ্র প্রকৃতি যেন নবরূপ লাভ করে। বাহারি ফুল আর পাতায় সজ্জিত হয় বৃক্ষরাজি। স্বভাবতই কবিরাও বসন্ত-বন্দনায় মগ্ন হন। কিন্তু প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় কাতর কবির পক্ষে বসন্তকে বরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাহারি ফুলে সুসজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে কবিমন শীতের রিক্ততাকেই অবলম্বন করেছেন, যা আলোচ্য পড়িটিতে কবিভক্তের প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।
প্রিয়জন হারানোর শোকে রিক্ততার হাহাকার ও বর্তমানের প্রতি নিস্পৃহতার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য রয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে। তাই বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা।
উদ্দীপকের রত্না একজন গার্মেন্টস কর্মী। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন 'অটিস্টিক' ও বাশক্তিহীন ছেলেটিও একদিন হারিয়ে যায়। সন্তান হারানোর শোকে পাগলপ্রায় রত্না সবকিছু ছেড়ে ছেলেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনার এ দিকটি 'তাহাকেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনোভাবেও লক্ষ করা যায়। তিনিও প্রিয়জন তথা স্বামীকে হারিয়ে বর্তমান কর্মকাণ্ডে নিস্পৃহতার পরিচয় দিয়েছেন।
ছেলে হারানো রত্নার পাগলপ্রায় হয়ে যাওয়ার বিপরীতে স্বামীর মৃত্যুশোকে কবির মগ্ন থাকার বিষয়টি পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া। আলোচ্য মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তিতে পেয়েছে। বসন্ত প্রকৃতির অপরূ সৌন্দর্য কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগানোর কথা থাকলেও প্রিয়জন হারানোয় কবি শোকাচ্ছন্ন। স্বামীকে হারিয়ে কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে আসে রিক্ততার হাহাকারে। তাই বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা।
উদ্দীপকের রত্না একজন গার্মেন্টস কর্মী। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাকে এ পথে আসতে হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে সে কাজ করে। কিন্তু বাকশক্তিহীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেটি কোথায় যেন হারিয়ে যায়। এতে সে পাগলপ্রায় হয়ে ছেলেকে খুঁজে বেড়ায়।
উদ্দীপকের রত্না এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি উভয়েই তাঁদের প্রিয়জন হারানোর বেদনায় শোকাচ্ছন্ন। রত্না পাগলপ্রায় হয়ে ঘুে বেড়ালেও কবির পক্ষে তা সম্ভব নয়; তবে তিনি শোকাচ্ছন্ন হয়ে বসন্তের আগমনকেও উপেক্ষা করেন। তার নিস্পৃহতাই শোকের গভীরত জানান দেয়। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে তাই বলা যায় যে, 'প্রিয়জন হারানোর বেদনা কবিতা এবং উদ্দীপকে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত' হয়েছে।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!