শারীরিক ও মানসিক যেকোনো পরিশ্রমের পর যে অবসাদ আসে তাকেই ক্লান্তি বলে।
অধিক পরিশ্রমের ফলে শরীরে ল্যাকটিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেয়। দেহে যদি সোডিয়াম ফসফেটের মতো কোনো রাসায়নিক দ্রব্য প্রবেশ করানো যায়, তবে ল্যাকটিক এসিডের প্রভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্লান্তি হ্রাস পায়।
রহিমা বেগম সারাদিন পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করেন এবং একাই সবার কাজ করেন। ফলে তিনি ক্লান্ত হয়ে যান এবং তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। তাই সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে সবাই তার উপর বিরক্ত হয়। এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় তার ক্লান্তি হ্রাস করা। রহিমা বেগমের ক্লান্তি হ্রাস করতে হলে যা যা করতে হবে সেগুলো
হলো-
১. রহিমা বেগমকে সময় পরিকল্পনা করতে হবে।
২. শক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তাকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলেই শারীরিক ক্লান্তির উৎপত্তি হয়।
৩. কাজ এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে একটি ভারি কাজের পর হালকা কাজ থাকে।
৪. শ্রম লাঘবের জন্য কাজ সহজকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
৫. কাজের মাঝে বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে Work Curve সম্পর্কে জানতে হবে। দিনের শুরুতে কর্মশক্তি যা থাকে মধ্যাহ্নে তা বৃদ্ধি পায় এবং দুপুরের পর কমতে থাকে। তাই Work Curve সম্পর্কে অবগত থাকলে সেভাবে কর্মপরিকল্পনা করে ক্লান্তি সহজেই হ্রাস করা সম্ভব।

৬. কাজ করার সময় শরীরের অবস্থান সঠিক থাকলে এবং মাংসপেশি কার্যকরভাবে চালিত করলে ক্লান্তি কম হয়।
৭. শারীরিক অথবা মানসিক যে কোনো ক্লান্তি দূর করতে হলে প্রথমে তার কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। এরপর ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
৮. কাজের সময় যতটুকু সম্ভব বৈচিত্র্য আনতে হবে।
সুতরাং, কাজ করার সময় রহিমা বেগমকে আরো বেশি কৌশলী হতে হবে। তাহলেই তার শারীরিক ক্লান্তি হ্রাস পাবে এবং তিনি সকলের নিকট পছন্দনীয় হবেন।
Related Question
View Allপ্রকৃত আয় পরিবারের নির্দিষ্ট সময়ে ভোগ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম দ্বারা গঠিত। প্রকৃত আয় বাড়ানোর উপায়গুলো হলো-
যখন বিভিন্ন দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হ্রাসকৃত মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করে তখন সেগুলো কেনা। পরিচিত ব্যক্তি যেমন- চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশার ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে সেবা লাভ করে আয় বাড়াতে পারে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেও প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়। যেমন: সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ।
কাজ ও সময়কে ভিত্তি করে যে পরিকল্পনা করা হয় তাই সময় তালিকা।
মিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই তার কলেজে যেতে দেরি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে টিভি দেখে। পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করতে পারে না। এই সমস্যা দূর করতে মিতার সময় তালিকা অনুসরণ করা উচিত।
মিতার জন্য কলেজ খোলার দিনের একটি সময় তালিকা উল্লেখ করা হলো-
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা | মিনিট | ||
| ৬.০০-৭.০০ | ঘুম থেকে ওঠা, বিছানা গোছানো, হাতমুখ ধোয়া, ধর্মীয় কাজ করা, নিজস্ব কোনো কাজ করা। | ১ | ০০ |
| ৭.০০-৭.৩০ | নাস্তা তৈরিতে সাহায্য করা, নাস্তা খাওয়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.৩০-৯.০০ | পড়াশোনা করা | ১ | ৩০ |
| ৯.০০-১০.৩০ | টিউটর থাকলে পড়া/লেখাপড়া করা। | ১ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.০০ | গোসল করা, খাওয়া, কলেজের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ৩০ |
| ১১.০০-০৪.৩০ | শ্রেণিকক্ষে অবস্থান, পাঠে মনোযোগ দেওয়া। | ৫ | ৩০ |
| ৪.৩০-৫.০০ | বাসায় পৌছানো, নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| সময় | কার্য বিবরণী | সময়ের পরিমাণ | |
| ঘণ্টা |
মিনিট | ||
| ৫.০০-৬.৩০ | বিশ্রাম ও হালকা নাস্তা খাওয়া, বাড়ির কাজে সাহায্য করা। | ১ | ৩০ |
| ৬.৩০-৭.০০ | নামাজ পড়া। | ০ | ৩০ |
| ৭.০০-১০.৩০ | পড়াশোনা করা। | ৩ | ৩০ |
| ১০.৩০-১১.১০ | নামাজ পড়া, খাওয়া | ০ | ৪০ |
| ১১.১০-১১.২০ | দাঁত ব্রাশ করা, ঘুমের জন্য তৈরি হওয়া। | ০ | ১০ |
| ১১.২০-৬.০০ | ঘুমানো। | ৬ | ৪০ |
| মোট সময় | ২৪ ঘণ্টা | ০০ | |
কাজ সহজকরণের উপায় হলো কাজকে সহজ উপায়ে সম্পাদন করা।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সময় ও শক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো কাজ সহজে সম্পন্ন করার পদ্ধতিই হলো কাজ সহজকরণ পদ্ধতি।
-সহজকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করলে সমস্যায় পড়তে হয় না। যেমন- কাজের সময় দুই হাত ব্যবহার করা, সঠিক দেহভঙ্গি নিয়ে
কাজ করা, যেকোনো কাজ করার সময় কাজের ধারা সম্পর্কে ধারণা থাকা, ভারি কাজের পর হালকা কাজ করা ইত্যাদি। কাজের সরঞ্জাম সরল ও মজবুত হতে হবে। কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন এনেও কাজ সহজ করা যায়। যেমন- শাকসবজি একবারে ধুয়ে কাটার পর পাত্রে রাখা, যেন অন্য পাত্রে রাখার প্রয়োজন না হয়। উৎপাদিত দ্রব্য পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- গৃহিণী টেবিল ক্লথের পরিবর্তে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ধোয়ার জন্য সময় ও শক্তি ব্যয় হবে না। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ সহজ ও সংক্ষেপে করার জন্য অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হচ্ছে যা সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যেমন- ওয়াশিং মেশিন, প্রেসার কুকার ইত্যাদি।
সুতরাং, কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব। মিতার বাবার এই উক্তিটি যথার্থ।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ সহজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহৃত দ্রব্যের পরিবর্তন করেও সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করা যায়। যেমন- খাবার টেবিলে কাপড়ের টেবিল ক্লথ ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের টেবিল ক্লথের উপর টেবিল ম্যাট ব্যবহার করলে গৃহ ব্যবস্থাপকের পরিশ্রম কম হয়, সহজেই টেবিল পরিষ্কার করা যায়। এতে সময় ও শক্তি ব্যয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!