যুক্তিবিদ্যা হলো আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
যুক্তিবিদ্যা ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কে সুসংহত ও যুক্তিসম্মত আলোচনা করে। প্রত্যক্ষের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর বিষয় বা বস্তুর জ্ঞান লাভ করাই মানুষের লক্ষ্য। যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হাতিয়ার বিচারমূলক চিন্তা। চিন্তা হলো জ্ঞানের উপায়। এরূপ চিন্তাই যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। তাই যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তা সম্পর্কীয় বিজ্ঞান বলা হয়।
শিমুলের পরামর্শ কম্পিউটার, গণিতসহ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সকল বিষয়ের সাথে যুক্তিবিদ্যার মৌলিক মিল আছে। এ থেকে মনে হয় যুক্তিবিদ্যা কলা ও বিজ্ঞান উভয়ই। যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বিজ্ঞান, যা এমন কতকগুলো সাধারণ নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করে; যাদের সাহায্যে আমরা যেকোনো ধরনের বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে চিন্তা করতে পারি। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব নিয়মনীতি অনুসরণ করে, যুক্তিবিদ্যা সে সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান, দান করে। আবার যুক্তিবিদ্যা হলো কলা, কারণ এটি যুক্তির সাধারণ নিয়মাবলিকে বা চিন্তা ও যুক্তিকে সঠিকভাবে প্রয়োগের কলা কৌশল জ্ঞান দান করে। সেজন্য যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই।
আলোচ্য উদ্দীপকটিতে আমরা যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে শিমুলের মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত হই। শিমুল উল্লেখ করেছেন "যুক্তিবিদ্যা মানুষের মানসিক বৃত্তি ও চিন্তার বিকাশ ঘটায় এবং চিন্তাকে পরিশীলিত ও বিকশিত করে।” যুক্তিবিদ্যা ভালো যুক্তি ও মন্দ যুক্তি, শুদ্ধ যুক্তি ও অশুদ্ধ যুক্তি, বৈধ ও অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে থাকে। এবং মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তিবিদ্যা মানুষকে অনুমানের নিয়মাবলি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে শেখায়। যার ফলে মানুষের যুক্তিপ্রদর্শনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। মানুষ অন্যের যুক্তির ভুলভ্রান্তি খণ্ডন করে নির্ভুলভাবে যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। যুক্তিবিদ্যা মানুষের মন থেকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করে দেয়। মানুষের মানসিক নিয়মানুবর্তিতা বৃদ্ধি পায় এবং দৈনন্দিন জীবনে চলার পথ সুগম হয়। যুক্তিবিদ্যার অনুশীলন ও চর্চা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে শক্তিশালী ও সবল করে তোলে এবং মানুষের ধীশক্তি ও মেধাশক্তিকে প্রখর করে তোলে। যথার্থভাবে যুক্তিবিদ্যার অনুশীলনে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও চিত্ত উন্নত হয় এবং মানসিক উৎকর্ষা বৃদ্ধি পায়। যুক্তিবিদ্যা জ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি হিসাবে কাজ করে এবং মানুষকে সঠিক নিয়মকানুন সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। এভাবে একজন মানুষ যুক্তিবিদ্যার অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের জীবনকে যৌক্তিকভাবে পরিচালিত করতে পারে। মানসিক উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে নিয়ামাবলি অনুসরণ করে মানুষ তখন যুক্তিবিদ্যার নান্দনিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত আকর্ষণীয় দিককে উপলব্ধি করতে পারে। তাই বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!