লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে সংবাদপত্র দমন আইন বাতিল করেন।
লর্ড রিপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন।
লর্ড রিপন ভূমি রাজস্বের ক্ষেত্রে জমিদারদের ইচ্ছেমতো রাজস্ব বাড়ানোর নীতির বিরোধিতা করেন। তাই তিনি এ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। লর্ড রিপন সাম্রাজ্যবাদী নীতিরও বিরোধী ছিলেন। এজন্য তিনি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন।
উদ্দীপকে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের ব্যবস্থার সাথে ভারতে লর্ড কার্জনের সীমান্ত নীতির মিল রয়েছে।
ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা সুসংহত করার জন্য লর্ড কার্জন প্রথমেই সীমান্তবর্তী চিত্রল, খাইবার ও খুররম উপত্যকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেন। এগুলো সরাসরি ব্রিটিশশাসিত অঞ্চল না হওয়ায় কার্জন চেয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এ অঞ্চলের উপজাতীয়রা ব্রিটিশ সাহায্য নিয়ে নিজেদের রক্ষা করবে। তার এ নীতির কলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও শেষ পর্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বিরাজমান ছিল। এ নীতির সম্পূরক হিসেবে তিনি পেশোয়ারকে রাজধানী করে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করেন এবং এর শাসন পরিচালনার ভার দেন একজন চিহ্ন কমিশনারের ওপর। সীমান্ত এলাকায় যাতে দ্রুত সামরিক সাহায্য প্রেরণ করা যায় সেজন্য তিনি রাজধানী থেকে দরবাই, জামবুদ ও সোগাল পর্যন্ত সামরিক রেলপথ নির্মাণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ছিলেন শান্তিপ্রিয় উদারপন্থি শাসক। তিনি প্রজাদের কল্যাণসাধনের কথা উপলব্ধি করেন। তার শাসনামলে সাম্রাজ্য বিস্তার অপেক্ষা কল্যাণমুখী কাজ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তাই প্রজারা শান্তিতে বসবাস করে। তাই বলা যায়, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের ব্যবস্থার সাথে ভারতে লর্ড কার্জনের সীমান্ত নীতির মিল আছে
অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে লর্ড কার্জন ছিলেন খুবই দক্ষ- কথাটি যথার্থ।
লর্ড কার্জন নিজের উপলব্ধির ভিত্তিতে কাজ করার উদ্যোগ নিতেন।
সরকারের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান পুলিশের ওপরও তিনি নজর দেন। এজন্য অ্যান্ড্রু ফেজারের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। পে কমিশনের রিপোর্টে দেখা যায়, পুলিশ সংস্থাটি একেবারে অদক্ষ, প্রশিক্ষণবিহীন ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রের নিষ্পেষণমূলক। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কার্জন পুলিশ প্রশিক্ষণ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ও অপরাধ তদন্তের জন্য 'সেন্ট্রাল ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স' নামে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা গড়ে তোলেন। প্রথম দিকে এসব অফিসাররা কার্জনের কর্তৃত্বপরায়ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শীতল মনোভাব পোষণ করতেন, তবে শেষদিকে তারা নতিস্বীকার করেন এবং ব্রিটিশ আমলারা তাদের প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে অনুসরণ করেন, ঠিক সেভাবেই লর্ড কার্জনকে অনুসরণ করতে শুরু করেন।
সীমান্ত এলাকায় যাতে দ্রুত সামরিক সাহায্য প্রেরণ করা যায় সেজন্য তিনি রাজধানী থেকে দরবাই, জামবুদ ও লোথাল পর্যন্ত সামরিক রেলপথ নির্মাণ করেছিলেন। লর্ড কার্জন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ভাইসরয় হওয়ার পর সেনাবাহিনী সংস্কার কাজে হাত দেন। ভারতীয় বাহিনীকে তিনি দুটি কমান্ড: নর্দার্ন কমান্ড এবং সাউদার্ন কমান্ডে ভাগ করে সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টগুলোকে শক্তিশালী করেন। তার সময়ে ইংল্যান্ডের ক্যামারলি কলেজের আদলে সামরিক বাহিনীর অফিসারদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সময় ভারতীয় বাহিনীকে উন্নতমানের সমরাস্ত্রও সরবরাহ করা হয়। ১৯০৩ সালের পুলিশ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কার্জন ভারতীয় পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন। পরিশেষে বলা যায়, লর্ড কার্জন ছিলেন খুবই দক্ষ শাসক ছিলেন।
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!