ICT-র পূর্ণরূপ হলো- Information and Communication Technology.
ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিরাট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এ নেটওয়ার্ক পৃথিবীকে মানুষের হাতের মুটোয় এনে দিয়েছে। বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তেই খুব সহজে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগযোগ করতে পারে। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের UCLA ল্যাবরেটরিতে সর্বপ্রথম এর যাত্রা শুরু হয়। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযুক্ত হয়।
শফিকের ভূমিকায় সরকারের ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
ই-গভর্ন্যান্স মানে হলো ইলেকট্রনিক (electronic) গভর্ন্যান্স। এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় প্রযুক্তি চালিত গভর্ন্যান্স। সরকারি সেবা বণ্টন, তথ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য যোগাযোগ ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)'র ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার ও জনগণ, সরকার ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যকার বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃযোগাযোগ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই হলো ই-গভর্ন্যান্স (e-Governance)। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধান উপাদান হচ্ছে ইন্টারনেট, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন প্রভৃতি। ই-গভর্নেন্সে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয় মূলত এসব তথ্যপ্রযুক্তির উপাদনের মাধ্যমে। ফলে রাষ্ট্রয়ভাবে সরকার তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে জোর দেয় এবং জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এতে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি সহজলভ্য হয়, জনগণের নাগালের মধ্যে চলে আসে।
উদ্দীপকের শফিকের ভূমিকায় সরকারের ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়। একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মারামারি বেধে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শফিক মোবাইলে সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেই দৃশ্যাবলি যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়। এখানে বলা যায় যে, এখানে ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত আছে বলে তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা সরকার নিশ্চিত করেছে। শফিক তাই সহজেই মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমেবিষয়টি সরকার পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও ই-গভর্ন্যান্সের সাহায্যে অর্থাৎ উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে অতি দ্রুত অপরাধীদের আটক করতে পেরেছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের শফিকের ভূমিকাটি সরকারের ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিই নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের দ্বারা ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
উদ্দীপকে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মারামারি বেধে গেলে শফিক মোবাইলে সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই দৃশ্য যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হলো। উদ্দীপক পাঠে বোঝা যায় যে, দেশে ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেননা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেট ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সেবা উন্নয়নের পদ্ধতি হলো ই-গভর্ন্যান্স। এখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপাদান মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করেই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা গিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরি। আইনের শাসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানাধিকার, জনগণের মৌলিক অধিকারের, স্বীকৃতি ও সুরক্ষা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা, জনগণের অংশগ্রহণ, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, জবাবদিহিতা প্রভৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। আর এ সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো ই-গভর্ন্যান্স। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স যেসব ভূমিকা পালন করে সেগুলো হলো জনগণকে প্রদত্ত সেবার মান উন্নয়ন, সরকারি দপ্তরগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনের প্রয়োগ শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসমূহে নাগরিক অগ্রাধিকার উন্নীত করা, বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, জনজীবনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ প্রভৃতি। তাছাড়া ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সহজ হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয়। এতে করে দেশে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাছাড়া ই-গভর্ন্যান্স তথা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। কারণ প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে বিদেশে দেশীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরি। এটি সার্বিকভাবে রাষ্ট্রে সুশাসন আনয়ন করে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। শুধু তাই নয় ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে দেশে ও বিদেশে ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও জনগণের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!