ICT-এর পূর্ণরূপ হলো Information Communication and Technology.
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষের এসব মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে বলেই তারা এগুলোকে মেনে চলে ।
উদ্দীপকের শফিক সাহেব ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা ভোগ করছেন।। তিনি ই-কমার্স ও এম কমার্সের মাধ্যমে নিজ প্রয়োজনীয় জিনিস। পত্রাদি ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। এর ফলে শফিক সাহেবের সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয়। এর ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কাজের ক্ষেত্র ও পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। উৎপাদনের সকল অপচয় রোধ করে মূলত ই-গভর্ন্যান্স হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যার মাধ্যমে সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক তথ্যসমূহ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে জনগণের কাছে পৌছে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। জনগণ অনলাইনের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তাবিত নীতিমালার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত জানাতে পারে। এতে সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে শফিক সাহেব ই-গভর্ন্যান্সের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তার জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সময় ও খরচ এর সাশ্রয় হয়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো ই-গভর্ন্যান্স। হ্যাঁ, এর কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে আমি মনে করি। ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে ওয়েবসাইট হ্যাকিং, আইনগত কাঠামোর অভাব এবং অপর্যাপ্ত মানব সম্পদ, বিদ্যুৎ সম্পদের অপ্রতুলতা প্রভৃতি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ওয়েবসাইট হ্যাকিং-এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্তসমূহ চুরি।
হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরূপ সাইবার অপরাধ যেকোনো রাষ্ট্রের ই-গভর্ন্যান্সের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এসব অপরাধ সংঘটিত হলে রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাসহ ব্যাংক, বিমা, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চরম অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশেও প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষা দীক্ষায় শিক্ষিত জনগণের সংখ্যা অনেক কম। তাই ই-গভর্ন্যান্স এখনও বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। এটি সময়গত ব্যাপার এবং সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা খুব সহজেই সম্ভব। এছাড়া ই-গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা নির্ধারিত না হলে ই-গর্ভন্যান্সের কার্যকর ভূমিকা লক্ষ করা যায় না এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা লক্ষ্য করা যায়। ই-গর্ভন্যান্সের ক্ষেত্রে অন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা লক্ষ করা গেছে তা হলো অপর্যাপ্ত মানবসম্পদ। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি রাষ্ট্রই আর্থিকভাবে বেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু নাগরিকদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম বিধায় সেখানে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষা দীক্ষায় শিক্ষিত জনগণের সংখ্যা অনেক কম বিধায় ই-গভর্ন্যান্স এখন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। এটি সময়গত ব্যবস্থার। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ই-গভর্ন্যান্সের বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!