শব্দ দূষণ (Noise Pollution) হলো এমন অবাঞ্ছিত, অতিরিক্ত বা বিরক্তিকর শব্দ যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। সাধারণত ৭০ ডেসিবেলের (dB) বেশি শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি ও মনঃসংযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শব্দ দূষণের প্রধান উৎসগুলোঃ
১. যানবাহনের শব্দঃ বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, হর্ন, রিকশার ঘণ্টা ইত্যাদি।
২. শিল্প-কারখানাঃ মেশিনের চলার শব্দ, জেনারেটর, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হয়।
নির্মাণ কাজঃ ভবন নির্মাণ, খনন কাজ, রোড কাটিং এ ধরনের কাজ উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টি করে।
মাইক্রোফোন ও উচ্চস্বরে গানঃ বিয়ের অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা মেলা ইত্যাদিতে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারে শব্দ দূষণ হয়।
বিমান ও রেল চলাচলঃ বিশেষ করে শহরের কাছাকাছি অবস্থিত বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনের আওয়াজ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা লাইব্রেরির কাছে অপ্রয়োজনীয় শব্দঃ যেখানে নীরবতার প্রয়োজন, সেখানে শব্দ দূষণ আরও ক্ষতিকর।
- শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবঃ
- শ্রবণশক্তি হ্রাস বা কানে ব্যথা
- রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
- ঘুমের ব্যাঘাত
- মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা
- শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে বাধা
শব্দ দূষণ রোধের উপায়ঃ
১. আইন বাস্তবায়নঃ সরকার ঘোষিত শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
যানবাহনে হর্ন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণঃ "নো হর্ন জোন" চিহ্নিত এলাকা প্রতিষ্ঠা ও জরিমানার ব্যবস্থা।
সাউন্ড লিমিটার ব্যবহারে বাধ্য করাঃ মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ইত্যাদিতে সর্বোচ্চ শব্দসীমা নির্ধারণ।
সচেতনতা বৃদ্ধিঃ গণমাধ্যম, স্কুল, সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানানো।
সবুজ বেষ্টনি গঠনঃ গাছপালা ও সবুজ দেয়াল শব্দ শোষণে সহায়ক, বিশেষ করে সড়কের পাশে।
শিক্ষা ও হাসপাতালের আশেপাশে শান্ত এলাকা ঘোষণা করাঃ এসব এলাকায় যান্ত্রিক শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!