আলোচ্য উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ থেকে গৃহীত। এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস এবং বাহ্যিক আড়ম্বরকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করেছেন। এটি একটি গভীর সামাজিক ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক উক্তি।
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি" কথাটির দ্বারা লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, সমাজে প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বা কল্যাণকর কাজের চেয়ে ধর্মীয় লেবাসধারী, অলস ও অনুৎপাদনশীল মানুষের সংখ্যা বেশি। 'শস্য' এখানে উৎপাদনশীলতা, মানবকল্যাণ ও বাস্তব উপযোগিতার প্রতীক, যা মানুষের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, 'টুপি' হলো ধর্মের বাহ্যিক প্রতীক বা লোকদেখানো ধার্মিকতার চিহ্ন। অর্থাৎ, প্রকৃত কাজ না করে শুধু ধর্মীয় পোশাক পরে বা ভান করে সমাজে এক শ্রেণির মানুষ পরজীবী হয়ে জীবনযাপন করে, যা সমাজের জন্য কোনো ফল বয়ে আনে না।
"ধর্মের আগাছা বেশি" বলতে বোঝানো হয়েছে যে, ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা হলেও, কালের বিবর্তনে বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে ধর্ম তার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলেছে। 'আগাছা' যেমন মূল ফসলের বৃদ্ধিকে বাধা দেয় এবং পুষ্টি শোষণ করে ফসলকে দুর্বল করে তোলে, তেমনি ধর্মের নামে প্রচলিত কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ভণ্ডামি, ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষ প্রকৃত ধর্মবোধকে বিনষ্ট করে দেয়। এগুলো ধর্মের মৌলিক আদর্শকে কলুষিত করে এবং সমাজে বিভেদ ও হানাহানি সৃষ্টি করে।
মোটকথা, এই উক্তিটির মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমাজকে ধর্মের নামে প্রচলিত ভণ্ডামি ও অসারতা সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছেন। তিনি প্রকৃত ধর্ম বলতে বোঝাতে চেয়েছেন মানবতা, কর্মফল ও নীতিপরায়ণতাকে, যেখানে বাহ্যিক প্রদর্শনের কোনো স্থান নেই।
Related Question
View Allকুলসুম ছিলেন জহির রায়হান রচিত 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী। খালেক ব্যাপারী একজন স্বার্থপর, ধূর্ত ও শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কুলসুমকে বিবাহ করেন। কুলসুম সরলমনা ও নিরুপায় এক নারী ছিলেন, যিনি খালেক ব্যাপারীর লোভী স্বভাব এবং একুশের চেতনার প্রতি তার অবজ্ঞার নীরব সাক্ষী ছিলেন। খালেক ব্যাপারীর চরিত্রের অমানবিকতা এবং তার শোষক রূপকে তুলে ধরতে কুলসুমের চরিত্রটি পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!