কুলসুম ছিলেন জহির রায়হান রচিত 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী। খালেক ব্যাপারী একজন স্বার্থপর, ধূর্ত ও শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কুলসুমকে বিবাহ করেন। কুলসুম সরলমনা ও নিরুপায় এক নারী ছিলেন, যিনি খালেক ব্যাপারীর লোভী স্বভাব এবং একুশের চেতনার প্রতি তার অবজ্ঞার নীরব সাক্ষী ছিলেন। খালেক ব্যাপারীর চরিত্রের অমানবিকতা এবং তার শোষক রূপকে তুলে ধরতে কুলসুমের চরিত্রটি পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।
আলোচ্য উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ থেকে গৃহীত। এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস এবং বাহ্যিক আড়ম্বরকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করেছেন। এটি একটি গভীর সামাজিক ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক উক্তি।
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি" কথাটির দ্বারা লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, সমাজে প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বা কল্যাণকর কাজের চেয়ে ধর্মীয় লেবাসধারী, অলস ও অনুৎপাদনশীল মানুষের সংখ্যা বেশি। 'শস্য' এখানে উৎপাদনশীলতা, মানবকল্যাণ ও বাস্তব উপযোগিতার প্রতীক, যা মানুষের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, 'টুপি' হলো ধর্মের বাহ্যিক প্রতীক বা লোকদেখানো ধার্মিকতার চিহ্ন। অর্থাৎ, প্রকৃত কাজ না করে শুধু ধর্মীয় পোশাক পরে বা ভান করে সমাজে এক শ্রেণির মানুষ পরজীবী হয়ে জীবনযাপন করে, যা সমাজের জন্য কোনো ফল বয়ে আনে না।
"ধর্মের আগাছা বেশি" বলতে বোঝানো হয়েছে যে, ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা হলেও, কালের বিবর্তনে বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে ধর্ম তার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলেছে। 'আগাছা' যেমন মূল ফসলের বৃদ্ধিকে বাধা দেয় এবং পুষ্টি শোষণ করে ফসলকে দুর্বল করে তোলে, তেমনি ধর্মের নামে প্রচলিত কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ভণ্ডামি, ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষ প্রকৃত ধর্মবোধকে বিনষ্ট করে দেয়। এগুলো ধর্মের মৌলিক আদর্শকে কলুষিত করে এবং সমাজে বিভেদ ও হানাহানি সৃষ্টি করে।
মোটকথা, এই উক্তিটির মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমাজকে ধর্মের নামে প্রচলিত ভণ্ডামি ও অসারতা সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছেন। তিনি প্রকৃত ধর্ম বলতে বোঝাতে চেয়েছেন মানবতা, কর্মফল ও নীতিপরায়ণতাকে, যেখানে বাহ্যিক প্রদর্শনের কোনো স্থান নেই।
Related Question
View Allউদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য খুঁজে বের করতে হলে প্রথমে উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হতে হবে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট হলো বিশ শতকের চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকের গ্রামীণ বাংলা, যেখানে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং ধর্মভীরুতা গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। এই সমাজে ধর্মকে পুঁজি করে একশ্রেণির মানুষের শোষণ ও ক্ষমতার দাপট ছিল প্রকট।
সাধারণত, 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ উদ্দীপকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়:
- অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার: উদ্দীপকে এমন কোনো গ্রামীণ সমাজের চিত্র থাকে যেখানে মানুষ যুক্তি-বুদ্ধি ছেড়ে অন্ধবিশ্বাসে ডুবে থাকে। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একটি কাল্পনিক মাজার স্থাপন করে গ্রামবাসীদের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এই অন্ধবিশ্বাস গ্রামের মানুষকে আধুনিকতা বা প্রগতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
- ধর্মকে ব্যবহার করে শোষণ: উদ্দীপকে প্রায়শই দেখা যায়, ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে বা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একদল মানুষ সরলমনা ও অশিক্ষিত মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করছে বা তাদের শোষণ করছে। মজিদ ঠিক এই কাজটিই করে; সে ধর্মকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা অর্জন করে এবং গ্রামবাসীর উপর নিজের প্রভাব বজায় রাখে।
- দারিদ্র্য ও অশিক্ষা: উদ্দীপকের বর্ণনায় গ্রামের মানুষের চরম দারিদ্র্য এবং শিক্ষার অভাব তুলে ধরা হয়, যা তাদের অন্ধবিশ্বাসী ও শোষিত হওয়ার প্রধান কারণ। 'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামের মানুষের দরিদ্র জীবনযাপন এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই অশিক্ষাই তাদের যুক্তিহীন জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।
- স্থবির গ্রামীণ সমাজ: উদ্দীপকে এমন একটি সমাজের চিত্র দেওয়া হয় যেখানে পরিবর্তন বা প্রগতি খুব ধীর গতিতে আসে বা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজও ছিল স্থবির ও রক্ষণশীল, যেখানে কোনো পরিবর্তনের উদ্যোগ (যেমন হাসুনির মায়ের প্রতিবাদ বা আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা) সহজেই দমন করা হয়।
সুতরাং, যখন কোনো উদ্দীপক উপরোক্ত বিষয়াবলি—যেমন: অশিক্ষা, দারিদ্র্য, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, ধর্মকে ব্যবহার করে শোষণ, এবং প্রগতিবিরোধী গ্রামীণ সমাজের চিত্র—তুলে ধরে, তখন তা সরাসরি 'লালসালু' উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপটের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধর্মের নামে মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের ফায়দা লুটে চলেছে এবং সমাজকে অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!