ঘাতকের থাবার সম্মুখে বুক পাতে বরকত।
'নক্ষত্রের মতো ঝরে অবিরত অবিনাশী বর্ণমালা'- বলতে কবি ভাষা-আন্দোলনের ঘটনাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
মাতৃভাষার মান বাঁচাতে রাজপথে নেমে এসেছিল সালাম, বরকতের মতো অসংখ্য বিপ্লবী মানুষ। সালামের হাতে ছিল ফ্ল্যাগ বা ব্যানার। ঘাতকের গুলিতে সালাম ও বরকত মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়লে সেইসব ব্যানারও পড়ে যায়। তবুও অবিনাশী হয়ে থাকে নক্ষত্রের মতো বাংলা ভাষার বর্ণগুলো- প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে কবি এ বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সংগ্রামী চেতনার মিল রয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা থেকে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ অপশক্তি ও দুঃশাসনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলনে নেমেছিল। এই আন্দোলনে শাসক শ্রেণির বুলেটে বিদ্ধ হয়ে প্রাণ যায় অনেকের। কিন্তু তাতে দমে না গিয়ে সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপক আন্দোলনে লিপ্ত হয়। যেকোনো মূল্যে তারা অধিকার ছিনিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর হয়। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বেগবান আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় গণমানুষের সংগ্রামী চেতনায় ভর করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শহিদের পুণ্য রক্তে স্নাত বাঙালি ব্যাপক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। বাংলার নগর, বন্দর, এমনকি বাষট্টি হাজার গ্রাম তথা পুরো বাংলার সাত কোটি মানুষ এক একটি আন্দোলনের দুর্গে পরিণত হয়। প্রত্যেকের মনে সংগ্রামী চেতনার উন্মেষ ঘটে। শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে তারা বদ্ধপরিকর হয়। আন্দোলনে এই মানুষগুলোর উজ্জীবিত হওয়ার মূলমন্ত্র হলো সংগ্রামী চেতনা, যা শহিদের রক্তস্রোতে আরও বেগবান হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার একই ধরনের সংগ্রামী চেতনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা থেকে উৎসাহিত ভাবনা ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির চেতনা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় শোষকের বিরুদ্ধে জনতার সংঘবদ্ধ সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। কবি দেখিয়েছেন যে, জনতা - একত্রিত হলে শোষকের ভিত যতই শক্ত হোক না কেন তা অচিরেই নড়বড়ে হয়ে যায়। '৬৯ সালের গণ-আন্দোলন অন্তত এটা বুঝিয়েছে যে, জনগণের শক্তি অফুরন্ত, এর বেগ স্রোতঃস্বিনীর স্রোতের চেয়েও প্রবল।
উদ্দীপক থেকে বাংলার মানুষের এক সর্বস্তরব্যাপী জাগরণের কথা বুঝতে পারা যায়। কিছু মানুষকে শাসকগোষ্ঠী হত্যা করলে এ আন্দোলন আরও বেগবান হয়। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র প্রতিবাদী মানুষের প্রতিবাদের ঢেউ বন্যার স্রোতের মতো বইতে থাকে। সাত কোটি মানুষ সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শাসকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক একটি দুর্গে পরিণত হয়।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের আসন্ন জয় নিয়ে আশাবাদী। তিনি মনে করেন, '৫২ সালে যে চেতনার মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা গেছে, ঠিক একই চেতনা '৬৯ এর গণজাগরণ শোষকের দুঃশাসন থেকে মুক্তি এনে দিবে। অন্যদিকে উদ্দীপকে এটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, জনতার বিজয় খুবই নিকটবর্তী হয়ে এসেছে। জনতার এই জাগরণ মূলত সংগ্রামী চেতনা থেকে উৎসারিত, যা অনেকদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও অত্যাচার থেকে জন্ম লাভ করেছে। সুতরাং উদ্দীপকের বিষয় ভাবনার সঙ্গে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির চেতনা একসূত্রে গাঁথা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!