'Logic'- এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসাবে 'তর্কশাস্ত্র', 'তর্কবিদ্যা', 'ন্যায়শাস্ত্র', 'ন্যায়বিদ্যা', 'তর্কবিজ্ঞান', 'যুক্তিবিজ্ঞান', 'যুক্তিবিদ্যা' প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়।
যুক্তিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Logic'. যুক্তিবিদ্যার ইতিহাস থেকে জানা যায় ইংরেজি 'Logic' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'Logike' থেকে । 'Logike' শব্দটি 'Logos' শব্দের বিশেষণ। 'Logos' শব্দের অর্থ চিন্তা, শব্দ বা ভাষা। অতএব, ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে যুক্তিবিদ্যার অর্থ দাঁড়ায় ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান বা চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
যুক্তিবিদ্যার মূল উপাদান হলো 'অনুমান'। উদ্দীপকে শামীমের উক্তিটি অনুমান নির্ভর অবধারণ। তাই অবশ্যই এটি যুক্তিবিদ্যার অন্তর্গত। যুক্তিবিদ্যার ইতিহাসে যুক্তির দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা : অবরোহ পদ্ধতি ও আরোহ পদ্ধতি। অবরোহ পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট যুক্তির শুরুতে প্রদত্ত এক বা একাধিক বাক্যের ভিত্তিতে একটি অনিবার্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আরোহ যুক্তিতে বাস্তব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে বাস্তবক্ষেত্রে সম্ভাব্য একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারায় দেখা যায়, সেই প্রাচীন যুগ থেকে আজ অবধি অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তের সত্যতা যুক্তির শুরুতে গৃহীত যুক্তিবাক্যের সত্যতা ও অসত্যতার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তের সত্যতা নির্ভর করে বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঠিকতার উপর। সেই প্রেক্ষাপট থেকে হাসিবের ধারণার মধ্যে যুক্তিবিদ্যার প্রভাব লক্ষণীয়।
হ্যাঁ, আরমানের ধারণার মধ্যে যুক্তিবিদ্যার পদ্ধতির প্রয়োগ লক্ষণীয়। মূলত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যার প্রথম আচার্য বা শিক্ষক। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন বিচারমূলক চিন্তাপদ্ধতি নিয়ে একটি বিশিষ্ট বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু গড়ে উঠতে পারে। তাঁর পূর্বসূরি সক্রেটিস ও প্লেটো এর উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেননি। এজন্য স্বাভাবিকভাবে এরিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়। মূলত তাঁর সময়কাল থেকেই যুক্তিবিদ্যা নানারকম পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে বিরামহীনভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে, অগ্রগতির দিকে অনবরত বিকশিত হচ্ছে। এ পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন দার্শনিক ও যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে যুক্তিবিদ্যা নানাভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, আলোচ্য বিষয় ও পরিসর সম্পর্কে পারস্পরিক ভিন্নমত সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে এরিস্টটল ও মধ্যযুগীয় তার্কিক সম্প্রদায়ের নীতিসমূহের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যুক্তিবিদ্যা। যুক্তিবিদ্যার সূত্রপাত ঘটে একটি যুক্তিবাক্যের সাথে আরেকটি যুক্তিবাক্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণে। বাক্যের সাথে বাক্যের সম্পর্ক কত প্রকারের, কত রকমের হতে পারে, বাক্যের অংশসমূহের বৈশিষ্ট্য কী, বাক্যের পারস্পর্য কীভাবে রক্ষিত হতে পারে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে যুক্তিবিদ্যা তার ক্রমবিকাশের ধারা অটুট রেখেছে। পর্যবেক্ষণ, তুলনা, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, সংজ্ঞা, পরীক্ষা, হেত্বাভাস বা ত্রুটি, যুক্তির বিকৃতি, যুক্তির অপপ্রয়োগ সকল ক্ষেত্রে সকল সময়ে যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের সাথে এ বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরবর্তীতে এরিস্টটলের স্বীকার্যমূলক যুক্তিচিন্তন প্রক্রিয়া উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের মধ্য দিয়ে জেভন্স, অলড্রিচ, হোয়েটলি, টমসন, ওয়েলটন, হ্যামিলটন, জে এস মিল, যোসেফ এবং আই এম কপি'র মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে।
পরিশেষে বলতে পারি, উনিশ শতকের মধ্য ভাগ থেকে দার্শনিক জর্জ বুলি যুক্তির ক্ষেত্রে আঙ্গিক ও প্রতীক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বার্টান্ড রাসেল, হোয়াইটহেড এ পদ্ধতিকে অধিকতর হারে ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা পূর্ণ একটি বিজ্ঞানরূপে প্রতিষ্ঠিা লাভ করে।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!