পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাব হলে মাছ দলবদ্ধভাবে পানির উপর ভেসে বেড়ায়। একে মাছের খাবি খাওয়া বলে।
মাছ চাষে লাভবান হতে চাইলে পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন করতে সূর্যের আলো অপরিহার্য। পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পৌছলে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন হবে না। অর্থাৎ প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য মাছ চাষে সূর্যালোক প্রয়োজন।
মাছ চাষের জন্য উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আদর্শ পুকুর তৈরিতে শাহীনকে তার খননকৃত পুকুরে নিচের ভৌত গুণাগুণগুলো অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে-
১. পানির বর্ণ: রং দেখে পানির উৎপাদন শক্তি আন্দাজ করা যায়। পানির রং সবুজ বা বাদামি হলে বোঝা যাবে পানিতে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য আছে। সুতরাং পানির রং সবুজ বা বাদামি করার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. পানির স্বচ্ছতা : পানির স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটার হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়। পানি ঘোলা হলে সূর্যালোক পানিতে প্রবেশ করতে পারে না। মাছ বড় হয় না।
৩. পানির গভীরতা: পানির গভীরতা মাছ চাষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানি গভীরতা কমপক্ষে ১.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ২ মিটার গভীরতা মাছ চাষের জন্য উত্তম।
৪. পানির তাপমাত্রা: পানির তাপমাত্রার উপরও মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। শীতকালে মাছের বৃদ্ধি কম হয় এবং গরম কালে বেশি বাড়ে। যেমন-রুই জাতীয় মাছ চাষের জন্য ২৫০-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উত্তম।
৫. সূর্যালোক: সূর্যালোকের উপর খাদ্য উৎপাদন নির্ভর করে। তাই পুকুর পাড়ের বড় গাছপালা কেটে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। পুকুরে ভাসমান কচুরিপানা, শ্যাওলা ও আগাছা ইত্যাদিও পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাঁধার সৃষ্টি করে।
মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন সকল ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ সম্পন্ন একটি আদর্শ পুকুর। যেখানে মাছ চাষের সব ধরনের অনুকূল, অবস্থা বজায় থাকে। এ ধরনের আদর্শ পুকুরে মাছ চাষ করলে মাছ তার বৃদ্ধির জন্য সব ধরনের উপাদান প্রয়োজনমতো পেয়ে থাকে। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে মাছ চাষের পুকুরটিতে যদি সকল ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ বিদ্যমান না থাকে তবে নানা উপাদানের অভাবে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে এবং পুকুরে নানা রকম রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে। এতে মাছের উৎপাদন খুবই কম হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই শাহীন পুকুর খননের পূর্বে উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিয়েছিল এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পুকুর খননের উদ্যোগ নেয়। শাহীনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে শাহীনকে একজন সফল মৎস্য খামারী হিসেবে গড়ে তুলবে।
Related Question
View Allজীবজন্তুর মৃতদেহ, বাড়ির গাছপালা, শাকসবজির অবশিষ্টাংশ, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র প্রভৃতি মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে জৈব পদার্থ বলে।
মাটির বুনট যদি বেলে প্রকৃতির হয় তবে চীনা, কাউন, ফুটি, আলু, তরমুজ ভালো হবে। মাটির বুনটের অর্ধেক যদি বালিকণা এবং বাকি অর্ধেক পলি ও কর্দম কণার হয় তবে সে মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো জন্মাবে। আবার যে মাটিতে কর্দম কণা বেশি থাকে সে মাটিতে ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি ভালো জন্মাবে। সুতরাং জমিতে ফসল উৎপাদন বুনটের উপর নির্ভরশীল।
মজিদের বাড়ির আবর্জনাগুলোকে সদ্ব্যবহারের সর্বোত্তম উপায় হলো এগুলো দিয়ে জৈব সার তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করা। জৈব সার তৈরির জন্য তাকে এমন একটি উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। এরপর উক্ত স্থানে আবর্জনাগুলো নিয়মিত জমাতে হবে। মাঝে মাঝে জমানো স্তরগুলো ওলটপালট করে দিতে। হবে। এতে করে অণুজীবের ক্রিয়ায় আবর্জনাগুলো পচে জৈব সার তৈরি হবে। তৈরিকৃত এ জৈব সার সে প্রয়োজনানুযায়ী তার ফসলের জমিতে প্রয়োগ করবে।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে মজিদ বাড়ির আঙিনার আবর্জনাগুলোকে জৈব সারে রূপান্তরের 'সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ফলে মজিদ যেসব সুবিধা পাবে তা হলো—
১. জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।
২. রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে যাবে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ফলে উৎপাদন
৩. জমির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ কম লাগবে।
৪. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
৫. বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।
এসব সুবিধা প্রাপ্তির কারণে মজিদের কৃষি কাজ অনেক সহজ ও লাভজনক হবে। সহজেই সে তার উৎপাদনকালীন কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।
পৃথিবীর নরম উপরিভাগকে সাধারণভাবে মাটি বলে। কিন্তু মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে ভূপৃষ্ঠের যে নরম স্তরে গাছপালা জন্মে ও গাছ পুষ্টি শোষণ করে বড় হয় তাকে মাটি বলে।
জৈব পদার্থকে মাটির জীবন বলার কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো ;
১. জৈব পদার্থের উপস্থিতি মাটিস্থ অণুজীবগুলোকে ক্রিয়াশীল করে। ফলে মাটিস্থ খাদ্য উপাদান গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়।
২. জৈব পদার্থ মাটিতে হিউমাস সৃষ্টি করে, যা মাটির উর্বরতার জন্য খুবই দরকারী।
৩. জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৪. জৈব পদার্থ মাটির গঠনকে উন্নত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
