পনেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
আলোচ্য চরণটিতে মানুষের কর্ম পৃথিবীতে রেখে যাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'সোনার তরী' কবিতায় কৃষক, ধান, সোনার তরী প্রভৃতি রূপকের মাধ্যমে মানবজীবনের শাশ্বত দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কৃষক তাঁর ছোটো জমিতে যে সোনার ফসল বা ধান ফলিয়েছে, সোনার তরীতে তার সব তুলে দিয়েছে। কৃষক নিজে নৌকায় উঠতে চাইলেও তাঁর তাতে জায়গা হয় না। তেমনি মানুষ পৃথিবীতে কর্মসম্ভার রেখে যাবে, অথচ ব্যক্তি মানুষের স্থান এখানে হবে না। কৃষকরূপী কবি তাই বলেছেন-সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে।
চিত্রটি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কর্ম হিসেবে পৃথিবীতে টিকে যাওয়ার প্রতীক হওয়ার কারণে 'সোনার তরী' কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় শাশ্বত মানবজীবনের দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কৃষক সোনার ধান ফলিয়েছেন এবং তা কেটে সোনার তরীতে ভরে দিয়েছেন। যখনই তিনি তরীতে উঠতে চাইলেন তখনই ঘোষিত হলো অমোঘ বাণী, 'ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই'। অর্থাৎ কৃষকের কৃতিত্বকে মহাকাল ঠাঁই দিলেও কৃষকের ঠাঁই হয় না। তেমনি মানুষ নয় বরং তার কর্মই প্রধান।
উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা বিখ্যাত ছবিগুলো থেকে নির্বাচিত একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। শিল্পীকে তাঁর এই মহৎ কর্ম বিবেচনায় ঠাঁই দিলেও ব্যক্তি জয়নুল আবেদিনের ঠাঁই হয়নি। ঠিক তেমনি 'সোনার তরী' কবিতায়ও হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল সোনার তরীতে স্থান পেলেও কৃষকের স্থান হয়নি। অর্থাৎ মানুষ নয়, মহাকালের কাছে কর্মই বিবেচ্য।
কর্মই মানুষকে অমরত্বে পৌছে দিতে পারে- এ বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
'সোনার তরী' কবিতায় কৃষক, ধান, সোনার তরী প্রভৃতি রূপকের অন্তরালে মানবজীবনের চিরকালীন মহাসত্য প্রকাশিত হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত সোনার ধান যেন প্রতিটি মানুষের মহৎ কর্ম বা সৃষ্টিসম্ভার। কবিতায় কৃষকের সোনার ধান সোনার তরীতে স্থান পেয়েছে, কৃষক নয়। তেমনি মহাকালের বুকে মানুষ নয়, তার সৃষ্টিসম্ভারই আলোকমালা হয়ে জ্বলজ্বল করে।
উদ্দীপকে শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্মগুলোর একটিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দুর্ভিক্ষের যথাযথ চিত্র ফুটে উঠেছে। এই সৃষ্টিসম্ভার তাঁর বিদায়ের পরও তাঁর হয়ে কথা বলছে। ব্যক্তি জয়নুল আবেদিন আজ পৃথিবীতে না থাকলেও রয়েছে তাঁর কালজয়ী শিল্পকর্ম। 'সোনার তরী' কবিতায়ও কৃষকের উৎপাদিত রাশি রাশি ধান সোনার তরীতে জায়গা পেয়েছে, কৃষক নয়, তবে কৃষক স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর উৎপাদিত সোনার ধানের মধ্যেই।
মানুষ কত বছর বাঁচতে পেরেছে, তা একটি সংখ্যা মাত্র; তাতে জীবনের মাহাত্ম্য নেই বললেই চলে। কিন্তু কীর্তিমান মানুষের কথা আলাদা। তাঁরা স্বল্পায়ু হয়েও মহাকালের বুকে আসন পেতে পারেন। উদ্দীপকের শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিন এবং 'সোনার তরী' কবিতার কৃষকরূপী কবি উভয়েই তাঁদের কীর্তিগাথা পৃথিবীতে রেখে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাই 'মানুষ বাঁচে তার কর্মে, বয়সে নয়' উদ্দীপকের মন্তব্যটি 'সোনার তরী' কবিতার জন্যও যথার্থ।
Related Question
View Allচিকনাই শব্দের অর্থ কী
ব্যান্জনার্থে
উত্তর চাই
একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
'কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা'—কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
