পাতার দন্ডাকার অংশটিকে পত্রবৃন্ত বা পত্রবোঁটা বলে। এটি পত্রমূল ও পত্রফলককে যুক্ত করে। অর্থাৎ পত্রমূল ও পত্রফলকের মাঝামাঝি স্থানে এর অবস্থান।
পত্রের কাজগুলো নিচে দেওয়া হলো-
১. খাদ্য তৈরি করা পাতার প্রধান কাজ। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এরা খাদ্য প্রস্তুত করে।
২. পাতা শ্বাসকার্য পরিচালনার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে দেয়।
৩. পাতা খাদ্য তৈরির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন বের করে দেয়।
৪. পাতা উদ্ভিদ দেহের অতিরিক্ত পানিকে বাম্পাকারে বের করে দেয়।
সরল পত্রের ফলকটি অখণ্ডিত। এর প্রধান শিরাটি বৃত্তশীর্ষ হতে ফলকের অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। একে মধ্যশিরা বলে।
যৌগিকপত্রের (নিম, তেঁতুল) ফলকটি সম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত হয় এবং খন্ডিত অংশগুলো পরস্পর হতে আলাদাভাবে অনুফলক সৃষ্টি করে। অণুফলক বা পত্রকগুলো যে দন্ডে সাজানো থাকে তাকে র্যাকিস বা অক্ষ বলে।
যে পত্রের ফলকটি সম্পূর্ণভাবে খন্ডিত হয় এবং খন্ডিত অংশগুলো পরস্পর হতে আলাদাভাবে অণুফলক সৃষ্টি করে, তাকে যৌগিকপত্র বলে। উদাহরণ- তেঁতুল, গোলাপ, নিম প্রভৃতি।
যেসব উদ্ভিদকে মূল, কান্ড কান্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায় তাকে আদর্শ উদ্ভিদ বলে। আর আদর্শ উদ্ভিদই হলো সর্বোন্নত উদ্ভিদ। আবৃতবীজী সপুষ্পক উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায়, তাই আবৃতবীজী সপুষ্পক উদ্ভিদকে আদর্শ উদ্ভিদ বলা হয়।
উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদেরকে একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে। কাণ্ডে পর্ব, পর্বমধ্য ও শীর্ষ মুকুল থাকে।
প্রধান মূলের সাথে লাগানো মাটির উপরের উদ্ভিদের অংশটি কান্ড। কান্ডের গায়ে পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। কান্ড পাতা ও শাখা-প্রশাখার ভার বহন করে।
উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখার গায়ে সৃষ্ট চ্যাপ্টা সবুজ অঙ্গই হচ্ছে পাতা বা পত্র। একটি আদর্শ পাতায় পত্রমূল, বৃন্ত ও ফলক এ তিনটি অংশ থাকে। যেমন- আম, জবা ইত্যাদি। পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
ফুল বড় হয়ে ঝরে যায়। ঝরা ফুলের গোড়ায় ফুলের যে অংশটি থেকে যায় তা বড় হয়ে ফল সৃষ্টি করে। গর্ভাশয়ই বড় হয়ে ফলে পরিণত হয়। যেমন- মরিচ গাছের ফলই মরিচ।
উদ্ভিদের পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন অংশই মূল। সাধারণত মূল ভূণমূল হতে উৎপন্ন হয়। ভূণমূলটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান মূল গঠন করে। প্রধান মূল থেকে শাখা মূল এবং শাখা মূল থেকে প্রশাখা মূল উৎপন্ন হয়।
একটি আদর্শ মূলের বিভিন্ন অংশ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. মূলটুপি বা মূলত্র,
২. বর্ধিষ্ণু অধ্যল,
৩. মূলরোম অঞ্চল ও
৪. স্থায়ী অঞ্চল।
মূলকে এর উৎপত্তি ও অবস্থান অনুযায়ী প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. স্থানিক মূল ও
২. অস্থানিক মূল।
ভূণমূল বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান মূল হিসেবে সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করে। প্রধান মূল শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে। তখন এদেরকে স্থানিক মূল বলে। যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
যেসব মূল ভূণমূল থেকে উৎপন্ন না হয়ে কান্ড ও পাতা থেকে উৎপন্ন হয় তাদের অস্থানিক মূল বলে। যেমন- 'ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি।
অস্থানিক মূল দুই প্রকার। যথা-
১. গুচ্ছ মূল ও ২. অগুচ্ছ মূল।
অস্থানিক গুচ্ছমূলের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ভূণমূল থেকে উৎপন্ন না হয়ে কান্ড ও পাতা থেকে উৎপন্ন হয়।
২. চুলের মতো পেঁচিয়ে মূল গুচ্ছাকারে মাটির গভীরে বিস্তৃত থাকে।
ধান, ঘাস, বাঁশ ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, কান্ডের নিচের দিকে একগুচ্ছ সরু মূল সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোই হলো গুচ্ছ মূল। সাধারণত একবীজপত্রী উদ্ভিদে গুচ্ছ মূল থাকে।
যেসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, সেসব মূলকে অগুচ্ছ মূল বলে। যেমন- কেয়া গাছের ঠেশমূল, বটের ঝুরিমূল ইত্যাদি।
নিচে মূলের দুটি গুরুত্ব দেওয়া হলো-
১. মুলা, গাজর, শালগম ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল উপাদেয় সবজি হিসেবে আমরা পাই।
২. শতমূলী, সর্পগন্ধা ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল থেকে দামি ঔষধ তৈরি হয়।
মূলের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. সাধারণত মূল নিম্নগামী।
২. মূলে পাতা, ফুল বা ফল হয় না।
উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা ও পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কান্ড। কান্ডের তিনটি অংশ। যথা-
১. পর্ব, ২. পর্বমধ্য ও ৩. মুকুল।
পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না।
পর্বমধ্য এর দুটি কাজ হলো-
১. পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে সহায়তা করে।
২. পর্বমধ্য গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
কান্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। সাধারণত মুকুল এই পত্রকক্ষে জন্মে। তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কান্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে।
নিচে কান্ডের শ্রেণিকরণ করা হলো-

যেসব কান্ডের কোনো শাখা হয় না, কান্ডটি লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে এবং শীর্ষে পাতার মুকুট থাকে সেসব কাণ্ডকে অশাখ কান্ড বলে।
যেমন- নারিকেল, তাল, সুপারি ইত্যাদি।
কোনো কোনো গাছে প্রধান কাণ্ডটি থেকে এমনভাবে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয় যে, পূর্ণাঙ্গ গাছটিকে একটি মঠের ন্যায় দেখায়। এসব গাছের কাণ্ডকে মঠ আকৃতির কাণ্ড বলে। এ গাছের নিচের দিকের শাখাগুলো বড় এবং ক্রমান্বয়ে উপরের দিকের শাখাগুলো ছোট হয়ে থাকে।
কোনো কোনো গাছের প্রধান কান্ডটি খাটো ও মোটা- হয় এবং শাখা-প্রশাখাগুলো এমনভাবে এই প্রধান কান্ডে বিন্যস্ত হয় যে, গাছটিকে একটি গম্বুজের ন্যায় দেখায়। এসব গাছের কান্ডকে গম্বুজ আকৃতির কাণ্ড বলে। যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
যেসব কাণ্ডে পর্ব ও পর্বমধ্য খুবই স্পষ্ট এবং পর্ব থেকে অস্থানিক মূল সৃষ্টি হতে দেখা যায় সেসব কাণ্ডকে তৃণ কান্ড বলে। যেমন- বাঁশ, আখ ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিশেষে এসব কান্ডের পর্বগুলো ফাঁপা বা ভরাট হতে পারে।
যেসব উদ্ভিদের কান্ড খাড়াভাবে দাঁড়াতে পারে না তাই মাটিতে বা মাচার উপরে বৃদ্ধি পায় সেসব উদ্ভিদের কান্ডকে দুর্বল কাণ্ড বলে। এসব গাছের কান্ডে সাধারণত কাষ্ঠ থাকে না তাই এরা দুর্বল ও নরম।
যেসব কাণ্ড মাটির উপর দিয়ে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায় এবং এদের প্রতিটি পর্ব থেকে গুচ্ছমূল বের হয়ে মাটিকে আঁকড়ে ধরে, সেসব কাণ্ডকে ক্রিপার বা লতানো কাণ্ড বলে। যেমন- ঘাস, আমরুল ইত্যাদি।
যেসব কাণ্ড মাটির উপরে ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু পর্ব থেকে মূল বের হয় না সেসব কাণ্ডবে ট্রেইলার বা শয়ান কাণ্ড বলে। যেমন-পুঁইশাক, মটরশুঁটি ইত্যাদি।
যেসব কান্ড কোনো অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে উপরের দিকে বেড়ে ওঠে সেসব কান্ডকে ক্লাইম্বার বা আরোহিণী কাণ্ড বলে। যেমন-শিম, পান, বেত ইত্যাদি।
গম্বুজ আকৃতি ও মঠ আকৃতি কাণ্ডের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
গম্বুজ আকৃতির কান্ড | মঠ আকৃতির কান্ড |
| ১. প্রধান কান্ডটি মোটা ও খাটো হয়। | ১. প্রধান কান্ডটি লম্বা ও তুলনামূলক সরু হয়। |
| ২. শাখা-প্রশাখাগুলো এমনভাবে প্রধান কান্ডে বিন্যস্ত হয় যে উদ্ভিদকে একটি গম্বুজের ন্যায় দেখায়। | ২. এ জাতীয় উদ্ভিদের নিচের দিকের শাখাগুলো বড় এবং ক্রমান্বয়ে উপরের দিকের শাখাগুলো ছোট হয়ে থাকে |
গম্বুজ আকৃতি ও মঠ আকৃতি কাণ্ডের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
গম্বুজ আকৃতির কান্ড | মঠ আকৃতির কান্ড |
| ১. প্রধান কান্ডটি মোটা ও খাটো হয়। | ১. প্রধান কান্ডটি লম্বাও তুলনামূলক সরু হয়। |
| ২. শাখা-প্রশাখাগুলো এমনভাবে প্রধান কান্ডে বিন্যস্ত হয় যে উদ্ভিদকে একটি গম্বুজের ন্যায় দেখায়। | ২. এ জাতীয় উদ্ভিদের নিচের দিকের শাখাগুলো বড় এবং ক্রমান্বয়ে উপরের দিকের শাখাগুলো ছোট হয়ে থাকে। |
ঘাস একটি লতানো উদ্ভিদ। কারণ ঘাসের কান্ড মাটির উপর দিয়ে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায়। এদের প্রতিটি পর্ব থেকে গুচ্ছমূল বের হয়ে মাটিকে আঁকড়ে ধরে।
সবল কান্ড ও দুর্বল কান্ডের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
সবল কান্ড | দুর্বল কান্ড |
| ১. এসব কান্ড শক্ত। | ১. এসব কাণ্ড নরম। |
| ২. সবল কান্ড গাছকে খাড়াভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করে। | ২. দুর্বল কান্ড গাছকে খাড়াভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করে না। |
কান্ডের দুটি কাজ হলো-
১. কান্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে।
২. পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য কান্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
ফার্ন ও মস জাতীয় উদ্ভিদের পাতা থাকে না। তবে ফার্ন ও মস জাতীয় উদ্ভিদে পাতার ন্যায় অঙ্গ থাকে। মসের পাতা প্রকৃত পাতা নয়।
আদর্শ পাতার তিনটি অংশ থাকে। যথা-১. পত্রমূল, ২. বৃন্ত ও ৩. পত্রফলক।
কোনো কোনো উদ্ভিদের পত্রমূলের পাশ থেকে ছোট পত্রসূদৃশ অংশ বের হয়। এগুলো উপপত্র। মটর গাছের পত্রমূলে এরূপ উপপত্র দেখা যায়।
পাতার দণ্ডাকার অংশটি হলো বৃন্ত বা বোঁটা। বৃন্ত বা বোঁটা পত্রমূল ও ফলককে যুক্ত করে। শাপলা, পদদ্ম ইত্যাদি উদ্ভিদের বৃত্ত খুব লম্বা হয়। আবার শিয়াল কাঁটা গাছের পাতায় কোনো বৃন্ত থাকে না।
পত্রফলকের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি পাতার পাতলা, সবুজ, চ্যাপ্টা প্রসারিত অংশ।
২. এর গোড়ার দিকটি প্রসারিত এবং আগার দিকটি সরু।
পত্রবৃন্তের উপরে চ্যাপ্টা সবুজ অংশটি পত্রফলক। বৃন্তশীর্ষ হতে যে মোটা শিরাটি ফলকের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে সেটি মধ্যশিরা।
পত্রফলকের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পত্রকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. সরলপত্র ও ২. যৌগিকপত্র।
সরলপত্রে বৃন্তের উপরে একটিমাত্র পত্রফলক থাকে। আম, জাম, কাঁঠাল, বট ইত্যাদি উদ্ভিদের পাতা সরলপত্র। একটি সরল - পত্রের কিনারা অখণ্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত থাকে।
আম গাছের পাতার বৃন্তের উপরে একটি মাত্র ফলক থাকে তাই একে সরলপত্র বলে। এই পাতার ফলকটি অখণ্ডিত। এ পাতার মধ্যশিরাকে প্রধান শিরা বলে যা থেকে শিরা, উপশিরাগুলো বের হয়ে আসে। এ পাতার কিনারা অখণ্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত থাকে।
যৌগিক পত্রের ফলকটি সম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত হয় এবং খণ্ডিত অংশগুলো পরস্পর হতে আলাদাভাবে অণুফলক সৃষ্টি করে। অণুফলক বা পত্রকগুলো যে দণ্ডে সাজানো থাকে তাকে র্যাকিস বা অক্ষ বলে।
পত্রকের বিন্যাস অনুযায়ী যৌগিকপুত্র দুই প্রকার। যথা-
১. পক্ষল যৌগিকপত্র এবং ২. করতলাকার যৌগিকপত্র।
বোঁটার দুটি কাজ নিচে দেওয়া হলো-
১. পত্রফলককে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২. কান্ড ও পাতার মধ্যে পানি, খনিজ লবণ ও খাদ্য আদান-প্রদান করে।
সরল পত্রের ফলকটি অখন্ডিত। এর প্রধান শিরাটি বৃত্তশীর্ষ হতে ফলকের অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। একে মধ্যশিরা বলে।
যে পত্রের ফলকটি সম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত হয় এবং খন্ডিত অংশগুলো পরস্পর হতে আলাদাভাবে অণুফলক সৃষ্টি করে তাকে যৌগিকপত্র বলে। অণুফলক বা পত্রকগলো যে দণ্ডে সাজানো থাকে তাকে র্যাকিস বা অক্ষ বলে। উদাহরণ- তেঁতুল, গোলাপ, নিম ইত্যাদি।
কাঠাল পাতা ও ধান গাছের পাতার মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ-
কাঁঠাল পাতা | ধান গাছের পাতা |
| ১. কাঁঠাল পাতা চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত। | ১. ধান গাছের পাতা লম্বা ও সরু। |
| ২. কাঁঠাল পাতা বিষমপৃষ্ঠ। | ২. ধান গাছের পাতা সমদ্বিপৃষ্ঠ। |
নিম পাতাকে পরীক্ষা করলে দেখা যায় যৌগিকপত্রের ন্যায় প্রতিটি নিম পাতায় অনেকগুলো ছোট ছোট ফলক থাকে। নিম পাতার ফলকটি সম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত হয় এবং খণ্ডিত অংশগুলো পরস্পর হতে আলাদাভাবে অণুফলক সৃষ্টি করে। এ কারণে নিম পাতাকে যৌগিকপত্র বলা হয়।
পাতা ও কান্ডের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
পাতা | কান্ড |
| ১. শাখা-প্রশাখার গায়ে সৃষ্ট চ্যাপ্টা সবুজ অঙ্গ। | ১. প্রধান মূলের সাথে লাগানো মাটির উপরে উদ্ভিদের অংশ। |
| ২. প্রধান কাজ খাদ্য তৈরি করা। | ২. প্রধান কাজ পাতা, ফুল, ফল ও শাখা-প্রশাখার ভার বহন করা। |
মূলের দুটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো-
১. মূলা, গাজর, শালগম ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল উপাদেয় সবজি।
২. শতমূলী, সর্পগন্ধা ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
মানবজীবনে কাণ্ডের দুটি ব্যবহার নিচে দেয়া হলো-
১. বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
২. খেজুর ও আখের কাণ্ড হতে পাওয়া রস মানুষের উপাদেয় পানীয়।
মানবজীবনে পাতার দুটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো-
১. বিভিন্ন শাকের পাতা মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
২. তালপাতা, গোলপাতা মানুষ ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করে।
উদ্ভিদ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও পৃথিবীর জলবায়ু সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। তাই অকারণে গাছ কেটে বা গাছের ডাল না ভেঙে অধিক গাছ লাগিয়ে বেশি বেশি যত্ন করা উচিৎ। বনের পশু-পাখিও প্রাকৃতিক সম্পদ। এদেরও যত্ন নিতে হবে। অতিথি পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করা উচিৎ ।
ইতোপূর্বে আমরা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিকরণ সম্পর্কে জেনেছি। আমরা জানি, উন্নত উদ্ভিদ দুই ধরনের যথা নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। আবৃতবীজী উদ্ভিদকে একটি আদর্শ উদ্ভিদ হিসেবে ধরে তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী তা আমরা এ অধ্যায়ে জানব। একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের কোন কোন অংশ থাকে, কোথায় তাদের অবস্থান তা জানব। এর প্রধান অংশগুলোর প্রকারভেদ, কাজ ও মানবজীবনে এসব অঙ্গের অবদান কী তা আলোচনা করা হবে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
- উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মূলের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কাণ্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পাতার প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদ এবং মানবজীবনে মূল, কাণ্ড ও পাতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করব।
Related Question
View Allযেসব উদ্ভিদের দেহে মূল, কান্ড ও পাতা থাকে এবং ফুল, ফল ও বীজ হয় সেসব উদ্ভিদকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কান্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে।
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশ দুটি উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
A (কান্ড) | B (মূল) |
১. কান্ড ভ্রূণের ভূণমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়। | ১. মূল ভ্রূণের ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়। |
২. উদ্ভিদদেহের ঊর্ধ্বগামী অঙ্গ গঠন করে। | ২. উদ্ভিদের নিম্নগামী অঙ্গ গঠন করে। |
৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে এবং শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, ফল ধারণ করে। | ৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে না। কেবল শাখা-প্রশাখা, মূল ধারণ করে। |
৪. এর অগ্রভাগে মূলত্রের পরিবর্তে অগ্রমুকুল থাকে। | ৪. এর অগ্রভাগে মূলত্র থাকে। |
৫. কাণ্ডের বর্ণ সাধারণত সবুজ, অবস্থা বিশেষে বর্ণহীন। | ৫. মূল সাধারণত বর্ণহীন; অবস্থা বিশেষে বর্ণ যুক্ত হয়। |
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশগুলো যথাক্রমে উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
কান্ডের গুরুত্ব:.
১. কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভার বহন করে।
২. উদ্ভিদের কান্ড থেকে আমরা আসবাবপত্র, খুঁটি ইত্যাদি তৈরি করি।
৩. অনেক উদ্ভিদের কাণ্ড আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. কাণ্ডের মধ্য দিয়ে মূল দ্বারা শোষিত পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা, পাতায়, ফুলে এবং ফলে বাহিত হয়।
৫. এটি পাতায় প্রস্তুত খাদ্য দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।
মূলের গুরুত্ব:
১. মূল উদ্ভিদটিকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
২. মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয়, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
৩. কিছু কিছু উদ্ভিদ যেমন- মুলা, শালগম, গাজর ইত্যাদির মূল আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. অনেক উদ্ভিদের মূল থেকে ভেষজ ঔষধ তৈরি করা হয়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, A ও B অর্থাৎ, কাণ্ড ও মূলের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্ভিদের যে অংশ পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন তাকে মূল বলে।
আম পাতার বৃন্তের উপরে একটি মাত্র ফলক থাকে। তাই একে সরলপত্র বলে। আম পাতার ফলকটি অখণ্ডিত। এ পাতার মধ্যশিরাকে প্রধান শিরা বলে যা থেকে শিরা, উপশিরাগুলো বের হয়ে আসে। আমপাতার কিনারা অখন্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে খন্ডিত থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!