আনন্দ থের'র দুটি উপদেশ নিচে দেওয়া হলো-
১. শ্রদ্ধাবান, শীলবান, জ্ঞানবান ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে। তাদের সঙ্গ উত্তম।
২. ক্রোধী, অহংকারী ও সংঘভেদকারী ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে না। তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত নয়।
কৃশা গৌতমীর উপদেশগুলো হলো-
ক. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানিগণ প্রশংসা করেন। সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে জ্ঞানী হওয়া যায়।
খ. সৎ মানুষের অনুসরণ কর। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
গ. চতুরার্য সত্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ কর।
ঘ. আমি আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, নির্বাণ উপলব্ধি করেছি।
ঙ. আমি বেদনামুক্ত, ভারমুক্ত। আমার চিত্ত সম্পূর্ণ মুক্ত।
অর্হত্বপ্রাপ্ত হয়ে অভিরূপা নন্দা বলেছিলেন, এ দেহ অশুচি এবং ব্যাধির আলয়। এতে অহংকারের কিছু নেই। অনিষ্টকর অহংকার পরিত্যাগ কর। মনকে শান্ত ও সংযত কর।
বুদ্ধ আনন্দ থেরকে তাঁর সেবায় নিযুক্ত করলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তখন তিনি মনোযোগসহকারে শুনতেন। সব মনে রাখতেন এবং বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে অন্যকে হুবহু বলতে পারতেন। তাই তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শুতিধর' আখ্যা পান।
কৃশা গৌতমী দীক্ষা লাভ করতে গেলে বুদ্ধদেব বলেন-বন্যার স্রোত যেমন গ্রাম, নগর, ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি ভোগবিলাসে রত মানুষও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ জগতে সকল বস্তুই অনিত্য। জন্ম হলে তার মৃত্যু অনিবার্য। সুতরাং দুঃখ পেলেও মেনে নিতে হবে।
কৃশা গৌতমীর তিনটি উপদেশ :
১. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানীগণ প্রশংসা করেন।
২. সৎ মানুষের অনুসরণ করলে। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
৩. চতুরার্য সত্য সমন্ধে জ্ঞান লাভ করো।
প্রব্রজ্যা গ্রহণের পর অভিরূপা নন্দার ভিক্ষুণী জীবন শুরু হলেও তিনি তখনও রূপের অহংকার করতেন। উপদেশ শোনার জন্য অনেক ভিক্ষুণী বুদ্ধের সামনে গেলেও তিনি ভয় পেতেন। কেননা অন্তর্যামী বৃদ্ধ যদি তাঁর মনোভাব জেনে তাঁকে সকলের সামনে ভর্ৎসনা করেন। এই ভয়ে বুদ্ধকে এড়িয়ে চলতেন অভিরূপা নন্দা।
অতীশ দীপঙ্কর ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন ঢাকায় বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কল্যাণশ্রী ও মাতা প্রভাবতী। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্র ও কারিগরি বিদ্যায়। উনত্রিশ বছর বয়সে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। 'অতীশ' উপাধি পেয়ে তিনি অতীশ দীপঙ্কর নামে খ্যাত হন।
মহৎ জীবন গঠনের জন্য মহৎ আদর্শের অনুসরণ আবশ্যক। তাঁদের জীবনচরিত হতে তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অধ্যবসায়, সংযম ও অনুশীলনীয় নীতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। যা জীবনকে খ্যাতিসম্পন্ন ও জ্যোতির্ময় করে তোলে। ফলে জীবন সার্থক ও সফল হয়।
মহৎ ও আদর্শসম্পন্ন জীবনচরিত সকলের অনুকরণীয়। যা আমাদের আদর্শিক জীবন গঠনে প্রেরণা জোগায়। একাগ্রতা, অধ্যবসায়, ত্যাগ ও সংযমের শিক্ষা দেয়। আমাদের সৎ ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করে ও কল্যাণ চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। তাই জীবনচরিত পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপালি ভিক্ষুদের বলেন, "প্রথম শিক্ষার্থী নব প্রব্রজিত কর্মফল ও রত্নত্রয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে গৃহ হতে বের হয়ে শুদ্ধ জীবনযাপনকারী; শৌর্যবানের নিকট উপস্থিত হবেন। সঙ্ঘের মধ্যে বাস করবেন। বিনয় শিক্ষা করবেন। যোগ্য-অযোগ্য বিষয়ে সুদক্ষ হবেন ও তৃষ্ণা উৎপাদন না করে বসবাস করবেন।”
প্রব্রজ্যা গ্রহণের পর উপালি বুদ্ধের নিকট অরণ্যে বাস করার ইচ্ছা জানালে বুদ্ধ তাকে ধর্ম ও বিনয় অনুশীলন করতে বললেন। উপালি বুদ্ধের উপদেশে খুব অল্প সময়ে অর্হত্ব ফল লাভে সমর্থ হন এবং বিনয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তখন বুদ্ধ উপালিকে 'বিনয়ধর' বলে ঘোষণা করেন।
বুদ্ধ আনন্দ থেরকে তাঁর সেবায় নিযুক্ত করলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তখন তিনি মনোযোগসহকারে শুনতেন। সব মনে রাখতেন এবং বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে অন্যকে হুবহু বলতে পারতেন। তাই তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শুতিধর' আখ্যা পান।
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। কেউ চিরদিন এ জগতে বেঁচে থাকেন না। মানুষের কর্মই মানুষকে অমরত্ব দান করে। পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক স্মরণীয় ও বরণীয় মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের আলোয় জগৎ আলোকিত হয়েছে। এজন্য মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে এবং ভক্তি করে। তাঁদের নির্মল চরিত্র সহজেই মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়। জ্ঞানে, গুণে ও কর্মে তাঁরা মহান। এ সকল মহৎ ব্যক্তির জীবন সকলের অনুকরণীয়। মহৎ মানুষের জীবনকথা সৎ জীবন যাপনের প্রেরণা এ অধ্যায়ে আমরা কয়েকজন থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের জীবনী পড়ব এবং তাঁদের অবদান সম্পর্কে জানব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- জীবনচরিত পাঠের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
- থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের পরিচয় দিতে পারব।
Related Question
View Allআনন্দ থের'র দুটি উপদেশ নিচে দেওয়া হলো-
১. শ্রদ্ধাবান, শীলবান, জ্ঞানবান ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে। তাদের সঙ্গ উত্তম।
২. ক্রোধী, অহংকারী ও সংঘভেদকারী ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে না। তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত নয়।
কৃশা গৌতমীর উপদেশগুলো হলো-
ক. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানিগণ প্রশংসা করেন। সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে জ্ঞানী হওয়া যায়।
খ. সৎ মানুষের অনুসরণ কর। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
গ. চতুরার্য সত্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ কর।
ঘ. আমি আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, নির্বাণ উপলব্ধি করেছি।
ঙ. আমি বেদনামুক্ত, ভারমুক্ত। আমার চিত্ত সম্পূর্ণ মুক্ত।
অর্হত্বপ্রাপ্ত হয়ে অভিরূপা নন্দা বলেছিলেন, এ দেহ অশুচি এবং ব্যাধির আলয়। এতে অহংকারের কিছু নেই। অনিষ্টকর অহংকার পরিত্যাগ কর। মনকে শান্ত ও সংযত কর।
বুদ্ধ আনন্দ থেরকে তাঁর সেবায় নিযুক্ত করলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তখন তিনি মনোযোগসহকারে শুনতেন। সব মনে রাখতেন এবং বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে অন্যকে হুবহু বলতে পারতেন। তাই তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শুতিধর' আখ্যা পান।
কৃশা গৌতমী দীক্ষা লাভ করতে গেলে বুদ্ধদেব বলেন-বন্যার স্রোত যেমন গ্রাম, নগর, ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি ভোগবিলাসে রত মানুষও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ জগতে সকল বস্তুই অনিত্য। জন্ম হলে তার মৃত্যু অনিবার্য। সুতরাং দুঃখ পেলেও মেনে নিতে হবে।
কৃশা গৌতমীর তিনটি উপদেশ :
১. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানীগণ প্রশংসা করেন।
২. সৎ মানুষের অনুসরণ করলে। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
৩. চতুরার্য সত্য সমন্ধে জ্ঞান লাভ করো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!