বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিহারগুলো হলো শালবন মহাবিহার, আনন্দ বিহার, সোমপুর বিহার, ভাসুবিহার, রামকোট বিহার, সীতাকোট বিহার, রাজবন বিহার প্রভৃতি।
সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাশেষ থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। মহাবিহারটি বর্গাকৃতি এবং চারদিক ইটের প্রকান্ড দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য একই মাপের ১৭৭টি কক্ষ ছিল। মহাবিহার অঙ্গনে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করণী এবং অন্যান্য স্থাপন ছড়িয়ে আছে। কেন্দ্রস্থলে আছে ক্রুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির।
শালবন বিহারের তাম্রলিপি হতে জানা যায় যে, শালবন বিহারটি দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের পুত্র রাজা ভবদেব নির্মাণ করেছিলেন। অষ্টম শতাব্দীর দিকে দেববংশ এ অঞ্চল শাসন করতেন।
খনন করে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, বিহারটি চারদিক দেয়ালবেষ্টিত বর্গাকৃতির ছিল। এতে সমান আয়তনের ১১৫টি কক্ষ ছিল যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন। আবিষ্কৃত অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে বিহার অঙ্গনের হলঘর, দুটি ছোট মন্দির, একটি চার কোণাকার মন্দির এবং অন্যান্য প্রত্নসম্পদ অন্যতম।
রামকোট বিহারের মূল্যবান শিলালিপিটি আবিষ্কৃত হয় বিহারের দক্ষিণ পাশের একটি ছোট পাহাড়ের স্তূপ থেকে। যেটি ডাকাত দল লুণ্ঠন করে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ১৯৩০ সালে জগৎচন্দ্র মহাথের নামক এক ভিক্ষু শ্রীলংকায় একখানি শিলালিপি উদ্ধার করেন। সে শিলালিপির বর্ণনা মতে, খননকার্য চালিয়ে এ বৃহৎ সঙ্ঘারামটির ধ্বংসাবশেষ ও পাথরে নির্মিত সুদৃশ্য অভয়মুদ্রার প্রাচীন বুদ্ধমূর্তিটি রামকোট বিহারে সংরক্ষণ করা হয়। এর কেন্দ্রস্থলটি আনুমানিক ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলার উপর অবস্থিত।
রাজবন বিহারে পূর্ণিমা তিথিতে জাঁকজমকপূর্ণভারে বুদ্ধ পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান এবং বন ভন্তের জন্মদিন পালন করা হয়। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বিহারে সন্তানদের অন্নপ্রাসন, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন।
বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। যার অনেক খননকার্যের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পাওয়া গেছে। যেমন- কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন মহাবিহার, পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার, বগুড়ায় মহাস্থানগড়, দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার, নরসিংদীতে উয়ারী-বটেশ্বরসহ অনেক।
কুমিল্লার ময়নামতি অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার হলো শালবন মহাবিহার। বিহারটি ছিল বর্গাকৃতির। প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট। দেয়ালের উচ্চতা সাড়ে ১৬ ফুট। এই বিহারে ১১৫টি কক্ষ ছিল। ভেতরে মূল বিহারটি ক্রুশ আকৃতির ও আয়তাকার। দৈর্ঘ্যে ১৬৮ ফুট ও প্রস্থে ১১০ ফুট। প্রবেশের জন্য উত্তর দিকে একটি দ্বার ছিল।
শালবন মহাবিহার খননের সময় বহু প্রত্নসম্পদ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ৮টি তাম্রলিপি, স্বর্ণ, রৌপ্যমুদ্রা, অলংকার, ব্রোঞ্জের বুদ্ধ মূর্তি, নানা দেবদেবীর মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট, তামার পাত ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র। মূর্তিগুলো খুবই সুন্দর ও মহামূল্যবান।
জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নওগাঁর বদলগাছী থানায় পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার অবস্থিত। পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এই বৃহৎ মন্দিরটি নির্মাণ করেন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃহত্তম। এটি বৌদ্ধ সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল।
বৌদ্ধ সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পাহাড়পুর অঞ্চল। পাল রাজারা শাসন করতেন এ অঞ্চল। পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এখানে যে বৃহৎ বিহারটি নির্মাণ করেন সেটিই সোমপুর মহাবিহার। রাজা ধর্মপাল এ বিহারকে কেন্দ্র করে আরও পঞ্চাশটি বৌদ্ধবিহার ও শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় রামকোট বিহার অবস্থিত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্রধান সড়কের প্রায় দুই মাইল পূর্বে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা এ বিহারটি দেখতে খুব সুন্দর। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এ বিহার সম্রাট অশোকের সময় বা তার পরে প্রতিষ্ঠিত।
সতেরোটি ছোট বড় পাহাড় দ্বারা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বিহারটি পরিবেষ্টিত ছিল। যেখানে বিক্ষিপ্তভাবে, চারদিকে ছড়ানো বহু প্রাচীন ইটের টুকরো, বুদ্ধমূর্তির ভগ্নাবশেষ, পোড়ামাটির ফলক। বিহারের চারপাশে বেলে পাথরের নির্মিত ভগ্নাবশেষ, যার মধ্যে বুদ্ধের দুটি পদচিহ্ন ও ভূমিস্পর্শ মুদ্রার বুদ্ধমূর্তি অন্যতম।
রাজবন বিহার বৌদ্ধদের নিকট তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাত। এ তীর্থস্থানে প্রতিদিন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। মানুষ এখানে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা গ্রহণ করতে আসেন। এছাড়াও সন্তানের অন্নপ্রাশন, সঙ্ঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবরদান প্রভৃতি পালিত হয়।
বিভিন্ন কারণে দর্শনীয় স্থানসমূহ ধ্বংস বা নষ্ট হতে পারে। যেমন- সংরক্ষণের অভাব, অযত্ন, নদীভাঙন, বন্যা, ঝড়, বৃষ্টি, তুফান, বায়ুদূষণ, অজ্ঞ মানুষের অহেতুক কৌতূহল, লুটেরাদের দৌরাত্ম্য, 'যুদ্ধবিগ্রহ প্রভৃতি। আমাদের সবসময় দর্শনীয় স্থানগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।
হ্যাঁ, দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সুফল অনেক। দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের ফলে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। মন উদার হয়। দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। ধর্মীয় অনুভূতির বিকাশ ঘটে। দেশের সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রেরণা জাগে। তাই দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিহারগুলো হলো শালবন মহাবিহার, আনন্দ বিহার, সোমপুর বিহার, ভাসুবিহার, রামকোট বিহার, সীতাকোট বিহার, রাজবন বিহার প্রভৃতি।
সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাশেষ থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। মহাবিহারটি বর্গাকৃতি এবং চারদিক ইটের প্রকান্ড দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য একই মাপের ১৭৭টি কক্ষ ছিল। মহাবিহার অঙ্গনে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করণী এবং অন্যান্য স্থাপন ছড়িয়ে আছে। কেন্দ্রস্থলে আছে ক্রুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির।
শালবন বিহারের তাম্রলিপি হতে জানা যায় যে, শালবন বিহারটি দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের পুত্র রাজা ভবদেব নির্মাণ করেছিলেন। অষ্টম শতাব্দীর দিকে দেববংশ এ অঞ্চল শাসন করতেন।
খনন করে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, বিহারটি চারদিক দেয়ালবেষ্টিত বর্গাকৃতির ছিল। এতে সমান আয়তনের ১১৫টি কক্ষ ছিল যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন। আবিষ্কৃত অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে বিহার অঙ্গনের হলঘর, দুটি ছোট মন্দির, একটি চার কোণাকার মন্দির এবং অন্যান্য প্রত্নসম্পদ অন্যতম।
রামকোট বিহারের মূল্যবান শিলালিপিটি আবিষ্কৃত হয় বিহারের দক্ষিণ পাশের একটি ছোট পাহাড়ের স্তূপ থেকে। যেটি ডাকাত দল লুণ্ঠন করে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ১৯৩০ সালে জগৎচন্দ্র মহাথের নামক এক ভিক্ষু শ্রীলংকায় একখানি শিলালিপি উদ্ধার করেন। সে শিলালিপির বর্ণনা মতে, খননকার্য চালিয়ে এ বৃহৎ সঙ্ঘারামটির ধ্বংসাবশেষ ও পাথরে নির্মিত সুদৃশ্য অভয়মুদ্রার প্রাচীন বুদ্ধমূর্তিটি রামকোট বিহারে সংরক্ষণ করা হয়। এর কেন্দ্রস্থলটি আনুমানিক ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলার উপর অবস্থিত।
রাজবন বিহারে পূর্ণিমা তিথিতে জাঁকজমকপূর্ণভারে বুদ্ধ পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান এবং বন ভন্তের জন্মদিন পালন করা হয়। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বিহারে সন্তানদের অন্নপ্রাসন, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন।
বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। যার অনেক খননকার্যের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পাওয়া গেছে। যেমন- কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন মহাবিহার, পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার, বগুড়ায় মহাস্থানগড়, দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার, নরসিংদীতে উয়ারী-বটেশ্বরসহ অনেক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!