প্রকৃত পরজীবী কথাটির অর্থ হচ্ছে জীবিত জীবদেহ ছাড়া যেসব পরজীবীর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। অর্থাৎ জীবদেহের বাইরে যেসব পরজীবী জীবনের কোনো লক্ষণই প্রকাশ করে না সেগুলোই প্রকৃত পরজীবী। যেমন- ভাইরাস।
ব্যাকটেরিয়াজনিত চারটি রোগ নিম্নরূপ-
১. নিউমোনিয়া,
২. রক্তামাশয়,
৩. ধনুষ্টংকার,
৪. কলেরা।
যেসব জীবকে খালি চোখে দেখা যায় না এবং যাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রিকাযুক্ত সুগঠিত কোষও নেই, তারাই অণুজীব। যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল ইত্যাদি।
ভাইরাসের দেহ দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-
১. আমিষ আবরণ ও ২. নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ বা আরএনএ)।
অণুজীব জগৎকে তিনটি রাজ্যে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো-
১. এক্যারিওটা
২. প্রোক্যারিওটা ও
৩. ইউক্যারিওটা।
অকোষীয় রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা অতি অণুবীক্ষণিক জীব।
২. এদের দেখতে ইলেক্ট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
প্রোক্যারিওটা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা আদিকোষী জীব।
২. এদের কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়।
চারটি অণুজীবের নাম হলো-
১. ভাইরাস,
২. ব্যাকটেরিয়া,
৩. ছত্রাক ও
৪. শৈবাল।
ভাইরাসের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ভাইরাসের দেহে কোষপ্রাচীর ও সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস নেই।
২. ভাইরাস শুধুমাত্র আমিষ আবরণ ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত।
ভাইরাসের কোষের গঠন সরলতম। ভাইরাসের দেহে কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই। এরা শুধুমাত্র আমিষ আবরণ ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত। তাই এদেরকে অকোষীয়ও বলা হয়।
ভাইরাসের দুটি উপকারিতা হলো-
১. বিভিন্ন রোগের টিকা তৈরিতে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। যেমন-বসন্ত, হাম, জলাতঙ্ক ইত্যাদি।
২. জিন প্রকৌশলে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
উদ্ভিদের ভাইরাসজনিত দুটি রোগ হলো-
১. ধানের টুংরো রোগ ও
২. তামাকের মোজাইক রোগ।
ব্যাকটেরিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব ও
২. এদের কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরনের হতে পারে।
আকার আকৃতির ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ করা হলো- ১. কক্কাস, ২. ব্যাসিলাস, ৩. কমা ও ৪. স্পাইরিলাম।
কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদের কোষের আকৃতি গোলাকার।
২. এরা এককভাবে বা দলবেঁধে থাকতে পারে।
ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট দুটি রোগের নাম হলো-
১. ধনুষ্টংকার ও
২. রক্তামাশয়।
উদ্ভিদের দুটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হলো-
১. ধানের লিফ ব্লাইট রোগ ও
২. টমেটোর ক্যাংকার রোগ।
অনেক সময় উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্যে জীনগত পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্যে ব্যাকটেরিয়াকে জীন প্রকৌশলে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও জীন প্রকৌশলের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
পার্থক্যগুলো হলো:
ভাইরাস
- ভাইরাস অণুজীব, কিন্তু এদের কোনো নিউক্লিয়াস নেই।
- এরা প্রকৃত পরজীবী। অর্থাৎ জীবিত থাকতে অন্য জীবের শরীরে প্রবেশ করতে হয়।
ব্যাকটেরিয়া
- ব্যাকটেরিয়া এককোষী এবং এদের নিউক্লিয়াস সদৃশ নিউক্লিওয়েড থাকে।
- এরা প্রকৃত পরজীবী নয়; অনেক ব্যাকটেরিয়া স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
ছত্রাকের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ছত্রাক সমাঙ্গদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ জীব।
২. এরা পরভোজী অথবা মৃতভোজী।
ছত্রাক সমাঙ্গদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ জীব। ক্লোরোফিলের অভাবে এরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ফলে খাদ্যের জন্য ছত্রাককে বাসি ও পচা খাদ্য দ্রব্য ফলমূল, রুটি, উদ্ভিদ বা অন্যান্য জীবের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই ছত্রাককে পরভোজী বলা হয়।
ছত্রাক হতে পেনিসিলিনসহ বহু মূল্যবান ঔষধ পাওয়া যায়। পাউরুটি তৈরিতে ঈস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। এগারিকাস নামক মাশরুম সৌখিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও মাটিতে আবর্জনা পচাতে ছত্রাকের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্ভিদের দুটি ছত্রাকজনিত রোগের নাম হলো-
১. আলুর বিলম্বিত ধসা রোগ ও
২. পাটের কালোপট্টি রোগ।
ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করার দুটি উপায় হলো-
১. ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার না করা।
২. ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কম আসা।
শৈবালের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী।
২. এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মায়।
শৈবালের দুটি অপকারিতা হলো-
১. মানুষ ও উদ্ভিদের নানারোগ সৃষ্টি করে।
২. জলাশয়ে শৈবালের আধিক্য দেখা দিলে জলজ প্রাণী ও মাছ অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারে।
অ্যামিবার দুটি বৈশিস্ট্য হলো-
১. অ্যামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যের এককোষী জীব।
'২. এরা প্রয়োজনে দেহের আকার পরিবর্তন করতে পারে।
অ্যামিবা এককোষী প্রাণী। এরা প্রয়োজনে দেহের আকার পরিবর্তন করতে পারে। এদের দেহ থেকে আঙ্গুলের মতো অভিক্ষেপ তৈরি হয়। একে ক্ষণপদ বলে। এই ক্ষণপদের সাহায্যে অ্যামিবা খাদ্যগ্রহণ ও চলাচল করে থাকে। এছাড়াও এদের দেহে পানি গহ্বর, খাদ্য গহ্বর ও সংকোচন গহ্বর থাকে।
অ্যামিবার চারটি অঙ্গাণু হলো-
১. ক্ষণপদ,
২. প্লাজমাজেল,
৩. খাদ্যগহ্বরও
৪. সংকোচনশীল গহ্বর।
এন্টামিবা এককোষী, স্বচ্ছ জেলির মতো। এদের দেহের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। প্রয়োজনমতো এদের দেহের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে এন্টামিবা গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে ফেলে। যা এদের প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এ অবস্থায় একে সিস্ট বলা হয়।
আমাশয় রোগ দুই ধরনের। যথা- এমিবিক আমাশয় ও ব্যাসিলারি আমাশয়। ব্যাসিলারি আমাশয় ব্যাসিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। অ্যামিবিক আমাশয় রোগের কারণ এন্টামিবা নামক এককোষী জীব।
অণুজীব নানান উপায়ে ছড়াতে পারে। যেমন- অপরিষ্কার হাত জীবাণুর জন্য একটি সুবিধাজনক বাহন। যার মাধ্যমে সহজেই একজন হতে অন্যজনে জীবাণু ছড়াতে পারে, বাতাসে ধুলাবালি, অপরিষ্কার পানি, পচা ও বাসি খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে অণুজীব ছড়াতে পারে।
এইডস একটি সংক্রামক রোগ। এই রোগ একবার হলে আর নিরাময় হয় না। এইডস আক্রান্ত লোকের রক্ত গ্রহণ, মাদক গ্রহণ, এক সুঁই এ বহু লোকের ইনজেকশন গ্রহণ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে এ রোগ ছড়ায়।
অণুজীব আক্রান্ত রোগ থেকে প্রতিকার পেতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। মাছ ও মাংসের সাথে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। ভিটামিন ও খনিজ লবণ প্রয়োজন মতো গ্রহণ করতে হবে। সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ পানি পান করতে হবে।
কলেরা রোগ প্রতিরোধের দুটি উপায় হলো-
১. নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ও
২. নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণী মেরে পুঁতে ফেলা উচিত কারণ ভাইরাস অতিদ্রুত ছড়ায়। ফলে আক্রান্ত প্রাণীর চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য পশু আক্রান্ত হতে পারে। তাই আক্রান্ত প্রাণীকে মেরে পুঁতে ফেলতে হয়।
গবাদি পশুতে অণুজীব সৃষ্ট দুটি রোগ হলো-
১. অ্যানথ্রাক্স ও
২. ম্যাডকাউ।
আমাশয় প্রতিরোধের দুটি উপায় হলো-
১. নিরাপদ পানি পান করা ও
২. স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা।
ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট চারটি রোগ হলো-
১. যক্ষা, ২. কলেরা, ৩. টাইফয়েড ও ৪. আমাশয়।
কক্কাস ও ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
কক্কাস ব্যাকটেরিয়া
১। এরা গোলাকৃতির।
২। নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টি করে।
ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া
১। এরা দণ্ডের ন্যায় লম্বাকৃতির।
২। এরা ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus), রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে।
প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটা রাজ্যের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
প্রোক্যারিওট
১। এদের কোষের কেন্দ্রক সুনিয়ন্ত্রিত নয়।
২। নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত।
ইউক্যারিওট
১। এদের কোষের কেন্দ্রক সুনিয়ন্ত্রিত।
২। নিউক্লিওলাস উপস্থিত।
ছত্রাক ও শৈবালের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| ছত্রাক | শৈবাল |
| ১. এরা বর্ণহীন, অসবুজ। | ১. এদের বর্ণ সবুজ। |
| ২. খাদ্য তৈরি করতে পারে না। | ২. খাদ্য তৈরি করতে পারে। |
যেসব জীব অতিক্ষুদ্র অর্থাৎ যাদের সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয় সেগুলোই অণুজীব।
যেসব অণুজীব অতিক্ষুদ্র, সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় না, এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় তাদেরকে অকোষীয় জীব বলে।
যেসব অণুজীবের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয় তাকে আদিকোষী জীব বলে।
যেসব অণুজীব কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত তাদেরকে প্রকৃত কোষী জীব বলে।
ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব।
বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।
যেসব ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার তারা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া।
যে পদ্ধতিতে একটি কোষের প্রোটোপ্লাজম বহুখন্ডে বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব বা স্পোর গঠন করে তাই স্পোরুলেশন।
সমাঙ্গবর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত এককোষী বা বহুকোষী স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল।
ছত্রাক হলো সমাঙ্গদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ উদ্ভিদ।
যে রোগের সংস্পর্শে নিরোগ প্রাণী ও উদ্ভিদ রোগে আক্রান্ত হয় সে রোগকে ছোঁয়াচে রোগ বলে।
অ্যামিবার দেহ থেকে আঙ্গুলের মতো তৈরি অভিক্ষেপই ক্ষণপদ।
স্পাইরোগাইরা হলো এক ধরনের শৈবাল। এদের বেশিরভাগ জলাশয়ে পাওয়া যায়।
প্রোটিস্টা রাজ্যভুক্ত এককোষী অণুজীব এন্টামিবা কখনো কখনো প্রতিকূল পরিবেশে গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে ফেলে। এ অবস্থাকে সিস্ট বলে।
এন্টামিবা হলো সারকোমাস্টিগোফোরা পর্বের অন্তর্গত এককোষী অণুজীব।
ভাইরাসের দেহ শুধুমাত্র প্রোটিন আবরণ ও নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ বা আরএনএ) নিয়ে গঠিত। ভাইরাসের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত না হওয়ায় এদের দেহে কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই, তাই ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয়।
ভাইরাস জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে গঠিত এবং উপযুক্ত পোষক দেহের অভ্যন্তরে পোষক দেহের জৈব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। অর্থাৎ জীবিত জীবদেহ ছাড়া 'রা জীবদেহের বাইরে এরা জীবনের কোনো লক্ষণ দেখায় না। এ কারণে ভাইরাসকে প্রকৃত পরজীবী বলা হয়।
ভাইরাস জৈব রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং উপযুক্ত পোষক দেহের অভ্যন্তরে পোষক দেহের জৈব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। সকল ভাইরাসে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাই ভাইরাসকে এক প্রকার জীব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিচে প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটা রাজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
| প্রোক্যারিওটা | ইউক্যারিওটা |
| ১. এরা আদিকোষী। | ১. এরা প্রকৃতকোষী। |
| ২. এদের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয়। | ২. এদের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত। |
| ৩. এদের ক্ষুদ্রাঙ্গ নেই। | ৩. এদের ক্ষুদ্রাঙ্গ থাকে। |
| ৪. নিউক্লিওলাস নেই। | ৪. নিউক্লিওলাস থাকে। |
ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের অণুজীব। এদের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয়। কেন্দ্রিকা সুগঠিত না থাকায় ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী বলা হয়।
কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর মাঝে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জিনগত পরিবর্তন দরকার। ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন আবরণটি কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তাই জীবের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জিনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা যায়।
দাদ বা ছুলী ছত্রাকের সংক্রমণজনিত রোগ। ছত্রাকের সংক্রমণে হয় বলে এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। এ রোগীর সংস্পর্শে এলে কিংবা রোগীর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড়, চিরুনি, জুতা ব্যবহার করলেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে। তাই দাদ বা ছুলী রোগীকে সুস্থ মানুষ থেকে আলাদা রাখা হয়।
যেসব উদ্ভিদ সবুজ এবং দেহে ক্লোরোফিল বিদ্যমান, যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তাদের স্বভোজী উদ্ভিদ বলে। সুতরাং শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদ, এজন্য এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে। তাই শৈবালকে স্বভোজী উদ্ভিদ বলা হয়।
অণুজীব (স্পোর) সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে স্পোরুলেশন বলে। স্পোরুলেশন পদ্ধতিতে একটি কোষের প্রোটোপ্লাজম বহুখন্ডে বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব বা স্পোর সৃষ্টি করে। এ পদ্ধতিতে এন্টামিবা বংশবৃদ্ধি করে থাকে।
এন্টামিবার দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১.. এদের খালি চোখে দেখা যায় না।
২. এদের দেহের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই।
এন্টামিবা কোষ বিভাজন ও স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। স্পোরুলেশন পদ্ধতিতে একটি কোষের প্রোটোপ্লাজম বহুখণ্ডে বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুবীজ বা স্পোর গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে এরা প্রত্যেকে একটি নতুন অ্যামিবা হিসেবে বড় হয়।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, অ্যামিবা ইত্যাদিকে নিম্নশ্রেণির জীব বলা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া দেখা যায় না। এরা অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত। কিছু কিছু ছত্রাক ও শৈবাল খালি চোখে দেখা গেলেও অধিকাংশ ছত্রাক ও শৈবাল দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগে। এসব অণুজীব বা আদিজীব মানুষ, গৃহপালিত পশুপাখি ও উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি করে। আবার পরিবেশে এদের অনেক উপকারী ভূমিকাও রয়েছে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- অণুজীবের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অণুজীবের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব।
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
- শৈবাল ও ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা ও অপকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কীভাবে ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ছত্রাকজনিত রোগ সংক্রমণের বিষয়ে নিজে সচেতন হব ও অন্যদের সচেতন করব।
- মানবদেহে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টিতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও এন্টামিবার ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মানবদেহে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও এন্টামিবার কারণে সৃষ্ট মানবদেহে স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং প্রতিকার ব্যাখ্যা করতে পারব। এসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিকারে নিজে সচেতন হব এবং অন্যদেরও সচেতন করব।
Related Question
View Allশৈবাল হলো সমাঙ্গবর্গের ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদ।
ছত্রাক ক্লোরোফিলের অভাবে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য এদের মৃত জীবদেহের উপর নির্ভর করতে হয়। ছত্রাক জৈব পদার্থপূর্ণ মৃত জীবদেহ, বাসি, পচা খাদ্যদ্রব্য, ফলমূল, শাকসবজি, গোবর ইত্যাদিতে জন্মায় এবং সেখান থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। যেহেতু ছত্রাক মৃত জীবদেহ থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে তাই ছত্রাককে মৃতজীবী বলা হয়।
উদ্দীপকের A চিহ্নিত চিত্রটি এন্টামিবা নামক এককোষী জীবের। এ ধরনের এককোষী জীবের আক্রমণে এমিবিক আমাশয় হয়ে থাকে। এন্টামিবা দ্বারা সৃষ্ট রোগ অর্থাৎ এমিবিক আমাশয় প্রতিরোধ করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. মলত্যাগের পর এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
২. হাতের নখ নিয়মিত কেটে ফেলতে হবে।
৩. নিরাপদ পানি পান করতে হবে।
৪. নলকূপের পানি নিরাপদ তাই সরাসরি পান করা, গোসল করা ও বাসন ধোয়ার কাজে এ পানি ব্যবহার করতে হবে।
৫. স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।
উদ্দীপকে B চিহ্নিত ক্ষতিকারক জীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। এ ব্যাকটেরিয়ার কারণে রক্ত আমাশয়, ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকারক হলেও পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-
১. ব্যাকটেরিয়া মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পচাতে সাহায্য করে। এতে আবর্জনা দ্রুত নিষ্কাশিত হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
২. একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্য পদার্থকে দ্রুত রূপান্তরিত করে পয়ঃপ্রণালিকে সুষ্ঠু ও চালু রাখে। ফলে বায়ুমণ্ডল দূষিত হয় না।
ব্যাকটেরিয়া যদি উপরোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন না করতো তবে মাটি, পানি এবং বায়ু দূষিত হয়ে পড়ত। আর মাটি, পানি এবং বায়ু দূষিত হয়ে পড়লে পরিবেশও দূষিত হয়ে পড়বে। ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।
তাই বলা যায়, ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকারক জীব হলেও পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইরাস একটি অতি আণুবীক্ষণিক সরলতম জীব, যা কেবল জীবিত জীবদেহে জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে।
ভাইরাসের দেহ শুধুমাত্র প্রোটিন আবরণ ও নিউক্লিক এসিড নিয়ে গঠিত। ভাইরাসের দেহে কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ইত্যাদি কিছুই নেই। তাই ভাইরাসকে অকোষীয় জীব বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!