শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে বাংলাদেশের মানুষ সবাই ভালোভাবে জানে এবং চেনে। তিনি এবং তাঁর কতিপয় বন্ধু মিলে সর্বপ্রথম ছবি আঁকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৪৮ সালের ১৫ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তান গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীকালে গত ষাট বছরে তিনবার নাম, স্থান ও পরিধি পরিবর্তন হয়। বর্তমানে সেই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ নামে শাহবাগে অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার সূচনা হয়। পরবর্তীতে আরও অনেকগুলো শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
শিল্পীর কাজ হচ্ছে শিল্পকলার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্দৃস্টির জাগ্রত করা। শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশ হলো চারুকলা ও কারুকলা। চারুকলা হলো ছবি আঁকা এবং কারুকলা হলো শিল্পকর্ম। আমাদের সমাজজীবনে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চারুকলা ও কারুকলার গুরুত্ব অনেক বেশি। ছবি আঁকা ও শিল্পকর্ম করা একটি সুন্দর ও ভালো কাজ। সমাজকে সুন্দর করার জন্য, মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য, আনন্দে থাকার জন্য ছবি আঁকা একটি প্রয়োজনীয় কাজ। মনের নানা অনুভূতি দিয়ে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ চারুকলা মানুষের দৃষ্টি ও মনকে আনন্দ দেয়। অন্যদিকে কারুকলা দৃষ্টিকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের ব্যবহারিক প্রয়োজনও মিটিয়ে থাকে। এ ধরনের শিল্পকলার মাধ্যমে মানুষের যেমন সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তেমনি মানবিক গুণাবলিরও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজ জীবনকে সুন্দর করা, মানুষের সৃজনশীল প্রতিভার বিকশিত করা এবং সৌন্দর্যবোধ ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জনে চারুকলা ও কারুকলা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বাংলাদেশের পথিকৃৎ ৫ জন শিল্পীরা হলেন :
১। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন;
২। কামরুল হাসান;
৩। আনোয়ারুল হক;
৪। শফিউদ্দিন আহমেদ;
৫। শফিকুল আমিন।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন যাকে বাংলাদেশের মানুষ একনামে চিনে। তিনি এদেশের মানুষকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে, ছবি আঁকা ও শিল্পকর্ম, করা হলো একটা সুন্দর ও ভালো কাজ। সমাজকে সুন্দর করার জন্য, মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য, আনন্দে থাকার জন্য ছবি আঁকা একটি প্রয়োজনীয় কাজ।
শিক্ষিত পরিবারের বাবা-মা মনে করেছেন, ছবি আঁকা শিশুদের জন্য একটি ভালো কাজ, সুন্দর কাজ। তাই তারা তাদের শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন ছবি আঁকার স্কুলে, চিত্র প্রদর্শনীতে ও নানা রকম প্রতিযোগিতায়।
তারা রং, তুলি, কাগজ জোগাড় করে শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা আজ অনেকেই ছবি আঁকছে। তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। বিশেষ করে তারা জাপান, চীন, ভারত, সিংগাপুর, কোরিয়া, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রিটেনসহ আরও অনেক দেশে হাজার হাজার শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরষ্কার পাচ্ছে। এভাবে তারা বাংলাদেশের জন্য সুনাম অর্জন করছে।
কচি-কাঁচার মেলা শিশুদের সংস্কৃতি চর্চা, শিল্পকলা চর্চা ইত্যাদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নানা রকম কর্মসূচি গ্রহণ করে। স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়া, গান গাওয়া, নাটক করা, ছবি আঁকা, বিতর্ক করা ও খেলাধূলায় আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্ন রকম কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শিল্প হাশেম খান কচি-কাঁচার মেলার একটি ঘরে একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে শিশুদের আঁকতে বলতেন। এখানে শিশুদের জন্য অনেক কাগজ, রং, তুলি আগেই তৈরি থাকত। শিশুরা ধীরে ধীরে একসঙ্গে বসে গল্প, হাসি ও খেলার মতো করে ইচ্ছেমতো রংতুলি নিয়ে আঁকিবুকি করতে করতে এক একটি ছবি এঁকে ফেলত। এভাবেই গড়ে ওঠে শিশুদের ছবি আঁকার খেলাঘর শিল্পবিতান।
দৈনিক 'ইত্তেফাক' অফিসের নিচ তলায় দুটি কামরায় ছিল কচি-কাঁচার মেলার অফিস। শিশুদের সংগ্রহ করা ছবি ও কারুকাজের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলো এই কচি-কাঁচার মেলার দুই কামরায়। উদ্বোধন করলেন পটুয়া কামরুল হাসান। এভাবেই শিল্পবিতানের অর্থাৎ ছোটদের ছবি আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল বা কেন্দ্রের মাত্রা শুরু হলো।
যে দুটি ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের শিশুদের চিত্রকলা চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় তার একটি হলো ১৯৫৬ সালের খেলাঘর আয়োজিত শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী এবং অন্যটি হলো ১৯৫৮ সালে শিল্পবিতানের কার্যক্রম শুরুর মধ্যদিয়ে।
শিল্পী হাশেম খানের চিন্তায়, অভিনব ও আনন্দদায়ক পদ্ধতির কারণে শিশুরা ছবি আঁকায় দারুণ মজা পেত। এই দেখে অল্পদিনের মধ্যেই নিজের সন্তানকে ছবি আঁকা চর্চা করতে বাবা-মা এবং অভিভাবকরাও উৎসাহী হয়ে ওঠেন।
শিল্পী হাশেম খান ও রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের চেষ্টায় নানারকম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু চিত্রকলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। তাঁদের দীর্ঘদিনের' চেষ্টায় বাংলাদেশে শিশু চিত্রকলা বিষয়টি সংস্কৃতি চর্চার একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
কচি-কাঁচার মেলায় শিশুদের জন্য অনেক কাগজ, রং, তুলি আগেই তৈরি থাকত। শিশুরা ধীরে ধীরে এক সঙ্গে বসে গল্প, হাসি ও খেলার মতো করে ইচ্ছেমতো রং তুলি দিয়ে ছবি আঁকত।

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-
- বাংলাদেশে চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের শিল্পকলায় পথিকৃৎ শিল্পীদের নাম উল্লেখ করতে পারব।
- চারু ও কারুকলা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরদের ছবি আঁকার গল্প বর্ণনা করতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!