নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার অন্তর্গত ছিল। বর্তমান নালন্দা একটি স্বতন্ত্র জেলা।
নালন্দা নামের উৎপত্তি নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তার মধ্যে দুটি ব্যাখ্যা প্রধান। একটি হলো, অতীতকালে এখানে বোধিসত্ত্ব নামে এক ব্যক্তি রাজত্ব করতেন। তিনি কখনো কাউকে 'নঅল্যদা' 'অর্থাৎ 'আমি দেব না' একথা বলতে পারতেন না। সে কারণে এ স্থানের নাম হয় নালন্দা। অপর ব্যাখ্যা হলো, স্থানীয় এক আম বাগানের মধ্যস্থলে একটি পুকুরে ছিল। সেখানে নালন্দা নামক এক নাগরাজ বাস করতেন। তার নামানুসারে এ জায়গার নাম হয় নালন্দা।
উদ্দীপকে সন্ধ্যার শালবন বিহার ভ্রমণে ধর্মীয়ভাব জাগ্রত হওয়ার মূল কারণ সে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। শালবন বিহার বৌদ্ধদের একটি তীর্থস্থান। সিদ্ধার্থ গৌতম ছয় বছর কঠোর সাধনা করে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি সর্বপ্রাণীর দুঃখ মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর ধর্ম প্রচার করেন। ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি অনেক স্থানে যান। বুদ্ধের নির্দেশে তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যরাও নানা স্থানে বুদ্ধবাণী ছড়িয়ে দেন। বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিহার, চৈত্য, সংঘারাম, স্তম্ভ, স্তূপ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। কালক্রমে তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত এসব স্থান বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের মর্যাদা লাভ করে। বৌদ্ধদের নিকট এসব স্থান তীর্থস্থান হিসেবে শ্রদ্ধা লাভ করে। তীর্থস্থান ভ্রমণে পুণ্য হয়। তাই বৌদ্ধরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসব স্থান ভ্রমণ করে।
বাংলাদেশে অবস্থিত দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ময়নামতির শালবন বিহার, আনন্দবিহার, ত্রিরত্ন মূড়া বিহার, কোটিলা মুড়া বিহার, রূপবান মুড়া বিহার, পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার, ভাসু বিহার, মহাস্থানগড় ইত্যাদি।
উল্লিখিত স্থানগুলোর অনেক স্থানে বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্য-প্রশিয্যগণ বসবাস করতেন, ধ্যান-সমাধি করতেন, বর্ষাবাস যাপন করতেন, ধর্মোপদেশ দান করতেন, ধর্মদর্শন চর্চা করতেন। তাঁদের ধর্ম দেশনা শুনে অনেক লোক লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয় করে দুঃখ হতে মুক্তি লাভকরেছেন, নির্বাণ সুখ উপভোগ করেছেন। আবার অনেক স্থানে বুদ্ধ বা তাঁর প্রধান শিষ্যগণ গমন করেননি। কিন্তু বুদ্ধের ধর্মদর্শন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সেগুলোও প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাই এসব স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।
এসব স্থান পরিভ্রমণ করলে বুদ্ধের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা যায়, ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, মনে ধর্মীয় ভাব জাগ্রত হয়, ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়, জনহিতকর এবং কুশলকর্ম সম্পাদনে মন উদ্বুদ্ধ হয়, ধর্মচর্চার প্রেরণা লাভ করা যায়, মন পবিত্র হয়, কলুষমুক্ত হয়, তৃষ্ণা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রকৃতি ক্ষয় হয়, ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগ বাড়ে, দেশপ্রেম সৃষ্টি হয়। তাই তীর্থ ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
Related Question
View Allসম্রাট অশোক নির্মিত স্তম্ভের মধ্যে শীর্ষ স্তন্ড হলো হস্তীর প্রস্তর ভাস্কর্য।
বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের কাছে বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্যদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ তীর্থস্থান হিসেবে শ্রদ্ধা লাভ করে। তীর্থস্থান ভ্রমণে পুণ্য হয়। তাই বৌদ্ধরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এসব স্থান ভ্রমণ করেন। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে এরূপ অনেক বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে।
প্রীতমের বর্ণনায় জেতবন বিহার তীর্থস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
যেটি বুদ্ধের সময়কালে শ্রাবস্তীর শ্রেষ্ঠ ধনী শ্রেষ্ঠী সুদত্ত বুদ্ধের বসবাসের জন্য নির্মাণ করেন। এটি জেত রাজকুমারের উদ্যান। এটি বিক্রয় করতে রাজি না হওয়ায় বুদ্ধভক্ত শ্রেষ্ঠী সুদত্ত জমির আয়তনের সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ছড়িয়ে স্থানটি ক্রয় করেন এবং সেখানে জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। এ বিহারে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য শয়ন কক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ, রান্নাঘর, স্নানঘর, শৌচাগার, পুকুর, কূপ ও অন্যান্য ব্যবস্থাদি ছিল। জেত রাজকুমার বিহারের তোরণ নির্মাণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তোরণের পাশে সম্রাট অশোক উঁচু স্তম্ভ নির্মাণ করেন। জেতবন বিহারের চারদিকে প্রচুর গাছপালা ছিল। পরিবেশ ছিল ধ্যান সাধনার অনুকূল। তাই বুদ্ধ এ বিহার খুব পছন্দ করতেন। তিনি এখানে উনিশ বর্ষাবাস পালন করেন। কালের গর্ভে জেতবন বিহারটি হারিয়ে যায়।
বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের স্মৃতি বিজড়িত দর্শনীয় স্থানকে তীর্থস্থান বলে। যা কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়; বরং তীর্থস্থানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের নয়। প্রত্যেক মানুষেরই এ দর্শনীয় স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব রয়েছে। তীর্থস্থানগুলো আমাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরবের উজ্জ্বলতম স্বাক্ষর বহন করে। তীর্থস্থান দর্শনে পুণ্য অর্জিত হয়। মনের কলুষতা দূর হয়। দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। ধর্মীয় অনুভব জাগ্রত হয়। আমাদের নতুন প্রজন্ম ঐতিহাসিক তীর্থস্থানসমূহ দর্শন করে নিজেদের মনে হারানো গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হবে। আলোচ্য কারণে প্রীতমের দাদা তীর্থস্থানগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন।
তক্ষশীলা হচ্ছে গান্ধার রাজ্যের রাজধানী।
শ্রাবস্তীর শ্রেষ্ঠ ধনী এবং শ্রেষ্ঠ দানবীর শ্রেষ্ঠী সুদত্তকে 'অনাথপিণ্ডিক' নামে ডাকার যথার্থ কারণ হচ্ছে তিনি অনাথের পিন্ড দাতা ছিলেন বলে তাঁকে এ নামে ডাকা হতো। বুদ্ধের সময়কালে ভারতবর্ষে তাঁর দাদার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!