ম্যালথাস একজন ইংরেজ অর্থনীতিবিদ এবং ধর্মযাজক ছিলেন।
কাম্য জনসংখ্যা বলতে কাঙ্ক্ষিত জনসংখ্যাকে বোঝায়।
কাঙ্ক্ষিত জনসংখ্যা সেটাই, যে জনসংখ্যা কোনো দেশের সম্পদ ও সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে পারে। কাম্য জনসংখ্যা মূলত একটি জনশক্তি বা জনসম্পদ। অর্থাৎ যে জনসংখ্যা উন্নতি ও সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা করতে সক্ষম সেটাই কাম্য জনসংখ্যা।
জাহিদ হাওলাদারের কম বেতন পাওয়ার কারণ হলো নিরক্ষরতা।
নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। নিরক্ষরতা আরও অনেক সামাজিক সমস্যার জন্যেও দায়ী। বস্তুত নিরক্ষরতার পরিণাম। ও প্রভাব এতই সুদূরপ্রসারী এবং সর্বব্যাপী যে, নিরক্ষরতাকে একটি অভিশাপ বলেও বর্ণনা করা হয়। আক্ষরিক অর্থে অবশ্য নিরক্ষরতা বলতে অক্ষর জ্ঞানহীনতাকেই বোঝায়। এ অর্থে নিরক্ষর হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার মধ্যে অক্ষর জ্ঞান নেই। বস্তুত অক্ষরজ্ঞান না থাকার অর্থ অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় না থাকা এবং অক্ষরের ব্যবহার না জানা। অতএব, নিরক্ষর হলো সেই ব্যক্তি যে লিখতে ও পড়তে জানে না। ইউনেস্কোর সংজ্ঞা মোতাবেক, সে ব্যক্তিই নিরক্ষর যে তার দৈনন্দিন জীবনের কোনো ক্ষুদ্র ও সাধারণ বক্তব্য উপলব্ধিসহ পড়তে ও লিখতে অক্ষম।
উদ্দীপকের জাহিদ হাওলাদার সন্তা কৃষি মজুরিতে জীবনযাপন কষ্টকর হওয়ায় শহরে চলে আসেন এবং এখানে এসে একটি কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের কার্টন বহনের কাজ নেন। কিন্তু কাজের সঠিক হিসাব না রাখতে পারায় প্রতিনিয়ত ঠকছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জাহিদ হাওলাদারের কম বেতন পাওয়ার কারণ হলো নিরক্ষরতা।
উদ্দীপকের জাহিদ হাওলাদার একজন নিরক্ষর দিনমজুর। নিরক্ষরতার কারণে তিনি কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ ঠকে যাচ্ছেন। তাই তিনি ক্ষোভে, দুঃখে স্থানীয় এক নৈশ বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হন। তার মতো মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে আমার যে সুপারিশ তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
প্রথমত, নিরক্ষরতা দূরীকরণে শিক্ষিত বেকার সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সে সঙ্গে শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধি করাও অতীব প্রয়োজন। নিরক্ষরতা দূর করতে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বয়স্ক শিক্ষাদান কর্মসূচি বয়স্কদের পেশার সঙ্গে যাতে সংগতিপূর্ণ হয় সেজন্য বিশেষ পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। পর্যাপ্ত বৃত্তি, শিক্ষা ঋণ প্রকল্প চালু ও শিক্ষার উপকরণ সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেওয়াও আশু জরুরি।
তৃতীয়ত, গ্রামের যেসব বাবা-মা নানা কারণে তাদের সন্তানদের সংসারের কাজে লাগাতে বাধ্য হন, তাদের সন্তানদের জন্য গ্রাম এলাকায় স্বল্পমেয়াদি অথবা দীর্ঘমেয়াদি নৈশকালীন শিক্ষাব্যবস্থা -প্রবর্তন করা যেতে পারে।
চতুর্থত, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। বস্তুত যে শিক্ষাজীবন পেশার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, সে শিক্ষা মানুষকে কর্মবিমুখ করে। যে শিক্ষা আমাদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয় সে শিক্ষা গ্রহণে কেউই এগিয়ে আসতে পারে না। তাই শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে বাস্তবমুখী।
উতাই জাহিদ হাওলাদারের মতো সমাজের অনগ্রসর অংশকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া জরুরি এবং উপরোক্ত সুপারিশগুলো এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allজ্ঞাতিসম্পর্ককে সামাজিক সংগঠনের মূল বিষয় বলা হয়।
নগর সমাজের মানুষেরা ধর্মকে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় বলে গণ্য করে।
বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ মন্তব্যটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস।
পঞ্চাশের দশকে ক্লদ লেডি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন- পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। লেভি স্ট্রস সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির আদিম স্বতন্ত্র জীবনধারা দেখে এতই বিস্মিত হন যে, তিনি বাংলাদেশকে সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!