সাধারণ অস্ত্র নয়, ভালোবাসাই ছিল মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের একমাত্র অস্ত্র- উক্তিটি যথার্থ।
১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকার 'এশিয়াটিক ল অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স' পাস করলে এ ঘৃণ্য আইন বাতিলের জন্য তিনি দৃঢ় সংকল্প করেন। এ আইনে বলা ছিল, ট্রান্সভালের ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ঐ দেশে বসবাস করতে হলে নাম রেজিস্ট্রি করে সনদ নিতে হবে। পুলিশকে রেজিস্ট্রেশন সনদ দেখাতে না পারলে জরিমানা ও জেল হবে। গান্ধী এ ঘৃণ্য আইন রদ করার জন্য ব্রিটেনে গিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আপত্তি জানান। কাজ না হওয়ায় আফ্রিকার কষ্ণাঙ্গ ও বর্ণবাদের শিকার ভারতীয়দের আন্দোলনের ডাক দেন। আফ্রিকায় বসবাসকারী আড়াই লক্ষ ভারতীয়কে সুসংগঠিত করে আন্দোলনের। নতন নাম দেন 'সত্যাগ্রহ আন্দোলন'। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ থেকে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল বিধায় এর নাম সত্যাগ্রহ আন্দোলন। তার মতে আন্দোলন হবে অহিংস, প্রতিশোধপ্রবণ নয়। বর্ণবাদবিরোধী ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূত্রে গান্ধী সর্বপ্রথম বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বিশ্ববাসীর নিকট সমাদৃত হন। ভারতীয়দের সমঅধিকারের জন্য আইন অমান্য আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে কয়েকবার কারারুদ্ধ করলেও তার সংগ্রামের ফলে বর্ণবাদী সরকার ভারতীয়দের অধিকার সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করে। রাজনৈতিক বিদ্রোহ হিসেবে সত্যাগ্রহ আন্দোলন ছিল অপরিসীম শক্তিশালী ও কার্যকর।
তাই বলা যায়, সাধারণ অস্ত্র নয়, ভালোবাসাই ছিল মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের একমাত্র অস্ত্র।
Related Question
View Allমার্টিন লুথার কিং আমেরিকার মন্টগোমারি রাজ্যের আটলান্টা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ফ্রান্সের অভিজাতগণ দাবি করেন, অভিজাতরা বহিরাগত বিজেতা জাতি ফ্রাঙ্ক-এর বংশধর। ফ্রাঙ্কিশগণ যেহেতু শ্রেষ্ঠ এবং তাদের দ্বারাই ফ্রান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু জন্মগতভাবেই তারা তৃতীয় শ্রেণির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ কারণে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, নেতৃত্ব অভিজাতদের প্রাপ্য। তৃতীয় শ্রেণির লোকদের তারা বলে, এরা দাসদের সাথে সংকরায়নের ফলে উদ্ধৃত এজন্য তারা নিকৃষ্ট। আর এভাবে ফ্রান্সে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েলের গায়ের রং ফর্সা, তমালের গায়ের রং কালো। এ কারণে জুয়েল তমালকে ঘৃণার চোখে দেখে। জুয়েল মনে করে, তমালদের পূর্বপুরুষ নীচু জাতের। এজন্যই তমালের গায়ের রং কালো। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার সাদৃশ্য রয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের কারণে বর্ণবাদের ধারণার সৃষ্টি হয়। বর্ণবাদ মানব সমাজে বিদ্যমান একটি ঘৃণ্যপ্রথা। আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ প্রথা মানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের বীজ বপন করে দীর্ঘকাল টিকেছিল। বর্ণবাদের মর্মকথা হলো শ্বেতাঙ্গরা জন্মগতভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের বা অন্যান্য জাতি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার আছে এবং তাদের প্রতি বৈষম্য আচরণ করা দোষের কিছু নয়।' পরিশেষে বলা যায়, উপনিবেশবাদ ও চরম জাতীয়তাবাদের ধারণা থেকেই বর্ণবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত ধারণার জন্য অর্থাৎ বর্ণবাদ প্রথার জন্য অনেক দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।
আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বর্ণবাদের কারণে সংঘাত সৃষ্টি * হয়েছিল। আমেরিকা মহাদেশে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রম কাজের জন্য আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো। আফ্রিকার কালো মানুষের প্রতি আমেরিকার শ্বেতাঙ্গরা বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রেন, খাবারের দোকান প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসনামলে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর কর্তৃত্ব করত। কৃষ্ণাঙ্গরা খনি এবং কঠিন কাজে নিয়োগ পেত; কিন্তু মজুরি পেত কম আর শ্বেতাঙ্গরা কম পরিশ্রমে বেশি বেতন পেত। এমনকি আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের অভিবাসী শ্বেতাঙ্গরাও শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ পেত। স্থানীয় ভারতীয় বিচারকরা ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারত না। বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বহুদেশে সংঘাত হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বহু দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেল খেটেছিলেন।
১৯১২ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেস সংক্ষেপে ANC প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন আফ্রিকানদের সংহতি, যাবতীয় ধরনের বর্ণবৈষম্যবাদের বিরোধিতা করে এবং বর্ণবৈষম্যমুক্ত একীভূত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঘোষণা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!