জুয়ায় শব্দের অর্থ জোগায়।
'মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি/দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি' বলতে কবি বংশানুক্রমে বহুকাল ধরে মানুষের এদেশে বাস এবং বাংলা ভাষার প্রচলন ও এ ভাষার কল্যাণের দিকটিকে বুঝিয়েছেন।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য রচনা এবং নীতি ও আদর্শ প্রচার অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক বলে কবি মনে করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, বংশানুক্রমে বহুকাল ধরে মানুষ এদেশে বাস করছে এবং মাতৃভাষা বাংলা ব্যবহার করে আসছে। মাতৃভাষায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে, আনন্দে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। মাতৃভাষা ভাব প্রকাশের সর্বোত্তম বাহন। এ কারণে প্রত্যেক জাতির কাছেই তার মাতৃভাষা অত্যন্ত মূল্যবান এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই দিকটি তুলে ধরতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের জাহিদের মতো মানুষের প্রতি কবি আবদুল হাকিম ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেন।
মাতৃভাষা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। মানুষের চিন্তা-চেতনা, সাধনা মাতৃভাষাতেই সহজভাবে সম্পন্ন হয়। কারণ মাতৃভাষা মানুষের সহজাত ভাষা।
উদ্দীপকের জাহিদের আচরণে মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পছন্দ করে না। এদেশে জন্মগ্রহণ করেও সে এদেশের ভাষাকে সম্মান করে না। সে ইংরেজি জানাকে গৌরবের বিষয় মনে করে। জাহিদের এই আচরণের বিষয়টি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় প্রতিফলিত বাংলা ভাষাবিদ্বেষী মনোভাবসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা দেশি ভাষাকে মূল্য ও মর্যাদা না দিয়ে বিদেশি ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কবি আবদুল হাকিম এ ধরনের স্বদেশি ভাষাবিদ্বেষী এবং বিদেশি ভাষাপ্রেমিকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশি ভাষার প্রতি যাদের অনুরাগ নেই, দেশি ভাষার বিদ্যা যাদের মন জোগায় না, যারা মাতৃভাষাকে অবহেলা করে, তারা যেন এ দেশ ত্যাগ করে বিদেশে চলে যায়।
"উদ্দীপকের সাহিদ ও 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবির বক্তব্য একই চেতনা থেকে উৎসারিত" মন্তব্যটি যথার্থ।
মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি প্রত্যেক মানুষের কাছে পরম শ্রদ্ধার। মানুষ তার প্রয়োজনে মাতৃভাষা ছাড়াও একাধিক ভাষা শিখে। তাই বলে মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। কারণ স্বদেশের ভাষা-সংস্কৃতিকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষা-সংস্কৃতি দ্বারা কেউ বড় হতে পারে না।
উদ্দীপকের সাহিদ বাংলা ভাষার প্রতি অনুরাগী। সে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসে। যারা বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করে তাদের প্রতি সে ক্ষুব্ধ। সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে আমরা বাঙালি, বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার। সাহিদের এ বক্তব্য এবং 'বঙ্গবাণী' কবিতায় প্রতিফলিত কবির বক্তব্য এক। কবিও বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে, তারা যেন এদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে চলে যায়। কারণ বাংলা ভাষা বাঙালিদের কাছে অনেক মর্যাদার ও অহংকারের। বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার প্রতি কবির বিশেষ আগ্রহ নেই। তিনি এ ভাষাতেই তাঁর আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করেন। উদ্দীপকের সাহিদের মধ্যেও এ ধরনের ভাষাপ্রীতি লক্ষ করা যায়।
'বঙ্গবাণী কবিতায় কবি তাঁর মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এদেশে জন্মগ্রহণ করে যারা এদেশের ভাষাকে অবজ্ঞা করে তাদের প্রতি তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কবির মতো উদ্দীপকের সাহিদও বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!