নিজেদের আশপাশে বা নিকটবর্তী বসবাসকারী মানুষকেই প্রতিবেশী বলে।
ওজনে কম দেয়া প্রতারণামূলক অপরাধ। আর প্রতারণা করা হারাম। প্রতারণার অর্থ হলো- প্রবঞ্চনা, ছলনা, হঠকারী, শঠতা ইত্যাদি। প্রকৃত অবস্থার বিপরীত অবস্থাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাকে প্রতারণা বলা হয়। প্রতারণা ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অত্যন্ত ঘৃণিত ও গর্হিত কাজ। এটি একটি সমাজদ্রোহী পাপ। ইসলাম ধোঁকা বা প্রতারণার রূপ ও পন্থাকে হারাম করে দিয়েছে, তা ক্রয়- বিক্রয় সম্পর্কেই হোক বা অন্য কোনো মানবীয় ব্যাপারেই হোক। কোনো ক্রমেই তা জায়েয নয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত সিরাজ সাহেবের এরূপ চরিত্র হাদিস সমর্থন করে না। মানবসমাজে যতগুলো সম্পর্ক রয়েছে তার মধ্যে আত্মীয়ের সম্পর্কটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আত্মীয়দের সাথে সুন্দর ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে। যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ইসলামি শরিয়তে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে হাদিসের বাণী হলো- 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে সে যেন আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে' (বুখারি)।
রাসুল (স) আরো বলেন- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। উদ্দীপকে বর্ণিত সিরাজ সাহেবের বাড়িতে মেহমান আসলে তার মন খারাপ হয়ে যায়। নিজেও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যেতে চান না। তার স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনদের খুব আপ্যায়ন করেন বলে তিনি তার সাথে ঝগড়া করেন। সিরাজ সাহেবের এ ধরনের কার্যক্রম পবিত্র কুরআন ও হাদিস সমর্থন করে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সিরাজ সাহেব ও খাদিজা বেগমের মধ্যে আমি খাদিজার চরিত্রকে সমর্থন করি। সিরাজ সাহেব ও খাদিজা বেগমের মধ্যে আমি খাদিজা বেগমের চরিত্রকে এজন্য সমর্থন করি, কারণ খাদিজা সঠিক পথে রয়েছে। সিরাজ সাহেব আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে খুবই উদাসীন। তিনি আত্মীয়দের বাড়ি যান না এবং আত্মীয় আসলে মন খারাপ করেন। অন্যদিকে খাদিজা বেগম আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি খুব গুরুত্ব দেন। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত ও রাসুল (স) এর অনেক হাদিস রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন- তোমরা পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো আর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সাথেও ভালো ব্যবহার করো (সূরা নিসা : ৩৬)। রাসুল (স) বলেন- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারি)।
পবিত্র কুরআন ও হাদিস দ্বারা আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যেহেতু খাদিজা বেগম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে সেহেতু আমি তাকে সমর্থন করি।
Related Question
View Allআল্লাহর একত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয় বলে ইসলামি সমাজব্যবস্থাকে তাওহিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বলা হয়। তাওহিদ ইসলামি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, আইনপ্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে অন্তরে বিশ্বাস ও মুখে স্বীকার করাকে তাওহিদ বলে। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। তাই ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড এ মৌলিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারে মুসলমানদের অবদান অপরিসীম। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা বিস্তারের মহৎ কাজটি রাসুল (স) তাঁর নিজ গৃহ থেকে সর্বপ্রথম শুরু করেন। তিনি হযরত আরকাম (রা) এর বাড়িতে 'দারুল আরকাম' নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রাসুল (স) মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববিকে উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে রূপ দেন। সাহাবিরাও শিক্ষা বিস্তারে বিরাট ভূমিকা রাখেন। আবু বকর (রা) কুরআন শরিফকে গ্রন্থাবদ্ধ করেন। উসমান (রা) কুরআন সংকলন করেন। উমর (রা) শিক্ষকদের সম্মানী নির্ধারণ করেন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সাহাবিদের বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেছেন। উমর বিন আব্দুল আজিজ (রা)-এর সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংকলন, বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, ফিকহ সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে 'বায়তুল হিকমাহ' নামে একটি বিজ্ঞানাগার তৈরি করেন।
ইবনে সিনা, আল রাযি, ইবনে রুশদ, ইবনে আব্বাস, ইমাম গাযযালি (র) অসামান্য অবদান রাখেন। গণিতশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান অবিস্মরণীয়। বীজগণিতের জনক মুসা আল খারিযমি। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা-বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানগণ অবদান রেখে গেছেন। তাদের দেখানো পথে বর্তমান বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়ন করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন করছেন।
বর্তমানে ইমামগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন। মক্তবে পাঠদান, জুমার উদ্দীপকে শিক্ষক পাঠদানকালে শিক্ষার্জনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) শিক্ষা অর্জনের যে তাগিদ দিয়েছেন তা উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সময়ে এরই ধারবাহিকতায় মসজিদের ইমামগণও আল্লাহ ও রাসুল (স) এর মিশন বিভিন্নভাবে সমাজে পরিচালিত করতে পারে তার দিকেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইমামগণ শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যা মসজিদে অথবা মসজিদের বাইরেও পরিচালিত হতে পারে। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা কুরআন, হাদিস, আদব-আখলাক, হালাল-হারাম ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তাছাড়া বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র বা গণবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যার দ্বারা সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ হোক ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই শিক্ষা অর্জন করবে এবং নিরক্ষরতা দূর করবে। ইমাম সাহেব প্রতি শুক্রবার সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খুতবায় আলোচনা করতে পারেন এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। ইমামগণ সেমিনার সিম্পোজিয়াম, পত্র-পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেও এই মহান কাজটি করতে পারেন। এভাবে তারা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে যেমন বিরত রাখতে পারেন তেমনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহ প্রদান করে শিক্ষা বিস্তারে মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারেন।
মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় একে ইসলামি সমাজের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। মসজিদকে কেন্দ্র করেই ইসলামি সমাজ গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয়। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষকে ইমান-আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!