জননীর আশীর্বাদ গাভির পরিচর্যাকারীকে ধন্য করবে।
বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ব্যক্তিগণ শাসন আর শোষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মানবের মুক্তির পথ সুগম করেছেন বলে তাঁদের মানবমুক্তির দূত বলা হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা অনুসারে বাঙালি জাতীয় জীবনে কখনোই শত্রুর কাছে পরাজয় মানেনি। শোষকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলায় এ জাতির রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি হয়েছে তা এখনো তাজা রক্তজবার মতো।
উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষদের সংগ্রামী চেতনাসঞ্চারী ইতিহাসের অনুষঙ্গ। নূরলদীন-তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রীতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা আমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বের ইতিহাসকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা যে বীরের জাতি তা এসব মহান ব্যক্তিদের সংগ্রামী জীবনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। যাঁরা এ জাতির মুক্তির জন্য নানা অত্যাচার সহ্য করে গেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
শত্রুর হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য উদ্দীপকের ব্যক্তিরা বারবার ধৈর্য, শক্তি-সাহস ও শৌর্যবীর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাই এসব ব্যক্তিরা কাঙ্ক্ষিত মানবমুক্তির দূত হয়ে উঠেছেন, যা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের্ সঙ্গে অভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের সংগ্রাম, বিজয় ও পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার কথা বলা হয়েছে। কবিতায় হাজার বছরের সমগ্র বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস এবং যুদ্ধ করে টিকে থাকা ও বিজয় লাভের গাথা উচ্চারিত হয়েছে। বাঙালি জাতির এমন সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য কবি সংগ্রামী চেতনায় প্রকাশ করেছেন কবিতায়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা ইতিহাসের হাত ধরে এসেছে। শত্রুর কাছে পরাজয় মানেনি বলেই যুগে যুগে কিংবদন্তিদের আগমন ঘটেছে এ বাংলায়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আশ্রয় করে মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর মুক্তির পূর্বশর্ত হলো সংগ্রাম, যা আমাদের পূর্বপুরুষেরা হাজার বছর ধরে করে এসেছেন। উদ্দীপকেও হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমার কথা এসেছে বাঙালির লড়াকু-প্রতিবাদী মনোভাব বোঝাতে। এই হার না মানা মনোভাবের কারণেই বাংলায় বারবার নূরুলদীন-তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মানুষেরা জন্মেছেন। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের এদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।"
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!