ত্রিরত্ন বন্দনায় বুদ্ধরত্ন, ধর্মরত্ন ও সংঘরত্নের স্তুতি করা হয়।
যে ধর্ম আর্যঅষ্টাঙ্গমার্গ (পথ) বিশিষ্ট, সব লোকের মোক্ষপুরী প্রবেশের সোজা পথ, শান্তিকর, প্রণীত বা শ্রেষ্ঠ এবং যেই ধর্ম নির্বাণে নিয়ে যায়, সে ধর্মকে প্রণাম জানাচ্ছি।
উদ্দীপকে সুজাতা বড়ুয়া ত্রিরত্নের সংঘরত্নের গুণটি অনুসরণ করেছেন। ত্রিরত্নের তিনটি গুণের মধ্যে সংঘরত্ন তৃতীয় রত্ন। সংঘ শব্দের সাধারণ অর্থ বহুজনের সমাবেশ। এখানে সংঘ বলতে বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত মহান ভিক্ষুসংঘকে বোঝানো হয়েছে। ভিক্ষুসংঘ বুদ্ধের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আদেশ মেনে লোভ-দ্বেষ-মোহবিহীন, সৎ, নৈতিক ও পবিত্র জীবনযাপন করে। তারা বুদ্ধ শাসনে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন। বৌদ্ধধর্মের ভিক্ষুরা শ্রদ্ধাদানের উত্তম পাত্র। যে বন্দনার মাধ্যমে বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসংঘের স্তুতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় তাকে সংঘ বন্দনা বলে। উদ্দীপকের সুজাতা বড়ুয়া সংঘরত্ন অনুসরণের মাধ্যমে সৎ ও পবিত্র জীবনযাপনে উদ্যোগী হয়েছেন।
ধর্মচর্চা প্রত্যেকের প্রতিদিনের ধর্মীয় কর্ম। 'ধর্ম' শব্দের অর্থ ধারণ করা। বৌদ্ধধর্মে ধর্ম বলতে সদাচার, নৈতিকতা এবং সততাকে বোঝায়। অর্থাৎ যা ধারণ করলে জীবন সুন্দর হয় তা-ই ধর্ম। বৌদ্ধধর্মে প্রতিটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ত্রিরত্ন বন্দনা করা হয়। ত্রিরত্নের ধর্মরত্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। বুদ্ধরত্নের মাধ্যমে মহাজ্ঞানী বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ত্রিরত্নের তৃতীয় রত্ন সংঘরত্ন বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসংঘকে বোঝায়। ভিক্ষুসঙ্ঘ বুদ্ধের নিয়ম-শৃঙ্খলা, আদেশ মেনে লোভ-দ্বেষ-মোহবিহীন সৎ নৈতিক ও পবিত্র জীবনযাপন করে। তারা বুদ্ধ শাসনে জীবন উৎসর্গ করে। ধর্মচর্চা মানুষকে উদার হতে প্রেরণা যোগায়। সৎ ও নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
সুতরাং বলা যায় যে, ধর্মচর্চা সৎ ও নৈতিক জীবনযাপনে সহায়ক।
Related Question
View All'বন্দনা' শব্দের অর্থ নিবেদন করা, গুণীর গুণরাশির স্তুতি বা প্রশংসা করা।
বন্দনা পালনের জন্য বেশকিছু নিয়ম-কানুন পালন করতে হয়। বন্দনা বিহারে এবং গৃহে বুদ্ধমূর্তির সামনে সকাল সন্ধ্যা দুবেলা করতে হয়। বন্দনার সময় হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে বুদ্ধমূর্তির সামনে হাঁটুভেঙে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করতে হয়। এরপর বন্দনা করতে হয়।
শ্রাবণী বড়ুয়া ত্রিরত্নের গুণ অনুসরণ করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রাত্যহিক ধর্মীয় কর্মের মধ্যে ত্রিরত্ন বন্দনা অন্যতম। বৌদ্ধদের প্রতিটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে ত্রিরত্ন বন্দনা করা হয়। বন্দনার জন্য. বেশকিছু নিয়ম পালন করতে হয়। বন্দনা বিহার এবং গৃহে বুদ্ধমূর্তির সামনে করতে হয়। বন্দনার আগে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে হয়। পবিত্র মনে হাঁটুভেঙে বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করে তারপর ত্রিরত্ন বন্দনা করতে হয়। ত্রিরত্নে বুদ্ধরত্নের মাধ্যমে বুদ্ধের মহাজ্ঞানের অনন্ত গুণরাশির স্মরণও ভূতি করা হয়। বৌদ্ধধর্মে ভিক্ষুরা শ্রদ্ধা দানের উত্তম পাত্র। তাই সঙ্ঘ বন্দনার মাধ্যমে বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসঙ্ঘের স্তুতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উদ্দীপকে শ্রাবণী উক্ত ত্রিরত্ন গুণ অনুসরণের মাধ্যমে সঠিকভাবে পূজা-অর্চনা করেন।
শ্রাবণী অনুসরণীয় নীতির দ্বারা ইহ ও পরজীবনে ফল লাভ করা সম্ভব।
ত্রিরত্নের মাধ্যমে মহামানব বুদ্ধের অনন্ত গুণরাশির স্মরণ ও স্তুতি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রবিত্র মনে বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি পরজীবনের জন্য কিছু পাথেয় হিসেবে সঞ্চিত হয়। ধর্ম বলতে ধারণ, সদাচার, নৈতিকতা ও সততাকে বোঝায়। ধর্ম বন্দনার মাধ্যমে অর্জিত এসব গুণাবলি ইহ ও পরজীবনের জন্য পরম পাথেয়। উক্ত গুণগুলো উদ্দীপকের মধ্যে থাকলে সে ইহ ও পরজীবনে চরম সুফল লাভকরবে। বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসঙ্ঘে বুদ্ধের নিয়ম-শৃঙ্খলা, আদেশ মেনে লোভ-দ্বেষ-মোহবিহীন, সৎ নৈতিক ও পবিত্র জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। সঠিকভাবে ত্রিরত্ন পাঠ বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়। নিয়ম- শৃঙ্খলার মাধ্যমে সৎ ও নৈতিক জীবনযাপন মানুষকে মানবিকতা শেখায়। সৎ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে, যা ইহকালের সাথে পরকালের জন্যও প্রয়োজন।
সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকে শ্রাবণী উক্ত নীতি অনুসরণের ইহ ও পরকালের জন্য সুফল নিয়ে আসবে।
বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘকে একত্রে ত্রিরত্ন বলা হয়।
বৌদ্ধধর্মে বন্দনার গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বন্দনা করা হয়। বন্দনার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো- শ্রদ্ধা নিবেদন করা, গুণীর গুণরাশির স্তুতি বা প্রশংসা করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
