আমরা কিছু কাজ করি, নিজের মঙ্গলের জন্য। আবার আমরা এমন কিছু কাজ করি যাতে অন্যের মঙ্গল হয়, অন্যের আনন্দ হয়। অন্যের মঙ্গল বা অন্যের আনন্দের জন্য যে কাজ করা হয় তার নাম 'সেবা'।
আমরা পূর্ববর্তী অধ্যায়সমূহে হিন্দুধর্মের স্বরূপ ও বিশ্বাস, স্রষ্টা ও সৃষ্টিসহ কিছু ধর্মীয় কৃত্য এবং হিন্দু ধর্মের আদর্শের মূর্ত প্রতীক অবতার, মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবন চরিত সম্পর্কে জেনেছি। আরও জেনেছি হিন্দুধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের উৎস হিসেবে কিছু ধর্মগুরুর পরিচয়। ধর্মগ্রন্থে তত্ত্বভিত্তিক আলোচনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে উপাখ্যান থাকে। সে সকল উপাখ্যানের মধ্য দিয়ে যেভাবে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে তার পরিচয়ও আমরা পেয়েছি।
এ অধ্যায়ে ধর্ম ও নৈতিকতার ধারণা, নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে হিন্দুধর্মের গুরুত্ব, হিন্দুধর্মের কতিপয় মূল্যবোধ- জীবসেবা, দয়া, ভক্তি বা শ্রদ্ধা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ভ্রাতৃপ্রেম সম্পর্কে এবং পরিবারিক ও সামাজিক জীবনে এসব নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের উপায় এবং ধূমপান যে একটা অনৈতিক কাজের প্রকার তাও নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ধর্ম ও নৈতিকতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে হিন্দুধর্মের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- হিন্দুধর্মের কতিপয় নৈতিক মূল্যবোধ (জীবসেবা, দয়া, ভক্তি বা শ্রদ্ধা কর্তব্যনিষ্ঠা ও ভ্রাতৃপ্রেম) ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে জীবসেবার অভ্যাস, জীবসেবা, দয়া, ভক্তি বা শ্রদ্ধা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ভ্রাতৃপ্রেম প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ধূমপান অনৈতিক কাজ- একথা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সামাজিক জীবনে নৈতিক আচরণে উদ্বুদ্ধ হব।
- ধূমপান থেকে বিরত থাকব এবং অন্যকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করব।
Related Question
View Allধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুযায়ী যা ধারণ করে, তাই ধর্ম। অর্থাৎ যে বিশেষ গুণ, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয় এবং নিজের মোক্ষ লাভ হয়, তাই ধর্ম।
নৈতিকতা বলতে বোঝায় ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য বুঝে ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ না করার মানসিকতা। নৈতিকতা একটি চারিত্রিক গুণ। নৈতিকতা একটি মূল্যবোধ।
কর্তব্যনিষ্ঠা মানুষের একটি নৈতিক গুণ। সবাইকেই কিছু না কিছু কর্ম বা কাজ করতে হয়। কৃতকগুলো অবশ্য পালনীয় কর্ম রয়েছে যেটিকে বলা হয় কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন করা আমাদের প্রত্যেকের উচিত। এটিই করতে হবে নিষ্ঠার সাথে, শ্রদ্ধার সাথে। তবেই কাজটি সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হবে, এটিই হলো কর্তব্যনিষ্ঠা; যেমন- বীরবল তার কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য নিজের পুত্রকে পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছিলেন।
পূজনীয় শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির প্রতি আমাদের প্রাণের যে টান বা অনুরাগ তার নাম ভক্তি। এ শব্দটি আমরা বিভিন্ন জায়গায়, কথায় প্রয়োগ করি; যেমন- মায়ের প্রতি যে ভক্তি, তার নাম মাতৃভক্তি। এ রকম পিতৃভক্তি, গুরুভক্তি ঈশ্বরভক্তি ইত্যাদি। ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসাও ভক্তি।
আমরা জানি, যা ধারণ করে, তাকে ধর্ম বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয়-এবং নিজের মোক্ষলাভ হয়, তার নাম ধর্ম। মানুষের ধর্ম মনুষ্যত্ব, ঠিক যেভাবে আগুনের ধর্ম দহন করা।
'মনুসংহিতা' নায়ক হিন্দুধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে-মানুষের ধর্মের বা মনুষ্যত্বের পাঁচটি বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। যথা- অহিংসা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, দেহ ও মনে শুচি বা পবিত্র থাকা সৎপথে থাকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!