গজনি মাহমুদ হলেন- গজনির সুলতান মাহমুদ।
'মানুষ' কবিতায় 'স্বার্থের জয়' বলতে দুর্বলদের অত্যাচার-নির্যাতন করে একশ্রেণির মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ লাভের বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।
'মানুষ' কবিতায় বলা হয়েছে, অনেকে আছে যারা মন থেকে ধর্মকে লালন করে না। তারা ধর্মকে কেবল নিজ স্বার্থ লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এদের মতো ধর্মব্যবসায়ীর কাছে মানবতার কোনো মূল্য নেই, ব্যক্তিস্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য। পূজারি-মোল্লা ক্ষুধার্তকে খাবার না দিয়ে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভজনালয়ের দ্বার বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়টিকেই 'স্বার্থের জয়' কথাটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মানুষ মানবধর্মের কথা ভুলে যায়। তারা মানুষ হয়ে মানুষকে অপমান করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। তারা মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। অসহায় দরিদ্র মানুষের দিকে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় না।
উদ্দীপকে ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নিমন্ত্রণ করে এনে খাবার না দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে ক্ষুধার্তদের ক্ষুধায় ছটফট করা উপভোগ করার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি 'মানুষ' কবিতার ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া তথা অমানবিক আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ভিখারি যেমন খাবার না পেয়ে মোল্লা-পুরুতের ভর্ৎসনায় চলে গেছে, উদ্দীপকেও তেমনই কুকুরের ভয়ে ক্ষুধার্তরা পালিয়ে গেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও 'মানুষ' কবিতা ও উদ্দীপকের মূলভাব একই।"- মন্তব্য যথার্থ।
পৃথিবীজুড়ে মানুষের মধ্যে যে বিভেদ-বৈষম্য দেখা যায় সেগুলো মূলত স্বার্থের কারণে তৈরি। সামনে ধর্ম, বর্ণ, জাতির বিষয় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। লোভী ও স্বার্থপর ব্যক্তিরা তাদের হীন বাসনা চরিতার্থ করার জন্যই এসব ধর্ম-বর্ণের আশ্রয় গ্রহণ করে। এসব স্বার্থপর ব্যক্তি সব কালেই চরম অমানবিকতার পরিচয় দেয়।
উদ্দীপকে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে, তা না দিয়ে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বিদায় করার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের হুজুর এখানে অত্যন্ত হীন মানসিকতা ও অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এ বিষয়টি 'মানুষ' কবিতায় ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে খাবার না দিয়ে ভর্ৎসনা করে বিদায় করে দেওয়ার মতো অমানবিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মোল্লা-পুরুত তাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনুরূপ কাজ করেছে।
'মানুষ' কবিতায় সাত দিনের অনাহারী ভূখারি মসজিদে-মন্দিরে খাবার চাইতে গিয়ে যে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে তার প্রতিফলন উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। এখানে হুজুর ক্ষুধার্তদের খাবার দেওয়ার কথা বলে দাওয়াত করে এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে তাদের ক্ষুধায় কাতরানো উপভোগ করেছে। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!