হুজুর আপনার 

মেহমানদারী বড় অদ্ভুত ব্যাপার।

দাওত করার পরে ঘরে খিল দিয়ে 

জানালায় গিয়ে

দরজায় ভিড়ের দিকে চেয়ে চেয়ে করুণার হাসি।

মোরা পাশাপাশি

হয়ে ক্ষুধায় কাতরাই, ডাল কুত্তা তেড়ে আসে 

তাই দেখে হঠাৎ পালাই।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

গজনি মাহমুদ হলেন- গজনির সুলতান মাহমুদ।

উত্তরঃ

'মানুষ' কবিতায় 'স্বার্থের জয়' বলতে দুর্বলদের অত্যাচার-নির্যাতন করে একশ্রেণির মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ লাভের বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে। 

'মানুষ' কবিতায় বলা হয়েছে, অনেকে আছে যারা মন থেকে ধর্মকে লালন করে না। তারা ধর্মকে কেবল নিজ স্বার্থ লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এদের মতো ধর্মব্যবসায়ীর কাছে মানবতার কোনো মূল্য নেই, ব্যক্তিস্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য। পূজারি-মোল্লা ক্ষুধার্তকে খাবার না দিয়ে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভজনালয়ের দ্বার বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়টিকেই 'স্বার্থের জয়' কথাটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে মানুষ মানবধর্মের কথা ভুলে যায়। তারা মানুষ হয়ে মানুষকে অপমান করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। তারা মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। অসহায় দরিদ্র মানুষের দিকে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় না।

উদ্দীপকে ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নিমন্ত্রণ করে এনে খাবার না দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে ক্ষুধার্তদের ক্ষুধায় ছটফট করা উপভোগ করার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি 'মানুষ' কবিতার ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে খাবার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া তথা অমানবিক আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ভিখারি যেমন খাবার না পেয়ে মোল্লা-পুরুতের ভর্ৎসনায় চলে গেছে, উদ্দীপকেও তেমনই কুকুরের ভয়ে ক্ষুধার্তরা পালিয়ে গেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষুধার্তের প্রতি অমানবিক আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তরঃ

"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও 'মানুষ' কবিতা ও উদ্দীপকের মূলভাব একই।"- মন্তব্য যথার্থ। 

পৃথিবীজুড়ে মানুষের মধ্যে যে বিভেদ-বৈষম্য দেখা যায় সেগুলো মূলত স্বার্থের কারণে তৈরি। সামনে ধর্ম, বর্ণ, জাতির বিষয় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। লোভী ও স্বার্থপর ব্যক্তিরা তাদের হীন বাসনা চরিতার্থ করার জন্যই এসব ধর্ম-বর্ণের আশ্রয় গ্রহণ করে। এসব স্বার্থপর ব্যক্তি সব কালেই চরম অমানবিকতার পরিচয় দেয়।

উদ্দীপকে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে, তা না দিয়ে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বিদায় করার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের হুজুর এখানে অত্যন্ত হীন মানসিকতা ও অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এ বিষয়টি 'মানুষ' কবিতায় ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে খাবার না দিয়ে ভর্ৎসনা করে বিদায় করে দেওয়ার মতো অমানবিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মোল্লা-পুরুত তাদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনুরূপ কাজ করেছে।

'মানুষ' কবিতায় সাত দিনের অনাহারী ভূখারি মসজিদে-মন্দিরে খাবার চাইতে গিয়ে যে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে তার প্রতিফলন উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। এখানে হুজুর ক্ষুধার্তদের খাবার দেওয়ার কথা বলে দাওয়াত করে এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে তাদের ক্ষুধায় কাতরানো উপভোগ করেছে। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

93

                                         গাহি সাম্যের গান -

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,

সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।

                                     ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,

ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!”

স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,

দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !

জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কণ্ঠ ক্ষীণ—

ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনি তো সাত দিন!”

সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারি ফিরিয়া চলে,

তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !

                                       ভুখারি ফুকারি' কয়,

‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, – অঢেল গোস্ত রুটি

বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,

এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন

বলে, “বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!'

তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-'ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নমাজ পড়িস বেটা?”

ভুখারি কহিল, 'না বাবা!' মোল্লা হাঁকিল-'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ!' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা ।

                     ভুখারি ফিরিয়া চলে,

                    চলিতে চলিতে বলে-

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করনি প্রভু ।

তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।

মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি !”

কোথা চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?

ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার !

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?

সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!

                   হায় রে ভজনালয়,

তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয় !
২০২১

Related Question

View All
259
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews