মেনু পরিকল্পনা বলতে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বয়স, আয়, পরিশ্রম, শারীরিক অবস্থা, উপলক্ষ ইত্যাদি বিবেচনা করে পরিবার, প্রতিষ্ঠান অথবা যেকোনো অনুষ্ঠানে যে খাদ্যতালিকা তৈরি করাকে বোঝায়।
যে খাদ্যে খাদ্যের সকল উপাদান ব্যক্তির দেহের চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান থাকে তাকে সুষম খাবার বলে।
বয়স, ওজন, পরিশ্রমভেদে ব্যক্তির চাহিদার ভিন্নতা থাকে। এ কারণেই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিতে ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য চাহিদা পরিলক্ষিত হয়। তাই সুষম খাদ্যেও ব্যক্তি বিশেষে ভিন্নতা দেখা যায়।
লাইজু বেগম পরিবারের মেনু পরিকল্পনার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করেন তা হলো- উপলক্ষ, বয়স, লিঙ্গ, আবহাওয়া ও মৌসুম, আয় ইত্যাদি।
মেনু পরিকল্পনার সময় উপলক্ষ, সদস্যদের বয়স, লিঙ্গ, আবহাওয়া ও মৌসুম এবং পরিবারের আয় বিবেচনা রাখতে হয়। লাইজু মেনু পরিকল্পনার সময় উপলক্ষকে গুরুত্ব দেন। কারণ এতে খাবারে ব্যতিক্রম ঘটে ও খাদ্য আকর্ষণীয় হয়। এছাড়া তার গৃহে বিভিন্ন বয়সের সদস্য আছে, যাদের খাদ্য চাহিদাও ভিন্ন। বৃদ্ধ, কিশোর-কিশোরী, শিশুদের খাদ্য চাহিদায় পার্থক্য থাকে। আবার লিঙ্গ অনুযায়ী ক্যালরি ও প্রোটিনের চাহিদার তারতম্য ঘটে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের এসব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেশি থাকে। আয় একটি পরিবারের মেনু পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লাইজু তাই আয় বুঝে সস্তা কিন্তু পুষ্টিসম্পন্ন খাবার তার মেনুতে রাখেন। তিনি আবহাওয়া ও মৌসুমকেও সমান গুরুত্ব দেন। কারণ মৌসুমভেদে খাদ্যাভ্যাসে ভিন্নতা আসে।। আবার আবহাওয়ার জন্যও ক্যালরি গ্রহণে তারতম্য হয়। যেমন- শীতপ্রধান দেশের লোকদের বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার লাগে। আমাদের মত গ্রীষ্ম প্রধান দেশের জন্য ততটা দরকার হয় না।
লাইজু তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই উপরিউক্তভাবে তার মেনু পরিকল্পনা করে থাকেন।
লাইজু বেগম মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠী অনুসরণ করলে তার পরিবারে খাদ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান সম্ভব। একটি খাদ্যে সকল পুষ্টি উপাদান বর্তমান থাকে না। তাই খাদ্যগুলোকে এর প্রধান পুষ্টি উপাদানের ভিত্তিতে একটি শ্রেণিবিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠী নামে পরিচিত।
আমরা জানি কতগুলো খাদ্য একটি বিশেষ উপাদানের উত্তম উৎস অথচ অন্য উপাদান তেমন সরবরাহ করতে পারে না। এর জন্য পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। বিভিন্ন খাদ্যের সমাবেশে প্রয়োজনীয় উপাদান যোগানো সুষম খাদ্য প্রস্তুতের উদ্দেশ্য।
মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর প্রত্যেক বিভাগ থেকে খাদ্য নির্বাচন করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করলে সুষম খাদ্য হয়। মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর কোনো একটি শ্রেণির খাদ্য উপাদান বাদ গেলে তার ঘাটতি হতে পারে। তাই প্রতিবেলায় মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর একই খাদ্যগোষ্ঠী হতে একই খাদ্য নির্বাচন না করে অন্য খাদ্য নির্বাচন করে খাদ্যে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমারোহ ঘটানো সম্ভব হয়।
সুতরাং বলা যায়, মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর প্রত্যেক গোষ্ঠী হতে খাদ্য গ্রহণ করে লাইজু তার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
Related Question
View Allশিশুর পুষ্টি চাহিদা বলতে শিশুর স্বাভাবিক, সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে ধরনের পুষ্টি উপাদান ও খাদ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন তাকে বোঝায়। সাধারণত প্রথম ২ বছরে শিশু সর্বাধিক হারে বাড়তে থাকে। তাই এ সময় প্রতি একক ওজনে তার পুষ্টি চাহিদা বেশি হয়।
মৌলি তার সন্তানকে বিভিন্ন ধরনের বাড়তি খাবার দিতে পারে।
শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে দৈহিক বৃদ্ধির হার দ্রুত হয়। সেই সাথে তার পুষ্টি চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই এই সময় শিশুকে দুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাড়তি খাবার দিতে হয়। এক্ষেত্রে মৌলি তার শিশুকে নরম সিদ্ধ ডিমের কুসুম দিতে পারে। এছাড়া সবজি, আলু সিদ্ধ দিতে পারে। এগুলো তার শিশুকে ভিটামিন 'এ' সরবরাহ করবে। চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করে মৌলি তার সন্তানকে খাওয়াতে পারে। এগুলো তার সন্তানের বাড়তি শক্তির চাহিদা পূরণ করবে। এর পাশাপাশি সে কলিজা সিদ্ধ, রান্না করা মাংস বা মাছ দিতে পারে। এ খাদ্যগুলো তার শিশুকে লৌহ ও প্রোটিন সরবরাহ করবে। এছাড়া দুধসহ চালের গুড়ার সুজি খাওয়াতে পারে। দুধসহ জাউভাত বা ডাল দিয়ে জাউড়াত দিতে পারে। এর পাশাপাশি ডাল দিয়ে সিদ্ধ আলু চটকানো খাওয়াতে পারে। বিভিন্ন মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারে। কচি মুরগীর স্যুপ সে তার শিশুকে দিতে পারে। উপরিউক্ত খাবারগুলোর মধ্যে প্রতিদিন এক খাবার না দিয়ে যেদিন যে খাবারটি তৈরি করা যায় সেদিন সেটি দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকর্মী মৌলিকে কতগুলো নিয়ম মেনে বাচ্চাকে বাড়তি খাবার দিতে বলেছেন। শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার খাওয়াতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। মৌলিকে ও এসকল নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। নিয়মগুলো হলো-
প্রথমে একটি খাদ্য অল্প পাতলা করে সামান্য পরিমাণে বা ১-২ চামচ করে অভ্যাস করাতে হবে। শিশু কোনো খাবারের প্রতি অনীহা প্রকাশ করলে তাকে জোর করে খাওয়ানো যাবে না। বরং কিছুদিন পর আবার ঐ খাবারটি তৈরি করে তাকে খাওয়ানো যেতে পারে। একটি খাবার কিছুদিন দিয়ে তাকে অভ্যস্ত করতে হবে। ঘন ঘন খাবার পরিবর্তন করা যাবে না। এতে শিশুর পেট খারাপ করতে পারে। পাতলা ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুর খাবারে অবশ্যই সবরকম পুষ্টি উপাদান থাকতে হবে। শিশুকে টাটকা ও তাজা খাবার খাওয়াতে হবে। বাসি খাবার দেয়া যাবে না। শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে খেতে দিতে হবে। তাকে অল্প অল্প করে নির্দিষ্ট সময় পর পর খাওয়াতে হবে। শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে বাইরের খাবার দেয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, মৌলি তার সন্তানকে বাড়তি খাবার দেয়ার সময় উপরের বিষয়গুলো মেনে চলবে।
প্রসূতি অবস্থায় মোট ১.০ গ্রাম হতে ১.৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম ধার্য করা হয়েছে।
যেসব খাদ্য আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে তাদের প্রতিরক্ষাকারী খাদ্য বলে।
বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলমূল এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এসব খাদ্য থেকে আমরা ভিটামিন ও খনিজ লবণ পেয়ে থাকি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!