কোনো দামি পণ্যের সাথে কম দামি পণ্য, বিশুদ্ধ পণ্যের সাথে অনিরাপদ পণ্যের মিশ্রণই ভেজাল।
খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা।
খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ফলে খুব ধীর গতিতে আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, ক্যান্সার, বিকালাঙ্গতা সহ বিভিন্ন অঙ্গহানিও ঘটে। গর্ভস্থ শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। আবার অনেকে ডাউন্স সিনড্রোম এ আক্রান্ত হয়।
নিরুর শরীরের অবস্থার অবনতির কারণ রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার।
নিরু ফাস্টফুড, কোক ও অন্যান্য বোতলজাত ফুটজুস খেতে পছন্দ করে। যে ফরমালিন ট্যানারি ও ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে, প্লাস্টিক কারখানায় ব্যবহৃত হতো আজকাল তা খাবারে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দ্রুত ফল পাকানো হয়। কোকাকোলা, বিভিন্ন পানীয়, পেপসিতে কীটনাশক লিন্ডেন, ডিডিটি, ম্যালাথিয়ন, ক্লোরপাইরিফম, মুড়ি ও চিনিতে হাইড্রোজ ব্যবহৃত হয়। চকলেট তৈরির কোম্পানিগুলোতে অনেকেই সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহার করছে। এগুলো বমিভাব, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া ইত্যাদিসহ পাকস্থলির ক্ষতি করে। নিরুর ফাস্টফুডের দিকে আগ্রহ। বর্তমানে সে ডায়রিয়া, বমিসহ জ্বরে ভুগছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। তার এ অবস্থার কারণ রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার। ক্যামিক্যাল মিশ্রিত খাবার গ্রহণই তার অবস্থার অবনতি করেছে।
তাই বলা যায়, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার নিরুর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ।
খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ জীবাণুগলো খাদ্য ও পানির মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়ে অনেক সময় মহামারী আকার ধারণ করে। আমাদের সতর্কতা এসব জীবাণুঘটিত রোগ সংক্রমনের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।
উদ্দীপকের মিলুর বাবা-মাও এ ব্যাপারে বেশ সচেতনতা অবলম্বন করে। তারা খাদ্য ও পানি বাহিত রোগের প্রতিরোধে নিম্নলিখিত সচেতনতাগুলো অবলম্বন করেন-
i. রোগজীবাণু সংক্রমন প্রতিরোধে কাঁচা খাদ্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় সংরক্ষন করেন।
ii. রান্নার তৈজসপত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন।
iii. মিলুকে বাইরের খাবার না খাওয়ার জন্য উৎসাহী করেন।
iv. সবসময় হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে খাদ্য দ্রব্য ধরেন।
v. সংরক্ষনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখেন।
vi. সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সাবধান থাকেন।
vii. খাদ্য খাওয়া, রান্না ও পরিবেশনের সময় হাত পরিষ্কার করে নেন।
viii. পায়খানা ব্যবহারের পর হাত ভাল করে ধুয়ে নেন।
ix. অপরিচ্ছন্ন হাতে খাদ্য দ্রব্য নাড়াচাড়া করেন না।
x. রোগীর ঘর পরিষ্কার রাখেন।
xi. প্রচুর তরল খাবার ও পানি পান করেন।
xii. কাঁচা মাছ, মাংস রান্না করা খাবারের সাথে এক সাথে রাখেন না।
মিলুর বাবা-মা খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের প্রতিরোধে এসকল সচেতন ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allসিগেলা ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলারি ডিসেন্ট্রি নামক রোগের সৃষ্টি করে।
কাঁচা মাংস, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্যগুলো দ্বারা তৈরি খাদ্যে স্যালমোনেলোসিস রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। স্যালমোনেলোসিস প্রতিরোধের উপায় হলো-
i. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে খাদ্যদ্রব্য নাড়াচাড়া করা।
ii. যথাযথ পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য রান্না ও সংরক্ষণ করা।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করে শরিফ খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিল।
খাদ্যে ভেজাল আমাদের জাতীয় সমস্যা। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে আমাদের দেশে ভেজাল খাদ্যের ব্যাপকতা মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
বেশি দামের খাদ্যপণ্যের সাথে কম দামের খাদ্যপণ্য অথবা খাবারের সাথে খাবার অযোগ্য বস্তুর মিশ্রণই হলো খাদ্যে ভেজাল। বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ব্যবহৃত ভেজালের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, লিভারের ক্ষতি, কিডনির অসুখ ইত্যাদি। দুধ ও ভোজ্য তেলের ভেজাল শিশুদের কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে, গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা ঘটায়। মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা ও কৃত্রিম উপাদান সমৃদ্ধ বেকারি পণ্য পেটের পীড়া, বদহজম, কিডনি, পাকস্থলি ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা, চর্মরোগ ও অ্যালার্জির কারণ। এছাড়াও দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও লিভারের অসুখ। এভাবে ভেজাল খাবার সাধারণ লোকের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে, কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
সেমিনারের আলোচিত বিষয় ছিল খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক। ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যার অন্যতম। উদ্দেশ্যমূলকভাবে উৎকৃষ্ট খাদ্যসামগ্রীর সাথে নিম্নমানের সস্তা, খাওয়ার অযোগ্য অথবা বিষাক্ত পদার্থের মিশ্রণকে ভেজাল বলে।
এই সমস্যা সমাধানে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। যেমন-
i. খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারণা চালাতে হবে।
ii. দেশের সকল পর্যায়ে সকল খাদ্য বিপণিবিতানে ও বাজারে ভেজাল শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা, যাতে ক্রেতা পণ্য যাচাই করে নিতে পারে।
iii. খাদ্যপণ্য ক্রয়ে সচেতন হতে হবে। যেমন- বেশি সাদা চিনি, সেমাই, মুড়ি কেনা পরিহার করা উচিত।
iv. খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও ভেজাল প্রদানকারীর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
v. এছাড়া ফল খাওয়ার পূর্বে ৩০ মিনিট লবণ মিশ্রিত বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা লেবুর রস ও গরম পানিতে ফল ধৌত করতে হবে।
এসকল পদক্ষেপ ভেজাল সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
দুর্বল স্যানিটেশনের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রাপ্ত স্যানিটেশন সেবাগুলো হলো- স্যানিটারি পায়খানা তৈরি ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ প্রদান ও স্থাপনে সহায়তা প্রদান। খাবারের পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত করা, দূষিত পানি ব্যবহার না করার জন্য জনগণকে সচেতন করা। খাবার পানির জন্য সংরক্ষিত স্থানে গোসল, কাপড় কাচা, গবাদি পশুর গোসল ও পাট পচানো নিষিদ্ধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!