যে পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের সাথে জড়িত পক্ষ দুটিকে বিচার করে একপক্ষকে ডেবিট করা হয় এবং অপরপক্ষকে সমপরিমাণ টাকা দ্বারা ক্রেডিট করা হয় তাকে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বলে। ইতালির প্রসিদ্ধ গণিতবিদ লুকা প্যাসিওলি ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে আর্থিক ঘটনাবলি সঠিক ও সুচারুভাবে লিপিবদ্ধ করার এই পদ্ধতিটি বর্ণনা করেন।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির দুটি পক্ষ। যথা- (i) ডেবিট পক্ষ ও (ii) ক্রেডিট পক্ষ।
ডেবিট শব্দের অর্থ হলো বাম। হিসাবশাস্ত্রে Debit শব্দটির দ্বারা বোঝায় কোনো হিসাবখাতের বাম দিক এবং কোনো হিসাবখাতকে ডেবিট করার অর্থ হলো ঐ হিসাবখাতের বাম দিকে কোনো লেনদেন বা টাকার অঙ্ক লিপিবদ্ধ করা। হিসাবের বাম দিকে কিছু লেখা হলে এর মাধ্যমে সম্পদ এবং খরচ বৃদ্ধি অথবা দায় এবং আয় হ্রাস বোঝায়।
ক্রেডিট শব্দের অর্থ হলো, ডান। হিসাবশাস্ত্রে Credit শব্দটির দ্বারা বোঝায়, কোনো হিসাবখাতের ডান দিক এবং কোনো হিসাবখাতকে Credit করার অর্থ হলো ঐ হিসাবখাতের ডান দিকে কোনো লেনদেন বা টাকার অঙ্ক লিপিবদ্ধ করা। হিসাবের ডান দিকে কিছু লেখা হলে এর মাধ্যমে সম্পত্তি ও ব্যয় হ্রাস অথবা দায় ও আয় বৃদ্ধি বোঝায়।
অফিসের ভাড়া বাবদ ১২,০০০ টাকা প্রদত্ত হলো। এ লেনদেনটিকে হিসাব বইতে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসারে লিপিবদ্ধ করতে হলে প্রথমে এর মধ্যস্থিত দুটি পক্ষ নির্ধারণ করতে হবে। এ লেনদেনটির মধ্যস্থিত পক্ষ দুটি হচ্ছে- (ক) ভাড়া হিসাব ও (খ) নগদান হিসাব। যেহেতু ভাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যয়, সেহেতু ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া হিসাব ১২,০০০ টাকা ডেবিট হবে। আবার যেহেতু ভাড়া প্রদানের ফলে নগদ টাকা ব্যবসায় হতে চলে গিয়েছে, সেহেতু নগদ তথা সম্পদ হ্রাস পাওয়াতে নগদান হিসাব ১২,০০০ টাকা ক্রেডিট হবে।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতিগুলো হচ্ছে- ১. দ্বৈতসত্তা; ২. দাতা ও গ্রহীতা; ৩. ডেবিট ও ক্রেডিট করা; ৪. সমান অঙ্কে আদান-প্রদান; ৫. সামগ্রিক ফলাফল।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির দুটি মূলনীতি বা বৈশিষ্ট্য হলো-
(i) দ্বৈতসত্তা: দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনে কমপক্ষে দুটি হিসাব থাকবে।
(ii) দাতা গ্রহিতা: প্রতিটি লেনদেনে সুবিধা গ্রহণকারী গ্রহিতা ও সুবিধা প্রদানকারী দাতা হিসেবে কাজ করে।
প্রতিটি লেনদেনে কমপক্ষে দুটি হিসাব থাকে। ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করার পূর্বে প্রতিটি লেনদেনে জড়িত হিসাবখাতসমূহ বের করে তাদের প্রত্যেকটি কোন শ্রেণির হিসাব তা নিরূপণ করতে হয়। তারপর দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি হিসাবের ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয় করতে হয়। লেনদেনের এই সত্তাকেই দ্বৈতসত্তা বলা হয়।
লেনদেন লিপিবন্ধের ক্ষেত্রে প্রতিটি ডেবিট পক্ষের বিপরীতে সমপরিমাণ টাকা ক্রেডিট করা হয়। ফলে যেকোনো তারিখে গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ে রেওয়ামিল তৈরি করা যায়। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাব রাখলে ডেবিট ও ক্রেডিট সমান হবে এবং হিসাব মিলে যাবে। এভাবে দুতরফা দাখিলার মাধ্যমে হিসাবের শুদ্ধতা যাচাই করা হয়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করা হলে হিসাবের সামগ্রিক ফলাফল পাওয়া যায়। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে সমপরিমাণ টাকার অঙ্ক দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হয়। এভাবে লেনদেনের ডেবিট দিকের যোগফল ক্রেডিট দিকের যোগফলের সমান হয়। ফলে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই সহজ করা হয়। এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে ভুল-ত্রুটি সহজেই নির্ণয় করা যায় এবং আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি বিজ্ঞানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এখানে লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখা হয়। ফলে এই পদ্ধতি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নির্ভুল। তাই সমগ্র বিশ্বে এই পদ্ধতি, গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে একে সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি বলা হয়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে পরিপূর্ণ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। অন্যদিকে, একতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হয় না। তাই এটি অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয় এবং গাণিতিক শুদ্ধতাও যাচাই করা যায়। তাই দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণই উত্তম।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির দুটি সুবিধা হলো-
(i) পরিপূর্ণ হিসাব সংরক্ষণ প্রতিটি লেনদেনকে ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে সমপরিমাণ টাকায় লিপিবদ্ধ করা হয় বলে যেকোনো লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানা যায়।
(ii) আর্থিক অবস্থা নিরূপণ দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট তারিখে আর্থিক অবস্থার বিবরণী তৈরির মাধ্যমে কারবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
হিসাববিজ্ঞানের জনক লুকা প্যাসিওলি। তার পূর্ণ নাম ছিল Fra Luca Bartolomeo de Pacioli। তিনি ছিলেন ইতালির ভেনিস শহরের অধিবাসী, গণিতশাস্ত্রবিদ ও ধর্মযাজক। ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে হিসাববিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রথম গ্রন্থ 'Summa de arithmetica, geometria, proportioni et proportionalita' ইতালীয় ভাষায় ইতালিতে রচনা করেন। যার ৩য় খণ্ডে দুতরফা দাখিলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে লেনদেনের দুটি পক্ষ অথাৎ ডেবিট পক্ষ ও ক্রেডিট পক্ষ লিপিবন্ধ করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ডেবিট লিখনের জন্য সমান অর্থের ক্রেডিট লিখন হবে। ফলে বছরের যেকোনো সময়ে হিসাবের মোট ডেবিট টাকার অঙ্ক মোট ক্রেডিট টাকার অঙ্কের সমান হয়। এই ধারণাকেই হিসাব সমীকরণের ভিত্তি বলা হয়।
সম্পদ বলতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক পরিসম্পদকে বোঝায়। যা ব্যবসায়ের মালিকানাধীন থাকে এবং মুনাফা অর্জনের কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ব্যবসায়ের মালিকানাধীন আসবাবপত্র, দালানকোঠা ইত্যাদি। লেনদেনের ফলে সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে পারে। যেমন: আসবাবপত্র ক্রয় করা হলে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রয় করা হলে সম্পদ - হ্রাস পায়। সম্পদ বৃদ্ধি পেলে ডেবিট ও হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
ব্যবসায়ের মোট সম্পদের উপর তৃতীয় পক্ষের দাবিই হচ্ছে দায়। দায় হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা। যা একটি নির্দিষ্ট সময় পরে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। লেনদেনের ফলে দায় বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। যেমন: ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে দায় বৃদ্ধি পায়। আবার ঋণ পরিশোধ করলে দায় হ্রাস পায়। দায়ের সাথে সম্পদের বিপরীত সম্পর্ক = বিদ্যমান। তাই দায় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
ব্যবসায়ের মোট সম্পদের উপর মালিকের দাবিকেই মালিকানাস্বত্ব বলে। অর্থাৎ, ব্যবসায়ের মোট সম্পদ থেকে তৃতীয় পক্ষের দাবি বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তা-ই হচ্ছে মালিকানাস্বত্ব। হিসাববিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী মালিকানাস্বত্ব প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের দায়। তাই মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
রেভিনিউ বা আয় বলতে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে অর্জিত মোট অর্থকে বোঝায়। এটি সাধারণত পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আয় মালিকানাস্বত্বের বৃদ্ধি ঘটায়। তাই আয় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট হয়। আর আয় হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
ব্যবসায়ে ব্যয় বলতে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য যে সমস্ত খরচ করে সেগুলোকে বোঝায়। এই ব্যয়গুলো সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনা, উৎপাদন, সেবা প্রদান বা বিক্রয় সম্পর্কিত বিভিন্ন. খাতে হয়ে থাকে। ব্যয়ের ফলে মালিকানাস্বত্ব হ্রাস পায়। তাই ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট হয়। আর ব্যয় হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
আয়: মুনাফা হচ্ছে আয়ের অংশ যা ব্যয় অপেক্ষা অধিক। আয় মালিকানাস্বত্বের বৃদ্ধি ঘটায়। তাই রেভিনিউ বা আয় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
ব্যয়: ব্যয় আয়ের বিপরীত। তাই ব্যয়ের ফলে মালিকানাস্বত্বের হ্রাস ঘটবে। ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট এবং হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
একটি ব্যবসায়ে প্রধানত ৫ ধরনের হিসাব দেখতে পাওয়া যায়। যথা- (i) সম্পদ (ii) দায় (iii) মূলধন (iv) আয় (v) ব্যয়।
ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলে সম্পদ বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে।
যেমন- আসবাবপত্র ক্রয় করা হলে সম্পদ বৃদ্ধি এবং বিক্রয় করা হলে হ্রাস পায়। সম্পদ বৃদ্ধি পেলে ডেবিট ও সম্পদ হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলে দায় বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। যেমন- ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে দায় বৃদ্ধি পায় আবার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলে দায় হ্রাস পায়। সম্পদের সাথে দায়ের সম্পর্ক বিপরীত। তাই দায় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট ও হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
ব্যবসায় শুরু করার জন্য মালিক প্রথমে মূলধন আনে। ফলে মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি পায়। আবার মালিক ব্যবসায় থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উত্তোলন করলে মালিকানাস্বত্ব হ্রাস পায়। মালিকানাস্বত্ব প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের দায়। কারণ হিসাববিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী মালিক ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আলাদা সত্তা। ফলে দায়ের মতোই মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট হয়।
ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। প্রকৃতপক্ষে মুনাফা হচ্ছে রেভিনিউ বা আয়ের ঐ অংশ, যা ব্যয় অপেক্ষা অধিক। সুতরাং আমরা বলতে পারি, রেভিনিউ বা আয় মালিকানাস্বত্বের বৃদ্ধি ঘটায়। তাই রেভিনিউ বা আয় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে 'ডেবিট হয়।
ব্যয় শ্রেণির হিসাবগুলো রেভিনিউ বা-আয় শ্রেণির হিসাবের বিপরীত। রেভিনিউ বা আয় যেহেতু মালিকানাস্বত্বের বৃদ্ধি ঘটায়, তাই ব্যয়ের ফলে মালিকানাস্বত্বের হ্রাস ঘটবে। ব্যবসায়ের ব্যয় মালিকানাস্বত্বকে কমিয়ে দেয়। তাই ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট এবং হ্রাস পেলে ক্রেডিট হয়।
হিসাবের ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্রটি নিম্নরূপ:
(i) সম্পদ, খরচ ও উত্তোলন বৃদ্ধি পেলে ডেবিট এবং হ্রাস পেলে ক্রেডিট।
(ii) আয়, দায় ও মালিকানাস্বত্ব হ্রাস পেলে ডেবিট ও বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে রক্ষিত হিসাবের বই প্রধানত দুই
ধরনের। যথা-
(i) জাবেদা: লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর তা চিহ্নিত করে দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতির, নীতি অনুযায়ী ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে 'প্রথম যে বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকেই হিসাবের প্রাথমিক বই বা জাবেদা বলে।
( ii) খতিয়ান: জাবেদায় লিপিবদ্ধকৃত লেনদেনসমূহকে আলাদা আলাদা শ্রেণিবিন্যাস করে উপযুক্ত শিরোনামের হিসাবের ছকে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে খতিয়ান বলে।
লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর তা চিহ্নিত করে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির নীতি অনুযায়ী ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে প্রথম যে বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকেই হিসাবের প্রাথমিক বই বা জাবেদা বলে।
ধারে পণ্য ক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন যে জাবেদায় লেখা হয় তাকে ক্রয় জাবেদা বলে। যেমন জামিল ট্রেডার্সের নিকট হতে চাল ক্রয়,ধারে ডাল ক্রয় ইত্যাদি। আবার, ধারে পণ্য বিক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন যে জাবেদায় লেখা হয় তাকে বিক্রয় জাবেদা বলে। যেমন: করিমের নিকট বিক্রয়, ধারে চিনি বিক্রয় ইত্যাদি।
পণ্য নমুনামাফিক না হলে, নষ্ট হলে বা মানসম্মত না হলে ক্রয়কৃত পণ্য ফেরত দেওয়া হয়। ক্রয়কৃত পণ্য ফেরত দিলে যে জাবেদা দেওয়া হয় তাকে ক্রয়ফেরত জাবেদা বলে। ক্রেতা ক্রয়ফেরত জাবেদা প্রস্তুত করেন। আবার বিক্রীত পণ্য ফেরত এলে বিক্রেতা যে, জাবেদা দাখিলা দেয় তাকে বিক্রয় ফেরত জাবেদা বলে।
| ক্রয় ফেরত জাবেদা | বিক্রয় ফেরত জাবেদা |
| (i ) এই জাবেদায়, ধারে ক্রয় ফেরতসংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয়। | (i) এই জাবেদায় ধারে বিক্রয় ফেরতসংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হয়। |
| (ii) ডেবিট নোটের সাহায্যে ক্রয় ফেরত জাবেদা প্রস্তুত করা হয়। | (ii) ক্রেডিট নোটের সাহায্যে বিক্রয় ফেরত জাবেদা প্রস্তুত করা হয়। |
ব্যবসায়ের নগদ অর্থ প্রাপ্তিসংক্রান্ত লেনদেন যে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে নগদ প্রাপ্তি জাবেদা বলে। যেমন: নগদে পণ্য বিক্রয়, নগদে আসবাবপত্র বিক্রয়, দেনাদার হতে প্রাপ্তি ইত্যাদি। আবার ব্যবসায়ের নগদ প্রদানসংক্রান্ত লেনদেন যে জাবেদায় লিপিবদ্ধ 'করা হয় তাকে নগদ প্রদান জাবেদা বলে। যেমন: নগদে পণ্য ক্রয়, নগদে সম্পত্তি ক্রয়, পাওনাদারকে পরিশোধ ইত্যাদি।
চলমান ধারণা অনুযায়ী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে বলে অনুমান করা হয়। ব্যবসায়ের হিসাব সংরক্ষণের ধারাবাহিক আবর্তনকেই হিসাবচক্র বলে।
হিসাবচক্রের ধাপ দশটি। যথা- লেনদেন শনাক্তকরণ, লেনদেন বিশ্লেষণ, জাবেদাভুক্তকরণ, খতিয়ানে স্থানান্তর, রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ, সমন্বয় দাখিলা, কার্যপত্র প্রস্তুত, আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, সমাপনী দাখিলা, হিসাব-পরবর্তী রেওয়ামিল বা প্রারম্ভিক জাবেদা।
হিসাবচক্রের দুটি ধাপ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. লেনদেন শনাক্তকরণ: হিসাবচক্রের প্রথম ধাপে ব্যবসায়ের প্রতিটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
২. জাবেদাভুক্তকরণ: বিশ্লেষণকৃত হিসাবখাতগুলো দুতরফা দাখিলা অনুসারে প্রযোজ্য হিসাবের প্রাথমিক বইতে ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে তারিখের ক্রমানুসারে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
লেনদেন শনাক্তকরণ হিসাবচক্রের প্রথম ধাপ। ব্যবসায়ের প্রতিটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে লেনদেন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ব্যবসায়ের ঘটনা, পক্ষ, তারিখ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে লেনদেন শনাক্তকরণ করা হয়। এতে লেনদেনের সঠিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
ব্যবসায়ে ঘটনাগুলোকে লেনদেন হিসাবে চিহ্নিত করার পর প্রতিটি লেনদেনকে বিশ্লেষণ করতে হয়। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে লেনদেনের হিসাবখাত চিহ্নিত করাকেই লেনদেন বিশ্লেষণ করা বলে।
যেমন: ১০,০০০ টাকার পণ্য নগদে বিক্রয় করা হলো। এখানে দুটি হিসাব বিদ্যমান। একটি বিক্রয় হিসাব ও অপরটি নগদান হিসাব।
লেনদেন বিশ্লেষণের পরে লেনদেনসমূহকে প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়। লেনদেনের ডেবিট-ক্রেডিট পক্ষ বিশ্লেষণ করে তারিখের ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করে জাবেদাতে লেখা হয়। জাবেদাভুক্তকরণের ক্ষেত্রে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এটি হিসাবচক্রের তৃতীয় ধাপ।
প্রতিটি ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা প্রয়োজন। তাই হিসাবকাল শেষে প্রাপ্য আয়, বকেয়া খরচ, অগ্রিম খরচ ও অনুপার্জিত আয় প্রভৃতি দফাগুলো সমন্বয় করতে হয়। যে দাখিলার মাধ্যমে এই দফাগুলো সমন্বয় করা হয় তাকে সমন্বয় দাখিলা বলে। সমন্বয় দাখিলার মাধ্যমে প্রকৃত ও নির্ভুল আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত সহজতর করতে বহুঘর বিশিষ্ট একটি বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুতকৃত এই বিবরণীই হলো কার্যপত্র (Work Sheet)। কার্যপত্র হিসাবচক্রের সপ্তম ধাপ। আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত সহজ করতে খসড়াস্বরূপ কার্যপত্র তৈরি করা হয়। তাই কার্যপত্রকে হিসাবচক্রের ঐচ্ছিক ধাপ বলা হয়।
আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের পূর্বে কার্যপত্র প্রস্তুত করা হয়। আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতি সহজতর করার উদ্দেশ্যে কার্যপত্র প্রস্তুত করা হয়। কার্যপত্র প্রস্তুত করা হিসাবচক্রের একটি ঐচ্ছিক ধাপ। এটি আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
যে দাখিলার মাধ্যমে মুনাফাজাতীয় আয় ও ব্যয় হিসাবসমূহ বন্ধ করা হয় তাকে সমাপনী দাখিলা বলে। এক বছরের মুনাফাজাতীয় আয়-ব্যয় পরবর্তী হিসাব বছরে যাবে না। তাই সমাপনী দাখিলার মাধ্যমে এসব আয় ও ব্যয় হিসাবগুলো বন্ধ করা হয়। সমাপনী দাখিলার মাধ্যমে উত্তোলন হিসাবও বন্ধ করা হয়।
হিসাবচক্রে রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণের পরবর্তী পাঁচটি ধাপ হলো : সমন্বয় দাখিলা, কার্যপত্র প্রস্তুত, আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, সমাপনী দাখিলা, হিসাব পরবর্তী রেওয়ামিল বা প্রারম্ভিক জাবেদা।
হিসাবচক্রের দশম ধাপে সমাপনী দাখিলা প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ের আয়, ব্যয় ও উত্তোলন হিসাব বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট সম্পদ, দায় ও মালিকানাস্বত্ব হিসাবের জের নিয়ে পরবর্তী হিসাব বছর শুরু করা হয়। এর জন্য হিসাব পরবর্তী রেওয়ামিল বা প্রারম্ভিক জাবেদা প্রস্তুত করা হয়।
প্রারম্ভিক দাখিলা প্রদানের মাধ্যমে হিসাবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। চলমান প্রতিষ্ঠান ধারণা অনুসারে ধরে নেওয়া হয় যে প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ প্রতি হিসাবকাল শেষে পুনরায় একই ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হবে। এই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরে সম্পদ, দায় ও মালিকানাস্বত্বকে প্রারম্ভিক দাখিলার মাধ্যমে পরবর্তী বছরের প্রারম্ভিক জের হিসাবে দেখানো হয়। এভাবে হিসাবরক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।
একতরফা দাখিলা পদ্ধতি হলো হিসাবরক্ষণের একটি ত্রুটিপূর্ণ। পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কোনো লেনদেনের একটি পক্ষ; কোনো লেনদেনের দুটি পক্ষ আবার কোনো লেনদেনের কোনো পক্ষই লিপিবদ্ধ করা হয় না। এই পদ্ধতিতে কিছু সম্পদ ও দায়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হলেও আয় ও ব্যয় হিসাব সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। প্রকৃতপক্ষে একতরফা দাখিলা পদ্ধতি কোনো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয়। তাই একে ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি বলা হয়।
একতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে লাভ-লোকসান নির্ণয়ে সমাপনী মূলধন ও উত্তোলনের সমষ্টি প্রারম্ভিক ও অতিরিক্ত মূলধনের সমষ্টি থেকে বাদ দিতে হয়। সমাপনী মূলধন ও উত্তোলনের সমষ্টি বেশি হলে লাভ হবে, কম হলে তা ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ লাভ/ক্ষতি = (সমাপনী মূলধন উত্তোলন) - (প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন)। এখানে, প্রারম্ভিক মূলধন=প্রারম্ভিক মোট সম্পদ - প্রারম্ভিক মোট দায়, সমাপনী মূলধন = সমাপনী মোট সম্পদ -সমাপনী মোট দায়।
যে সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আয়তন- ছোট ও লেনদেনের সংখ্যা কম, সে সকল প্রতিষ্ঠানে একতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে কোনো লেনদেনের একটি পক্ষের, কোনো লেনদেনের দুটি পক্ষেরই এবং কোনো লেনদেনের কোনো পক্ষই লিপিবদ্ধ করা হয় না। প্রকৃতপক্ষে একতরফা দাখিলা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয়। এই পদ্ধতিতে কিছু সম্পদ ও দায়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হলেও আয় ও ব্যয় হিসাবগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
একতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে সমাপনী মূলধন ও লাভ/ক্ষতি
-নির্ণয়ের দুটি সূত্র হলো-
(i) সমাপনী মূলধন = সমাপনী মোট সম্পদ সমাপনী মোট দায়
(ii) লাভ/ক্ষতি = (সমাপনী মূলধন + উত্তোলন)- (প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন)}
একতরফা দাখিলা পদ্ধতি ও দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মধ্যে
দুটি পার্থক্য হলো-
| একতরফা দাখিলা পদ্ধতি | দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি |
| (i) একতরফা দাখিলা পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয়। | (i) দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। |
| (ii)এই পদ্ধতিতে সম্পদ ও দায়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হলেও আয় ও ব্যয় হিসাবগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। | (ii) এই পদ্ধতিতে সকল হিসাবসমূহ সংরক্ষণে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। |
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য, বিজ্ঞানসম্মত, পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতি।
দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতি ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ধারণ পদ্ধতি।
বর্তমানে হিসাবের ভিত্তি দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি।
যে পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনের ডেবিট ও ক্রেডিট এ উভয়দিক লিপিবদ্ধ করা হয় দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে।
দুতরফা দাখিলায় সুবিধা গ্রহণকারী হিসাবটিকে বলা হয় ডেটর।
দূতরফা দাখিলায় সুবিধা প্রদানকারী হিসাবটিকে বলা হয় ক্রেডিটর।
প্রতিটি লেনদেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে পরিবর্তন ঘটায় দুটি।
প্রতিটি লেনদেন হিসাব সমীকরণকে প্রভাবিত করে।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির মূল নীতি বা বৈশিষ্ট্য পাঁচটি। যথা- (১) দ্বৈতসত্তা, (২) দাতা ও গ্রহীতা, (৩) ডেবিট ও ক্রেডিট করা, (৪) সমান অঙ্কের আদান-প্রদান, (৫) সামগ্রিক ফলাফল।
দুতরফা দাখিলায় মোট ডেবিট টাকা মোট ক্রেডিট টাকার সমান হবে।
ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন।
ধারে পণ্য ক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ হয় ক্রয় জাবেদায়।
ধারে বিক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ হয় বিক্রয় জাবেদায়।
ধারে ক্রীত পণ্য ফেরতসংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ হয় ক্রয় ফেরত জাবেদায়।
ধারে বিক্রীত পণ্য ফেরতসংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ হয় বিক্রয় ফেরত জাবেদায়।
নগদ প্রাপ্তিসংক্রান্ত লেনদেন লিপিবদ্ধ হয় নগদ প্রাপ্তি জাবেদায়।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা দশটি। যথা- (১) পরিপূর্ণ হিসাব সংরক্ষণ, (২) লাভ-লোকসান নিরূপণ, (৩) গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই, (৪) আর্থিক অবস্থা নিরূপণ, (৫) ভুলত্রুটি ও জালিয়াতি উদঘাটন ও প্রতিরোধ, (৬) ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, (৭) মোট দেনা পাওনার পরিমাণ নির্ণয়, (৮) সঠিক কর নির্ধারণ, (৯) সহজ প্রয়োগ, (১০) সার্বজনীন স্বীকৃতি।
হিসাবসমীকরণের ভিত্তি হলো মোট ডেবিট টাকা = মোট ক্রেডিট টাকা।
হিসাবসমীকরণের মূল উপাদানগুলো হচ্ছে সম্পদ, দায় ও মালিকানাস্বত্ব।
আর্থিক বিবরণীর খসড়াম্বরূপ ব্যবহার করা হয় কার্যপত্র (Work Sheet)।
হিসাবচক্রের ধাপগুলো হচ্ছে দশটি। যথা- (১) লেনদেন শনাক্তকরণ, (২) লেনদেন বিশ্লেষণ, (৩) জাবেদাভুক্তকরণ, (৪) খতিয়ানে স্থানান্তর, (৫) রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ, (৬) সমন্বয় দাখিলা, (৭) কার্যপত্র প্রস্তুত, (৮) আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, (৯) সমাপনী দাখিলা, (১০) হিসাব পরবর্তী রেওয়ামিল বা প্রারম্ভিক জাবেদা।
হিসাবচক্রের বিভিন্ন ধাপ ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের মধ্যে।
হিসাবচক্রের ধাপগুলো হচ্ছে দশটি। যথা- (১) লেনদেন শনাক্তকরণ, (২) লেনদেন বিশ্লেষণ, (৩) জাবেদাভুক্তকরণ, (৪) খতিয়ানে স্থানান্তর, (৫) রেওয়ামিল প্রস্তুতকরণ, (৬) সমন্বয় দাখিলা, (৭) কার্যপত্র প্রস্তুত, (৮) আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত, (৯) সমাপনী দাখিলা, (১০) হিসাব পরবর্তী রেওয়ামিল বা প্রারম্ভিক জাবেদা।
হিসাবচক্রের বিভিন্ন ধাপ ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের মধ্যে।
একতরফা দাখিলা পদ্ধতি অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ।
সমাপনী মূলধন সমাপনী মোট সম্পদ – সমাপনী মোট দায়।
প্রারম্ভিক মূলধন প্রারম্ভিক মোট সম্পদ – প্রারম্ভিক মোট দায়।
লাভ/ক্ষতি {সমাপনী মূলধন + উত্তোলন) – (প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন)}
সমগ্র বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহে হিসাব সংরক্ষণের জন্য নির্ভরযোগ্য, বিজ্ঞানসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি হিসেবে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচিত। দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে অর্থ বা আর্থিক মূল্যে পরিমাপযোগ্য প্রতিটি লেনদেনকে দ্বৈত স্বত্বায় প্রকাশ করা হয়। ব্যবসায়ের সঠিক ফলাফল ও প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানার জন্য দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- লেনদেনের দ্বৈত স্বত্বা নীতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির ধারণাও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
- দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- লেনদেনে জড়িত দুটি পক্ষ অর্থাৎ ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ শনাক্ত/চিহ্নিত করতে পারব।
- হিসাবচক্রের বিভিন্ন ধাপ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- লেনদেনের জন্য উপযুক্ত হিসাবের বই চিহ্নিত করতে পারব।
- একতরফা দাখিলার ধারণা নিয়ে ব্যবসায়ের মুনাফা নির্ণয় করতে পারব।

Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!