উপসর্গ বা আদ্যপ্রত্যয় হলো ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যাদের নিজস্ব কোনো "অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরির ক্ষমতা আছে"। উপসর্গ শব্দ বা শব্দমূলের শুরুতে বসে নতুন অর্থবহ শব্দ তৈরি করে, শব্দাংশের শুরুতে বসে না
আমরণ = অব্যয়ীভাব = মরণ পর্যন্ত
হরতাল = অব্যয়ীভাব = তালের অভাব
স্মৃতিসৌধ = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় = স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ
পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ = পকেট মারে যে
দেশান্তর = নিত্য সমাস = অন্য দেশ
প্রভাত = প্রাদি সমাস = প্রকৃষ্ট রূপে ভাত
অনৈক্য = অব্যয়ীভাব = ঐক্যের অভাব
রাজপথ = ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ = পথের রাজা
Related Question
View All১। শব্দের আদিতে যদি 'অ' থাকে এবং তারপরে 'ই'-কার, 'উ'-কার, থাকে তবে সে- 'অ' এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়। যথাঃ অভিধান (ওভিধান), অভিযান (ওভিজান), অতি (ওতি), মতি (মোতি), অতীত (ওতিত্), অধীন (অধীন) ইত্যাদি।
২। শব্দের আদ্য-'অ' এর পরে 'য'-ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে 'অ'-এর উচ্চারণ প্রায়শ 'ও'-কারের মতো হয়। যেমনঃ অদ্য (ওদ্দো), অন্য (ওন্নো), অত্যাচার (ওত্তাচার), কন্যা (কোন্না), বন্যা (বোন্না) ইত্যাদি
৩। শব্দের আদ্য-'অ' এর পর 'ক্ষ', 'জ্ঞ', থাকলে, সে 'অ'পের উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়ে থাকে। যথাঃ অক্ষ (ওক্খো), দক্ষ (দোক্খো), যক্ষ (জোক্খো), লক্ষণ (লোক্খোন), যজ্ঞ (জোগ্গোঁ), লক্ষ (লোক্খো), রক্ষা (রোক্খা) ইত্যাদি।
৪। শব্দের প্রথমে যদি 'অ' থাকে এবং তারপর 'ঋ'-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলেও, সেই 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়। যথাঃ মসৃণ (মোসৃন্), বক্তৃতা (বোক্তৃতা), যকৃত (জোকৃত্)।
৫। শব্দের প্রথমে 'অ' যুক্ত 'র'-ফলা থাকলে সেক্ষেত্রেও আদ্য 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কার হয়ে থাকে। যথাঃ ক্রম (ক্রোম), গ্রহ (গ্রোহো), গ্রন্থ (গ্রোন্থো), ব্রত (ব্রোতো) ইত্যাদি।
পর্যন্ত = পোর্জোন্তো
মধ্যাহ্ন = মোদ্ধান্nho
জিহ্বা = জিউ্ভা
দেখা = দ্যাখা
ধন্যবাদ = ধোন্নোবাদ্
জয়ধ্বনি = জয়োদ্ধোনি
স্মৃতি = সৃঁতি
এক = অ্যাক্
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম হল:
1. বর্ণসমূহের স্বরবর্ণের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। যেমনঃ প্রকৃতি, বলা, বিকাশ।
2. বর্ণসমূহের যোগান্তসমূহের সাথে সংযোগ হতে হবে। যেমনঃ বন্ধু, সহায়ক, অধ্যাপক।
3. যে শব্দগুলোর মাঝে যোগান্ত থাকে, তারা একটি অক্ষরের হিসাবে লিখতে হবে। যেমনঃ পোকা, লাম্বা, চক্র।
4. শব্দগুলোর মাঝে যুক্ত থাকতে হবে। যেমনঃ মন্ত্রী, সোনালী, রাজ্যসভা।
5. বিশেষ অক্ষরগুলো যুক্ত করে লেখতে হবে। যেমনঃ রাত্রি, অন্ধকার, প্রাণতি
শান্তনা = সান্ত্বনা
নূন্যতম = ন্যূনতম
আকাংখা = আকাঙ্ক্ষা
সমিচিন = সমীচীন
দারিদ্রতা = দরিদ্রতা/দারিদ্র্য
স্বরস্বতি = সরস্বতী
মুমুর্ষু = মুমূর্ষু
পূর্বাহ্ন = পূর্বাহ্ণ
যে শব্দশ্রেণি অন্য শব্দের অর্থকে বিশদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন: লাল টুপি। সুন্দর বাগান ইত্যাদি। বিশেষণ দুইভাগে বিভক্ত। যথা: ১. নাম বিশেষণ, ২. ভাব বিশেষণ
১. নাম বিশেষণ: যেসব বিশেষণ অন্য কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে অর্থাৎ গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝায়, সেগুলোকে 'নাম বিশেষণ' বলে। যেমন:
- বিশেষ্যের বিশেষণ অনেক মাছ উঠেছে আজ বাজারে।
- সর্বনামের বিশেষণ তিনি রূপবান ও গুণবান।
২. ভাব বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বিশেষ্য ও সর্বনাম ছাড়া অন্য শব্দশ্রেণিকে বিশেষিত করে অর্থাৎ অবস্থা, সময় ও ভাব বোঝায়, সেগুলোকে ভাব বিশেষণ বলে। ভাব বিশেষণ দুই প্রকার। যথা: ক. ক্রিয়া বিশেষণ ও
- খ. বিশেষণের বিশেষণ।
ক. ক্রিয়া বিশেষণ: বাংলায় যে শব্দশ্রেণি ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন:
- ক্রিয়া সংঘটনের ভাব আস্তে আস্তে পানি বাড়ে।
- ক্রিয়া সংঘটনের কাল পরে একবার এসো।
খ. বিশেষণের বিশেষণ: যে বিশেষণ অন্য বিশেষণকে বিশোষিত করে তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে। যেমন:
- নাম বিশেষণের বিশেষণ এই কারণে সে অতিশয় মর্মাহত।
- ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।
বিষয়ের গভীরতা উপলব্ধি করা বাঞ্ছনীয়। তা না হলে মানুষ হিসেবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করা অবান্তর মনে হয়। আমরা জানি, যে কোনো দক্ষতা একজন ব্যক্তির বিশেষ গুণ। কিন্তু সেরূপ কিছু অর্জনের জন্য সভা-সমিতির সদস্য হওয়া জরুরি নয়। অজস্র লোকই এ-কথা বুঝতে অক্ষম।
উপলব্ধি = বিশেষ্য;
শ্রেষ্ঠ = বিশেষণ;
গুণ = বিশেষ্য;
সদস্য = বিশেষ্য;
অজস্র = বিশেষণ
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা শব্দের সমন্বয়ে যখন বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তখন তাকে বাক্য বলে। যেমন- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত। উপরের উভয় পদসমষ্টিই মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করছে। সুতরাং এদের প্রত্যেকটি এক-একটি বাক্য।
ক. সরল বাক্য, খ. জটিল বাক্য, গ. যৌগিক বাক্য।
ক. সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন- ছেলেটি দৌড়াচ্ছে। এখানে 'ছেলেটি' উদ্দেশ্য এবং 'দৌড়াচ্ছে' বিধেয়।
খ. জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে যুক্ত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
আশ্রিত বাক্য
যে পরিশ্রম করে
প্রধান খণ্ডবাক্য
সেই সুখ লাভ করে।
গ. যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন- কঠোর পরিশ্রম করব, তবুও ভিক্ষা করবো না।
ফরিয়াদি প্রসন্ন গোয়ালিনী। (যৌগিক) = তিনি প্রসন্ন গোয়ালিনী এবং ফরিয়াদী।
তুমিই কাজটি করতে পারতে। (প্রশ্নবোধক) = তুমিই কি কাজটি করতে পারতে না?
যিনি বিদ্বান তিনি সৎ লোক। (সরল) = বিদ্বান লোক সৎ।
সে কাল আসবে, তারপর আমি যাব। (জটিল) = সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
হৈম কোনো কথা কহিল না। (অস্তিবাচক) = হৈম চুপ রহিল।
নদীটি অনেক সুন্দর। (বিস্ময়সূচক) = কী সুন্দর নদী!
সময় নষ্ট করা উচিত নয়। (অনুজ্ঞাসূচক) = সময় নষ্ট করবে না।
সৎ লোকের ভয় নেই। (জটিল) = যে লোক সৎ তার ভয় নেই।
ভুল : তোমার কথা প্রমাণ হয় নি। শুদ্ধ : তোমার কথা প্রমাণিত হয়নি।
ভুল : উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। শুদ্ধ : উপরিউক্ত/উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
ভুল : বিদ্যান দুর্জন হলেও পরিত্যাগ কর। শুদ্ধ : বিদ্বান দুর্জন হলেও পরিত্যাজ্য।
ভুল : প্রাণী সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাণীবিদ্যা পড়। শুদ্ধ : প্রাণী সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাণিবিদ্যা পড়।
ভুল : শুধুমাত্র টাকা হলেই বিদ্যা অর্জন হয় না। শুদ্ধ : শুধু টাকা হলেই বিদ্যা অর্জন হয় না।
ভুল : করোনাকালীন সময়ে পাঠদানে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। শুদ্ধ : করোনাকালীন/করোনার সময়ে পাঠদানে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
ভুল : অন্ন নষ্ট করে কী লাভ? শুদ্ধ : অন্ন/ভাত নষ্ট করে কী লাভ?
ভুল : বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী দাও। শুদ্ধ : বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দাও।
ইদানীং রাত জেগে অনেক শিক্ষার্থীই নিজেদেরকে ফেসবুকে আসক্ত করে ফেলেছে। অত্যন্ত মেধাবীরাও এই অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়। লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে না পারায় পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হচ্ছে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!