উত্তরঃ

১। শব্দের আদিতে যদি 'অ' থাকে এবং তারপরে 'ই'-কার, 'উ'-কার, থাকে তবে সে- 'অ' এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়। যথাঃ অভিধান (ওভিধান), অভিযান (ওভিজান), অতি (ওতি), মতি (মোতি), অতীত (ওতিত্), অধীন (অধীন) ইত্যাদি।

২। শব্দের আদ্য-'অ' এর পরে 'য'-ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে সেক্ষেত্রে 'অ'-এর উচ্চারণ প্রায়শ 'ও'-কারের মতো হয়। যেমনঃ অদ্য (ওদ্‌দো), অন্য (ওন্‌নো), অত্যাচার (ওত্‌তাচার), কন্যা (কোন্‌না), বন্যা (বোন্‌না) ইত্যাদি

৩। শব্দের আদ্য-'অ' এর পর 'ক্ষ', 'জ্ঞ', থাকলে, সে 'অ'পের উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়ে থাকে। যথাঃ অক্ষ (ওক্‌খো), দক্ষ (দোক্খো), যক্ষ (জোক্‌খো), লক্ষণ (লোক্‌খোন), যজ্ঞ (জোগ্‌গোঁ), লক্ষ (লোক্খো), রক্ষা (রোক্‌খা) ইত্যাদি।

৪। শব্দের প্রথমে যদি 'অ' থাকে এবং তারপর 'ঋ'-কার যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলেও, সেই 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কারের মতো হয়। যথাঃ মসৃণ (মোসৃন্), বক্তৃতা (বোক্তৃতা), যকৃত (জোকৃত্)।

৫। শব্দের প্রথমে 'অ' যুক্ত 'র'-ফলা থাকলে সেক্ষেত্রেও আদ্য 'অ'-এর উচ্চারণ সাধারণত 'ও'-কার হয়ে থাকে। যথাঃ ক্রম (ক্রোম), গ্রহ (গ্রোহো), গ্রন্থ (গ্রোন্থো), ব্রত (ব্রোতো) ইত্যাদি।

উত্তরঃ

পর্যন্ত = পোর্‌জোন্‌তো

উত্তরঃ

মধ্যাহ্ন = মোদ্‌ধান্‌nho

উত্তরঃ

জিহ্বা = জিউ্ভা‌

উত্তরঃ

দেখা = দ্যাখা

উত্তরঃ

ধন্যবাদ = ধোন্‌নোবাদ্‌

উত্তরঃ

জয়ধ্বনি = জয়োদ্‌ধোনি

উত্তরঃ

স্মৃতি = সৃঁতি

উত্তরঃ

এক = অ্যাক্

উত্তরঃ

বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম হল: 

1. বর্ণসমূহের স্বরবর্ণের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। যেমনঃ প্রকৃতি, বলা, বিকাশ। 

2. বর্ণসমূহের যোগান্তসমূহের সাথে সংযোগ হতে হবে। যেমনঃ বন্ধু, সহায়ক, অধ্যাপক। 

3. যে শব্দগুলোর মাঝে যোগান্ত থাকে, তারা একটি অক্ষরের হিসাবে লিখতে হবে। যেমনঃ পোকা, লাম্বা, চক্র। 

4. শব্দগুলোর মাঝে যুক্ত থাকতে হবে। যেমনঃ মন্ত্রী, সোনালী, রাজ্যসভা। 

5. বিশেষ অক্ষরগুলো যুক্ত করে লেখতে হবে। যেমনঃ রাত্রি, অন্ধকার, প্রাণতি

উত্তরঃ

শান্তনা = সান্ত্বনা

উত্তরঃ

নূন্যতম = ন্যূনতম

উত্তরঃ

আকাংখা = আকাঙ্ক্ষা

উত্তরঃ

সমিচিন = সমীচীন

উত্তরঃ

দারিদ্রতা = দরিদ্রতা/দারিদ্র্য

উত্তরঃ

স্বরস্বতি = সরস্বতী

উত্তরঃ

মুমুর্ষু  = মুমূর্ষু

উত্তরঃ

পূর্বাহ্ন = পূর্বাহ্ণ

উত্তরঃ

যে শব্দশ্রেণি অন্য শব্দের অর্থকে বিশদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন: লাল টুপি। সুন্দর বাগান ইত্যাদি। বিশেষণ দুইভাগে বিভক্ত। যথা: ১. নাম বিশেষণ, ২. ভাব বিশেষণ

১. নাম বিশেষণ: যেসব বিশেষণ অন্য কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে অর্থাৎ গুণ, দোষ, অবস্থা, সংখ্যা ও পরিমাণ বোঝায়, সেগুলোকে 'নাম বিশেষণ' বলে। যেমন:

  • বিশেষ্যের বিশেষণ অনেক মাছ উঠেছে আজ বাজারে।
  • সর্বনামের বিশেষণ তিনি রূপবান ও গুণবান।

২. ভাব বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বিশেষ্য ও সর্বনাম ছাড়া অন্য শব্দশ্রেণিকে বিশেষিত করে অর্থাৎ অবস্থা, সময় ও ভাব বোঝায়, সেগুলোকে ভাব বিশেষণ বলে। ভাব বিশেষণ দুই প্রকার। যথা: ক. ক্রিয়া বিশেষণ ও

  • খ. বিশেষণের বিশেষণ।

 

ক. ক্রিয়া বিশেষণ: বাংলায় যে শব্দশ্রেণি ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন:

  • ক্রিয়া সংঘটনের ভাব আস্তে আস্তে পানি বাড়ে।
  • ক্রিয়া সংঘটনের কাল পরে একবার এসো।

 

খ. বিশেষণের বিশেষণ: যে বিশেষণ অন্য বিশেষণকে বিশোষিত করে তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে। যেমন:

  • নাম বিশেষণের বিশেষণ এই কারণে সে অতিশয় মর্মাহত।
  • ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।
উত্তরঃ

বিষয়ের গভীরতা উপলব্ধি করা বাঞ্ছনীয়। তা না হলে মানুষ হিসেবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করা অবান্তর মনে হয়। আমরা জানি, যে কোনো দক্ষতা একজন ব্যক্তির বিশেষ গুণ। কিন্তু সেরূপ কিছু অর্জনের জন্য সভা-সমিতির সদস্য হওয়া জরুরি নয়। অজস্র লোকই এ-কথা বুঝতে অক্ষম।

উপলব্ধি = বিশেষ্য; 

শ্রেষ্ঠ = বিশেষণ;

গুণ = বিশেষ্য; 

সদস্য = বিশেষ্য; 

অজস্র = বিশেষণ

উত্তরঃ

উপসর্গ বা আদ্যপ্রত্যয় হলো ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ যাদের নিজস্ব কোনো "অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরির ক্ষমতা আছে"। উপসর্গ শব্দ বা শব্দমূলের শুরুতে বসে নতুন অর্থবহ শব্দ তৈরি করে, শব্দাংশের শুরুতে বসে না

উত্তরঃ

আমরণ = অব্যয়ীভাব = মরণ পর্যন্ত

উত্তরঃ

হরতাল = অব্যয়ীভাব = তালের অভাব

উত্তরঃ

স্মৃতিসৌধ = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় = স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ

উত্তরঃ

পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ = পকেট মারে যে

উত্তরঃ

দেশান্তর = নিত্য সমাস = অন্য দেশ

উত্তরঃ

প্রভাত = প্রাদি সমাস = প্রকৃষ্ট রূপে ভাত

উত্তরঃ

অনৈক্য = অব্যয়ীভাব = ঐক্যের অভাব

উত্তরঃ

রাজপথ = ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ = পথের রাজা

উত্তরঃ

পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ বা শব্দের সমন্বয়ে যখন বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তখন তাকে বাক্য বলে। যেমন- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত। উপরের উভয় পদসমষ্টিই মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করছে। সুতরাং এদের প্রত্যেকটি এক-একটি বাক্য।

ক. সরল বাক্য, খ. জটিল বাক্য, গ. যৌগিক বাক্য।

ক. সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন- ছেলেটি দৌড়াচ্ছে। এখানে 'ছেলেটি' উদ্দেশ্য এবং 'দৌড়াচ্ছে' বিধেয়।

খ. জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে যুক্ত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত বাক্য

যে পরিশ্রম করে 

প্রধান খণ্ডবাক্য 

সেই সুখ লাভ করে।

গ. যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন- কঠোর পরিশ্রম করব, তবুও ভিক্ষা করবো না।

উত্তরঃ

ফরিয়াদি প্রসন্ন গোয়ালিনী। (যৌগিক) = তিনি প্রসন্ন গোয়ালিনী এবং ফরিয়াদী।

উত্তরঃ

তুমিই কাজটি করতে পারতে। (প্রশ্নবোধক) = তুমিই কি কাজটি করতে পারতে না?

উত্তরঃ

যিনি বিদ্বান তিনি সৎ লোক। (সরল) = বিদ্বান লোক সৎ।

উত্তরঃ

সে কাল আসবে, তারপর আমি যাব। (জটিল) = সে কাল আসবে এবং আমি যাব।

উত্তরঃ

হৈম কোনো কথা কহিল না। (অস্তিবাচক) = হৈম চুপ রহিল।

উত্তরঃ

নদীটি অনেক সুন্দর। (বিস্ময়সূচক) = কী সুন্দর নদী!

উত্তরঃ

সময় নষ্ট করা উচিত নয়। (অনুজ্ঞাসূচক) = সময় নষ্ট করবে না।

উত্তরঃ

সৎ লোকের ভয় নেই। (জটিল) = যে লোক সৎ তার ভয় নেই।

উত্তরঃ

ভুল : তোমার কথা প্রমাণ হয় নি।  শুদ্ধ :  তোমার কথা প্রমাণিত হয়নি।

উত্তরঃ

ভুল : উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।  শুদ্ধ : উপরিউক্ত/উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

উত্তরঃ

ভুল : বিদ্যান দুর্জন হলেও পরিত্যাগ কর।  শুদ্ধ : বিদ্বান দুর্জন হলেও পরিত্যাজ্য।

উত্তরঃ

ভুল : প্রাণী সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাণীবিদ্যা পড়।  শুদ্ধ : প্রাণী সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাণিবিদ্যা পড়।

উত্তরঃ

ভুল : শুধুমাত্র টাকা হলেই বিদ্যা অর্জন হয় না।  শুদ্ধ : শুধু টাকা হলেই বিদ্যা অর্জন হয় না।

উত্তরঃ

ভুল : করোনাকালীন সময়ে পাঠদানে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।  শুদ্ধ : করোনাকালীন/করোনার সময়ে পাঠদানে শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

উত্তরঃ

ভুল : অন্ন নষ্ট করে কী লাভ?  শুদ্ধ : অন্ন/ভাত নষ্ট করে কী লাভ?

উত্তরঃ

ভুল : বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী দাও।  শুদ্ধ : বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দাও।

উত্তরঃ

ইদানীং রাত জেগে অনেক শিক্ষার্থীই নিজেদেরকে ফেসবুকে আসক্ত করে ফেলেছে। অত্যন্ত মেধাবীরাও এই অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়। লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে না পারায় পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হচ্ছে না।

558

বর্ণের উচ্চারণ : বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ। কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন। ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। এখানে বাংলা বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে।

স্বরবর্ণ

অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনাে কখনাে [ও]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক অনে, কথা কথা], অনাথ [অনাহ্]। অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি), অণু ওনু], পক্ষ [পােকখাে], অদ্য [ওদো ], মন মােন্]।

আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: আকাশ (আকাশী, রাত রাতৃ, আলাে আলাে]। [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে (অ্যা]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। যেমন – জ্ঞান [গ্যাঁন], জ্ঞাত [গ্যাঁতাে], জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন]

ই, ঈ

[ই] ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বােঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: ই এবং ঈ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম: দিন [দিন], দীন (দিনো], বিনা [বিনা], বীণা (বিনা), হীন [হিনাে]।

উ, ঊ

[উ] ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বােঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: উ এবং উ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম: উচিত [উচিত্] উষা [উশা], উনিশ [উনিশ], ঊনবিংশ [উনােবিংঙশাে]।

ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে: ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্], কৃষক [ক্রিশক], দৃশ্য [দ্ৰিশশাে]।

এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়। এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]। এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা ], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

ঐ বর্ণের উচ্চারণ ওই: ঐকিক [ওইকি, তৈল তােইলাে]।

ও বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল], বােধ [বােধ]।

ঔ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ): ঔষধ [ওউশধ], মৌমাছি [মােমাছি]।

ব্যঞ্জনবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণগুলাে সাধারণত নিজ নিজ ধ্বনি অনুযায়ী উচ্চারিত হয়। যেমন – কলা, খর, বল, নাচ শব্দের ক, খ, ব, ন ইত্যাদি বর্ণের উচ্চারণ যথাক্রমে [ক], [খ], [ব], [ন] ইত্যাদি। তবে কয়েকটি ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ নিজ নিজ ধ্বনি থেকে আলাদা। এ ধরনের কয়েকটি বর্ণের উচ্চারণ নিয়ে আলােচনা করা হলাে।

ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনাে ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে আঁ-এর মতাে আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন]-এর মতাে উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়া], চঞ্চল [চনচল], গঞ্জ [গনজো]।

ণ বর্ণের উচ্চারণ : কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হােরিন]

ব বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে। শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন – ত্বক [ত], শ্বশুর [শাে] , স্বাধীন [শাধিন]। শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়: অশ্ব (অশশাে], বিশ্বাস [বিশশাশ], পক্ব [পককো]।

ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ আঁ-এর মতাে হয়, যেমন – শ্মশান [শঁশান], স্মরণ [শঁরােন্‌]। শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন – আত্মীয় [আততিও], পদ্ম (পদদোঁ] । কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় – এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন – যুগ্ম [জুগমাে], জন্ম [জনমো], গুল্ম [গুলমাে]।

য বর্ণের উচ্চারণ [জ্]: যদি [জোদি], যিনি [জিনি], সূর্য [শুরূজো]। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে এ পরিবর্তন হয়, যেমন – যেমন – ব্যতীত বেতিতাে], ব্যথা ব্যাথা]। শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের ও সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়, যেমন – উদ্যম [উদ্দ, গদ্য গােদো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা -এর কোনাে উচ্চারণ হয় না, যেমন – সন্ধ্যা [শােধা], স্বাস্থ্য শািসূথাে], অর্ঘ্য [অরুঘাে] ।

র বর্ণের উচ্চারণ [র]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে। শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়, যেমন – মাত্র মিত্রো ], বিদ্রোহ [বিদ্রোহাে], যাত্রী জোত্রি]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না, যেমন – কেন্দ্র [কেনৃদ্রো], শাস্ত্র শািসত্রো], বস্ত্র বিসূত্রো]।

শ, ষ, স

শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

  • শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
  • শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
  • ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
  • স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
  • স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

Related Question

View All
উত্তরঃ এমন মাধুর্যপূর্ণ আচরণ সকলকে মুগ্ধ করবেই।

প্রদত্ত বাক্যটিতে দুটি প্রধান অসঙ্গতি ছিল। প্রথমত, 'মুগ্ধ সৃষ্টি করা' একটি ভুল প্রয়োগ। 'মুগ্ধ' একটি বিশেষণ, যা সাধারণত 'করা' ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে 'মুগ্ধ করা' (আকৃষ্ট করা বা বিমোহিত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথবা 'মুগ্ধতা' (বিশেষ্য) পদটি 'সৃষ্টি করা' ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'মুগ্ধতা সৃষ্টি করা' (বিমোহিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি করা) অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। মূল বাক্যের ভাব অনুযায়ী 'সকলকে মুগ্ধ করবেই' হলো সবচেয়ে সঠিক ও সাবলীল প্রয়োগ। দ্বিতীয়ত, 'কোরবেই' শব্দটি অশুদ্ধ। এর সঠিক রূপ হলো 'করবেই' (প্রমিত বাংলা বানানে র-ফলা ছাড়া লেখা হয়)। এই পরিবর্তনগুলো বাক্যটিকে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ ও অর্থপূর্ণ করেছে।

Satt AI
Satt AI
11 hours ago
উত্তরঃ

এখনকার বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গন লোকারণ্য ভারাক্রান্ত মনে হয়। 

Sultan Amit
Sultan Amit
2 years ago
153
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews