স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate) হচ্ছে নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো বছরে প্রতি হাজারে জন্ম নেওয়া মোট সন্তান সংখ্যা। যেমন- ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থূল জন্মহার ২৭।
জনসংখ্যার তুলনায় কার্যকর ভূমির (উৎপাদনে ব্যবহৃত ভূমি) পরিমাণ কম থাকলে তাকে অতি-জনাকীর্ণতা বলে। যেমন- বাংলাদেশ একটি অতি জনাকীর্ণ দেশ।
অতি জনাকীর্ণতার ফলে মোট উৎপাদিত সম্পদ কমে যায়। ফলে মাথাপিছু উৎপাদন ও ভোগের পরিমাণ হ্রাস পায়।
মানচিত্রে 'P' চিহ্নিত অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্গত। এটি পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল অঞ্চল। উক্ত অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হওয়ার প্রাকৃতিক কারণগুলো হলো-
ভূপ্রকৃতি: দক্ষিণ এশিয়া হলো নদীবাহিত সমভূমি অঞ্চল। এরূপ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প প্রভৃতি গড়ে তোলা সহজ বলে মানুষ সেখানে বসবাস করতে চায়। ফলে উক্ত অঞ্চলটিতে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
জলবায়ু: জলবায়ুর প্রভাব জনবসতির বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে। অঞ্চলটিতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিদ্যমান। অঞ্চলটি সমভাবাপন্ন জলবায়ুর অন্তর্গত হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক
মৃত্তিকা: 'P' অঞ্চলের নদীবাহিত উর্বর মৃত্তিকা কৃষিকাজের উপযুক্ত হওয়ায় এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
পানি: মানচিত্রে উল্লিখিত 'P' অঞ্চলটিতে গলা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্রসহ অনেক নদী প্রবাহমান। সুপেয় পানির সহজলভ্যতার ফলে উক্ত অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
খনিজঃ খনিজ প্রাপ্তির ওপর জনসংখ্যার ঘনত নির্ভর করে। 'P' অঞ্চলটিতে আকরিক লৌহ (ভারত), প্রাকৃতিক গ্যাস (বাংলাদেশ) প্রভৃতি খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় বলে এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক।
উল্লিখিত প্রাকৃতিক কারণগুলোর প্রভাবে '' অঞ্চল তথা দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল অঞ্চলে পরিণত হয়েছে
চিত্রে উল্লিখিত 'ও 'R' অঞ্চল দুটি হচ্ছে যথাক্রমে রাশিয়ার সাইবেরিয়া এলাকা এবং কানাডা অঞ্চল। এ দুটি অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বে ব্যাপক তারতম্য লক্ষ করা যায়।
'Q' অঞ্চল তথা রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে সাইবেরিয়ার ভূপ্রকৃতি অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। অত্যধিক ঠাণ্ডা বায়ুপ্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে কৃষিকার্য হয় না বললেই চলে। আবার, এ অঞ্চল সমুদ্র থেকে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরের হিমশীতল বায়ু ও পর্বতের শৃঙ্গে জমাটবন্দ বরফের কারণে এ অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। হিমশীতল এ অনালে কিছু পশুপালন (রেইনডিয়ার) করা হয়। স্বাভাবিকভাবে এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুবই কম অর্থাৎ জনসংখ্যা প্রায় বিরল।
অন্যদিকে ভূপ্রকৃতিগত দিক থেকে 'R' অঞ্চল তথা কানাডার মধ্যভাগ ও দক্ষিণে সমতল ভূমি রয়েছে। এখানে কৃষিকাজ হয়। ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব লক্ষ করা যায়। এ অঞ্চল পূর্ব ও পশ্চিমে সমুদ্রের নিকটবর্তী। এখানে সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয়। এ বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকায় বৃষ্টিপাত হয়। ফলে কৃষিকার্য সম্পাদিত হয়। এছাড়া এ অঞ্চলের আবহাওয়া চরমভাবাপর নয়। অক্ষাংশগত অবস্থানের কারণে জলবায়ুগত যে প্রতিকূলতা (যেমন- তুষারপাত) অঞ্চলটির প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সে বাধা দূর করেছে। ফলে এখানে জনবসতির ঘনত্ব বেশি।
সুতরাং '' ও '' অঞ্চল দুটির অবস্থান বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, উল্লিখিত অঞ্চল দুটির মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। মূলত অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করায় জনসংখ্যা কম। পক্ষান্তরে, 'R' অঞ্চলে ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুকূল অবস্থা বিরাজ করায় জনঘনত্ব বেশি।
Related Question
View Allনিজের বাসস্থান ছেড়ে অন্য স্থানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রাম থেকে শহরে বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে) করাই অভিবাসন।
বলপূর্বক অভিগমনে কিছু মানুষ শরণার্থী হয়।
বলপূর্বক অভিগমনে যথা- গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক বৈষম্য বা যুদ্ধের কারণে যে সমস্ত ব্যক্তি কোনো স্থানে সাময়িকভাবে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং সুযোগমত স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকে তাদেরকে শরণার্থী বলে। যেমন- কক্সবাজারে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!