লোডশেডিং বলতে এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায়, যেখানে একটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ইচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক হ্রাস করা হয়। এটি ঘটে যখন উচ্চ চাহিদা, কম উৎপাদন বা সরঞ্জামের ব্যর্থতার মতো বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি হয়। পুরো গ্রিডের সম্পূর্ণ ব্লাকআউট এড়াতে পাওয়ার কোম্পানিগুলো দ্বারা সাধারণত শেষ অবলম্বন হিসেবে লোডশেডিং করা হয়। লোডশেডিং এর সময়কাল এবং ফ্রিকোয়েন্সি পরিস্থিতির তীব্রতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। লোডশেডিং এর সময়, নির্দিষ্ট এলাকা বা আশেপাশের এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, যা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। লোডশেডিং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে তাদের কাজ, শিক্ষা এবং গৃহস্থালির কাজে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যুতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে এমন শিল্প ও ব্যবসার জন্যও এর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। লোডশেডিং এর প্রভাব কমানোর জন্য শক্তির বিকল্প উৎস যেমন জেনারেটর, সোলার প্যানেল বা ব্যাকআপ ব্যাটারি থাকা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং লাইট বন্ধ করে এবং শক্তি সাশ্রয়ী ডিভাইস ব্যবহার করে দক্ষতার সাথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করাও অপরিহার্য।
বাংলাদেশের জন্য এখন নতুন কিছু সূচকের প্রয়োজন হয়ে গেছে। যেমন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) দুর্নীতি সূচক নিয়ে কাজ করে। তেমনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টার (পিপিআরসি) থেকে বাংলাদেশের জন্য 'হয়রানি সূচক' নামে একটি নতুন সূচক চালু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি বেশি ক্রিয়াশীল। ব্যাবসায়ী বা সাধারণ মানুষ সবার ক্ষেত্রেই এ হয়রানির বাস্তবতা দুর্নীতির চেয়েও আরো ভয়াবহ। এগুলো শুধু সদুপদেশ দিয়ে ঠিক হবে না।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। প্রথম পর্যায়ে তিনি গ্রামবাংলার গণমানুষের প্রবহমান জীবনধারা ও তার পটভূমি থেকে কাব্য রচনার উপাদান সংগ্রহ করেন, পরবর্তীতে তাঁর কবিতায় শহুরে জীবনের ছায়াপাত ঘটে। তিনি কবিতায় বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও লোকশব্দ ব্যবহারে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতিষ্ঠিত ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ প্রকাশিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে এ পত্রিকা বন্ধ করা হয় এবং সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয় । জেলে থাকাকালে তিনি মার্কসবাদী আদর্শকে পরিত্যাগ করে ইসলামি আদর্শ গ্রহণ করেন ।
আল মাহমুদ ১১ জুলাই, ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রকৃত নাম মির আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস।
বঙ্গবন্ধুর সুপারিশে তিনি শিল্পকলা একাডেমির অফিসার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক কর্ণফুলি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৮৬), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০) পান।
তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাত ১১:০৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
'লোক লোকান্তর' (১৯৬৩): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩): এটির প্রথমে নাম ছিলো 'অবগাহনের শব্দ'। পরে তিনি এটির নামকরণ করেন 'সোনালী কাবিন'। গ্রামীণ আবহে রচিত ৪৪টি কবিতার সংকলনে এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবি প্রতিভা নিশ্চিত হয়েছে। এতে প্রকাশ পেয়েছে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ও গ্রামীণ আবহ। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ 'গোল্ডেন কাবিন' নামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের অন্যতম কবিতা 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা'।
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' (১৯৮০): এ কিশোর সাহিত্যের কবিতা 'বোশেখ', 'একুশের কবিতা'। 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন।
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাসগুলো:
'ডাহুকী' (১৯৯২): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি অতৃপ্ত দাম্পত্য বিষয়ক কাহিনি। চরিত্র: আতিকা, কেরামত।
'কাবিলের বোন' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। পাঁচ পর্বে বিভক্ত এ উপন্যাসে পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। চরিত্র: কাবিল, রোকসানা।
'উপমহাদেশ' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম-সবকিছুরই প্রতিচ্ছবি এ উপন্যাস। চরিত্র: হাদী মীর, হামিদা, আনিস, নন্দিনী, সীমা।
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।' (নোলক)
নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল। ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর। (পাখির কাছে ফুলের কাছে)